• ২০২২ Jul ০২, শনিবার, ১৪২৯ আষাঢ় ১৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:০৭ পূর্বাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

ব্রয়লার মুরগির দাম কমলেও আবার বেড়েছে পেঁয়াজের দাম

  • প্রকাশিত ১০:০৭ পূর্বাহ্ন শনিবার, Jul ০২, ২০২২
ব্রয়লার মুরগির দাম কমলেও আবার বেড়েছে পেঁয়াজের দাম
ছবি সংগ্রহীত
এ,কে,সুমন- নিজস্ব প্রতিবেদক

#চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে মাছ ও সবজি#

নিত্যপণ্যের বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম কমলেও আবার বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। দাম বৃদ্ধির তালিকায় আরও আছে চাল, ভোজ্যতেল, আলু ও ডিম। কিছুটা কমেছে মসুর ডাল, কাঁচা মরিচের দাম। আটা ও চিনির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। চড়াদামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের মাছ ও শাক-সবজি। গরু ও খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে আগের দামে। পাকিস্তানি কক ও দেশী মুরগির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। মসলা জাতীয় পণ্য আদা ও রসুনের দাম বেড়েছে। শুক্রবার রাজধানীর কাওরান বাজার, ফকিরাপুল বাজার, কাপ্তান বাজার, মুগদা বড় বাজার ও যাত্রাবাড়ি বাজার ঘুরে নিত্যপণ্যের দরদামের এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

খুচরা বাজারে আবার বাড়তে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম। দাম বেড়ে প্রতিকেজি দেশী পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬৫ টাকায়। এছাড়া আমদানিকৃত ভারতীয় পেঁয়াজ ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। চলতি মাসের শুরুতে পেঁয়াজের দাম বাড়লে টিসিবি ট্রাকসেলে কার্যক্রমে এই পণ্যটির বিক্রি শুরু করে সরকার। এর পাশাপাশি বেসরকারীখাতে আমদানি উৎসাহিত করতে পেঁয়াজ আমদানির উপর আরোপিত ৫ শতাংশ শুল্ককর প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। এরপর বাজারে দাম কমতে শুরু করলেও এখন আবার বাড়তে শুরু করেছে। দাম কমাতে দ্রুত পেঁয়াজ আমদানির পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম কমে আসায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। টিসিবির তথ্যমতে, খুচরা বাজারে প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ১৬০-১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০-১৯৫ টাকা দিয়ে কিনতে হয়েছে ভোক্তাকে। ক্রেতারা বলছেন, ১৮০ টাকার নিচে ব্রয়লার মুরগি পাওয়া যাচ্ছে না।

তবে সোনালী ও কক জাতের এবং লেয়ার মুরগির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। খুচরায় সোনালি মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৩০ থেকে ২৪০ টাকায়। অপরদিকে প্রতি ডজন ডিম ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, ব্রয়লার মুরগির যোগান বেড়েছে। কাওরান বাজারের মুরগি বিক্রেতা বশির আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেন, মুরগির দাম আসলে কমেনি। কারণ, এক সপ্তাহ আগে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছিল ১৯০-১৯৫ টাকা কেজি। কিন্তু এ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে দাম ছিল ১৮০ টাকা। ওই অর্থে ব্রয়লার মুরগি আগের দামেই ফিরে এসেছে।

উল্টো সরবরাহ কমেছে ডিমের। কাপ্তানবাজারের ডিম বিক্রেতা নুরুল ইসলাম বলেন, ডিমের দাম গত কয়েক দিন ধরে বেড়েছে। যেদিন ফার্ম থেকে সরবরাহ বেশি থাকে তখন দাম একটু কমে, সরবরাহ কমে গেলে দাম কিছু বেড়ে যায়। তিনি জানান, গত সপ্তাহে প্রতি ১০০টি ডিম ৮৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছে। তিনদিন ধরে পাইকারিতে ১০০টি ডিম ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বর্ষা শেষে নদী-নালা খাল-বিলে পানি কমে আসতে শুরু করলেও মাছের দাম চড়া। নিষেধাজ্ঞার পর বাজারে ইলিশ উঠেছে খুবই কম, দামও একটু বেশি। হাওরাঞ্চলে এবার কম ধরা পড়ছে বলে এ সময়ে অন্যান্য বছরের তুলনায় দাম বেশি দেশি মাছের বলে জানিয়েছেন মাছ ব্যবসায়ীরা। তবে খামার বা ঘেরে চাষ হওয়া মাছের দাম কিছুটা কম। বাজারে যেসব ইলিশ আছে এর দামও বেশি বলে ক্রেতারা জানিয়েছেন। ঢাকার বাজারগুলোতে দেশি জাতের চিংড়ি ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া টেংরা ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, বোয়াল ৭৫০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, আইড়, চিতল, বেলে মাছ আকারভেদে ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে দেশি মাছের চেয়ে বাজারে চাষের মাছের দাম কিছুটা কম বলে জানান মাছ ব্যবসায়ীরা। চাষের চিংড়ি ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা, রুই ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা, টেংরা ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পাবদা ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা, শিং ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি আকারের ইলিশ এক হাজার থেকে ১২০০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। ছোট আকারেরগুলো বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়। সবজির বাড়লেও দাম কমেছে কাঁচা মরিচের। বাজারে কাঁচা মরিচ কেজি ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে চলতি মাসের শুরুতে কাঁচা মরিচের দাম হঠাৎ বেড়ে ২০০ টাকা কেজি হয়েছিল। এছাড়া বাজারে শীতকালীন শাক-সবজি উঠলেও চড়াদামে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দাম বেড়ে প্রতিকেজি সরু চাল ৬৫-৭২, মোটা স্বর্ণা ও চায়না ইরি চাল ৪৫-৫০, ভোজ্যতেল পাঁচ লিটার ৭২০-৭৫০, প্রতিহালি ডিম ৩৭-৪০, প্রতিকেজি আলু ২০-২৬, দাম কমে প্রতিকেজি মসুর ডাল ৯৫-১০০, রসুন দেশী ৬০-৯০, আদা ১৪০-১৮০, চিনি প্রতিকেজি ৮০-৮৫, আটা প্রতিকেজি প্যাকেট ৩৫-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে।

সর্বশেষ