• ২০২২ জানুয়ারী ১৭, সোমবার, ১৪২৮ মাঘ ৩
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:০১ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

আজ একজন সাদা মনের মানুষের শুভ জন্মদিন.. ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক উপ পুলিশ কমিশনার (ডিসি-ক্রাইম), Rapid Action Battalion (RAB)-13 এর সাবেক অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজিপি) এবং Rapid Action Battalion (RAB)-4 এর বর্তমান অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজিপি), মো. মোজাম্মেল হক, বিপিএম (বার),, পিপিএম-

  • প্রকাশিত ০৩:০১ পূর্বাহ্ন সোমবার, জানুয়ারী ১৭, ২০২২
আজ একজন সাদা মনের মানুষের শুভ জন্মদিন.. ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক উপ পুলিশ কমিশনার (ডিসি-ক্রাইম), Rapid Action Battalion (RAB)-13 এর সাবেক অধিনায়ক  (অতিরিক্ত ডিআইজিপি) এবং Rapid Action Battalion (RAB)-4 এর বর্তমান অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজিপি),  মো. মোজাম্মেল হক, বিপিএম (বার),, পিপিএম-
সংগৃহীত
ক্রাইম রিপোর্টার :এস এম রাহুল

একজন সাদা মনের মানুষের জীবনী কথা।  ৬৬  এর ৬ দফা, ৬৯ এর উত্তাল গণঅভ্যূথনের মাঝামাঝি সময় ১৯৬৮ সালের ১৫ই জানুয়ারি পাবনা জেলার ভাঙ্গুড়া থানার কাশিপুর গ্রামে কুয়াশার চাদরে ঘেরা অতি প্রত্যুশে আমার জন্ম। সেসময় ছোটখাটো শহরে বিদ্যুৎ বাতি ছিল না। কাজেই কাশিপুরের ন্যায় প্রত্যন্ত গ্রামে বিদ্যুৎ থাকার কথা নয়। আমি আমার মা-বাবার প্রথম সন্তান। জন্মের পরে প্রথানুযায়ী আমার ধর্মপ্রাণ নানা আজান দিয়েছিলেন বলে শুনেছি। সে সময়ে মোবাইল ফোন ছিল না, গ্রামীণ জনপদে টেলিফোনের অস্তিত্বও ছিল না। কাজেই আমার জন্ম স্থানের মাত্র ১১ কিলোমিটার দূরত্বে  আমার বাবা এবং দাদীর নিকট খবর পৌছেছিল ৪ ঘন্টা পরে। আমার ছোট বেলার অনেক মধুর স্মৃতি রয়েছে আমার জন্মস্থান কাশিপুর গ্রাম ঘিরে। তবে আমি বেড়ে উঠেছি আমার প্রিয় গ্রাম চাটমোহর থানার সাহাপুরে অবারিত প্রকৃতির মাঝে। গ্রামীণ জনপদে নিন্ম মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে আমাদের পরিবারে জন্মদিন পালনের কোন রেওয়াজ ছিল না। আমাদের পরিবারে মা-বাবা, ছোট ভাই, বোন এবং দাদী ছিলেন অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমার বাবার বয়স যখন ৪০ দিন তখন আমার দাদী বিধবা হয়েছিলেন। তার একমাত্র পুত্র সন্তানকে নিয়ে জীবন যুদ্ধে জয়ী হওয়ার চেষ্টা করেছেন আজীবন। বাবা-মা, দাদী, ছোট ভাই-বোনদের মাঝে পাওয়া-নাপাওয়া, খুন-সুটি, দুঃখ-বদনা, আনন্দ-উৎসবে জীবনের এতগুলো শীত বসন্ত, বর্ষা কখন কেটে গেল জানিনা। জীবন যুদ্ধের এপর্যায়ে অনেক কিছু যোগ হয়েছে। কিন্তু বিয়োগফলও কম না। আজ আমি পরিবারে প্রধান। যে পরিবারের প্রধান ছিল আমার বাবা এবং দাদী। সঙ্গে ছিল আমার ভাই বোন। মাত্র দুই বছরের ছোট ভাই মোকারব অসময়ে অজানা দেশে পারি জমিয়েছেন ১৯৯০ সালে। যে বাবা প্রতিদিন সন্তানের পথ পানে চেয়ে থাকত তার কন্ঠস্বর হারিয়ে গেছে ২০০৬ সালে। যে দাদীর অপত্য সেহে ছোট বেলায় বেড়ে উঠেছি তিনি দূর অজানা দেশে পারি জমিয়েছেন সবার আগে। সময় গড়িয়েছে ঘড়ির কাটা ক্রমাগতভাবে এগুচ্ছে। চন্দ্র সূর্যের পরিক্রমায় দিনরাত্রি ক্রমাগতভাবে আলিঙ্গন করছে নতুনকে। নতুন বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছি প্রিয়তমা স্ত্রী সুলতানা হক কণার সঙ্গে। মার পাশাপাশি শ্বশুড় শ্বাশুড়ী এবং একমাত্র শ্যালকের ভালবাসাও পেয়েছি সকল সময়। আমার অবিভাবক সম শিক্ষক এবং প্রিয় শ্বশুর আব্বাও আমাদের ছেড়ে গেছেন চিরতরে। আমাদের ভালবাসার অনিন্দ-সুন্দর তিনটি উপহার মৌমি, মাহি, কিংশুক। এদের সংগে যোগ হযেছে আরেক সন্তান অংকন। দেখতে দেখতে তারাও বড় হয়ে যাচ্ছে। পিছন ফিরে তাকালে বর্তমান জীবনের জন্য পরম করুণাময় আল্লাহর নিকট কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। নিম্ম মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম গ্রামের কাঁদামাটিতে বেড়ে উঠা এই আমি জীবনে অনেক পেয়েছি। মাঝে ১৫ তম বিসিএসএ পুলিশ ক্যাডারে Chance পেয়ে যোগদান না করতে পারার বেদনাবোধ হয়তোবা এখনো কিছুটা হৃদয়ে রক্তক্ষরণ করায় তবে যা পেয়েছি তা সত্যি আমার জীবনের পরম পাওয়া। চাকুরী জীবনের শুরুতে প্রায় সাড়ে ৪ বছর প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরে সংযুক্ত থেকে আক্কেলপুর, জয়পুরহাট, ঈশ্বরদী এবং পাবনায় অবলা গৃহপালিত প্রাণীর চিকিৎসা সেবা দিয়েছি। ১৮ তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে যোগদান করার পরে ব্যাচমেটদের সঙ্গে ভ্রাতৃসম মায়ায় জড়িয়েছি। তারা আমাকে একান্ত আপন করে নিয়েছেন।সার্কেল এএসপি পঞ্চগড়, সিনিয়র এএসপি রাজশাহী সদর সার্কেল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার যথাক্রমে নাটোর, রাজশাহী, কুমিল্লা, ঢাকা জেলা, জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে সুদান, পুলিশ সুপার হিসেবে জয়পুরহাট, বগুড়া, নওগাঁ জেলা এবং অধিনায়ক RAB হিসেবে রংপুর বিভাগ, ঢাকা মহানগরীর মীরপুর, সাভার, আশুলিয়া, ধামরাই, মানিকগঞ্জ এলাকায় আইনশৃংখলা নিয়ন্ত্রণ করতে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। পুলিশী সেবা দিতে গিয়ে ৪ বার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেয়েছি। তবে আইনশৃংখলা নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে গণ মানুষের যে ভালবাসা পেয়েছি তার ৠণ আমি এক জীবনে কোনদিন পরিশোধ করতে পারবোনা। আজকের এই দিনে গণমানুষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই এবং মহান রাব্বুল আলামীনের শুকরিয়া আদায় করছি। এ প্রসঙ্গে আমি রজনীকান্ত সেনের নিম্নের গানটি সবসময় মনে রাখি।


অকৃতি অধম ব’লেও তো কিছু

কম করে মোরে দাওনি;

যা দিয়েছ, তারি অযোগ্য ভাবিয়া

কেড়েও তা কিছু নাওনি।।

তব আশীষ কুসুম ধরি নাই শিরে,

পায়ে দলে গেছি, চাহি নাই ফিরে;

তবু দয়া করে কেবলি দিয়েছ,

প্রতিদান কিছু চাওনি।।

আমি ছুটিয়া বেড়াই, জানিনা কি আশে,

সুধা পান করে মরি গো পিয়াসে;

তবু যাহা চাই সকলি পেয়েছি;

তুমি তো কিছুই পাওনি।।

আমায় রাখিতে চাও গো, বাঁধনে আঁটিয়া,

শতবার যাই বাঁধন কাটিয়া।

ভাবি ছেড়ে গেছ, ফিরে চেয়ে দেখি,

এক পা-ও ছেড়ে যাওনি। 


জীবন যুদ্ধের পট পরিবর্তনে চরাই উতরাই পেরিয়ে পুলিশ বিভাগের এলিট ইউনিট পরিচালক RAB হিসাবে সিনিয়র অফিসার, প্রিয় সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশের শত সহস্র মানুষে ভালবাসায় আমি আবেগাপ্লুত।। ছেলেমেয়ে এবং স্ত্রী নিয়ে আমার পরিবারটি  ইডেন গার্ডেনের ন্যায় শান্তির  আলয়। কালের পরিক্রমায় সন্তানদের জন্ম মুহুর্তগুলো এখন জীবনের শ্রেষ্ঠ মুহুর্ত। তাই প্রতি বছরই সন্তানদের জন্মদিনগুলো অনারম্বরভাবে হলেও পালন করার চেষ্টা করি। ছোট বেলায় কিংবা কিশোর বেলায় কিংবা যৌবনে কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে আমার জন্মদিন পালন করা হয়নি। আরম্বর বা অনারম্বর যেটাই হোক আমার জন্মদিন উপলক্ষে পরিবার বা আত্মীয় পরিজনের সামনে জন্মদিনের কেক কাটাকে আমার নিকট বাড়াবাড়ি এবং আদিখ্যেতা বলেই মনে হয়। তবে সন্তানরা বড় হয়ে ওঠায় প্রতি জন্মদিনের প্রারম্ভে আমাকে সুখময় বিব্রতকর পরিস্থিতির সন্মুখিত হতে হয়। ১৫ই জানুয়ারি পূর্ব রাত থেকেই প্রিয় সন্তান  মৌমি, মাহি, অংকন, কিংশুক এবং প্রিয়তমা স্ত্রীর মাঝে গুঞ্জন শুনছি জন্মদিনের প্রথম প্রহরে আমার জন্য ফুলের শুভেচ্ছা ডালী নিয়ে অপেক্ষার প্রহর গুনছে। গত ৬ বছর মৌমি মেডিকেল কলেজের কঠিণ শিক্ষাবাতায়নে এমবিবিএস ডিগ্রী নেয়ার জন্য বিদ্যা সাধনার মধ্যে থাকায় আমার জন্মদিনের প্রারম্ভে শুভেচ্ছা জানাতে না পেরে কষ্ট পেতো। আলহামদুলীল্লাহ মৌমি এমবিবিএস পাশ করে ইন্টার্ণশীপ শেষ করে বর্তমানে আমাদের সঙ্গেই আছে। বিশেষ করে বহুবছর পরে আজকের এই বিশেষ দিনে আমার গর্ভধারিণী মা আমার পাশে আছেন। আমি এ শুভক্ষণ আশা-নিরাশার দোলাচালে অসহিষ্ণু এবং জাতীয় জীবনে করোনা ক্রান্তি লগ্ন পেরিয়ে সুখ ও শান্তির সুবাতাস প্রত্যাসা করি। দেশের সকল মানুষের মধ্যে বিভেদের দেয়াল ভেঙ্গে ঐক্যের সেতু বন্ধন গড়ে উঠুক। সকল ধরনের হিংসা, বিদ্বেষ ভুলে একতাবদ্ধ জাতিরূপে সুখী সমৃব্ধ বাংলাদেশের সোনালী সূর্য্যদোয়ের প্রত্যাশা করছি। আগামী দিনগুলোতে আমার মা, স্ত্রী, সন্তান, ভাই, বোন, শ্যালক, শ্যালক বধু, শ্বাশুড়ীসহ সকল আত্মীয় স্বজন এবং দেশ এবং দেশের বাইরে থাক অগনিত শুভাকাংখীদের  মঙ্গল কামনা করছি। কালের স্রোতে হারিয়ে যাওয়া দাদী, বাবা, শ্বশুর এবং ছোট ভাইয়ের পারলৌকিক মঙ্গল কামনা করছি। আমার সকল বন্ধু-বান্ধব শুভানুধ্যায়ী, পাড়া প্রতিবেশী,  আত্মীয় স্বজন,  স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপ্রিয় সকল সহপাঠী, আমার সন্মানিত সকল শিক্ষক মন্ডলী, পুলিশ এবং RAB পরিবারের সুপ্রিয় সিনিয় জুনিয়র সহকর্মী সদস্যবৃন্দ , সকল ফেসবুক বন্ধু, দেশবাসীর সার্বিক সুখ, শান্তি, এবং সমৃদ্ধি কামনা করছি। ভাল থাকুক প্রিয় জন্মভূমি পাবনা। ভাল থাকুক আমার বর্তমান এবং পূর্ববর্তী কর্মস্থল রংপুর বিভাগ, কুষ্টিয়া, পন্চগড়, রাজশাহী, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, কুমিল্লা, ঢাকা, মানিকগঞ্জ, জয়পুরহাট, নওগাঁ এবং বগুড়া জেলার গণমানুষ। প্রতিবার জন্মদিনে অনেক অতীত স্মৃতির পাশাপাশি আমি দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জীবনের গ্রাফ নিয়ে ভাবি। কেন জানি আমার কান্না পায় কারণ দুঃখজনক হলেও চিরসত্য বয়স বাড়ার সংগে সংগে সরকারী চাকুরীসীমা ক্রমাগতভাবে কমে অবসরে যাওয়ার দিনক্ষণ এগিয়ে আসার পাশাপাশি মৃত্যুর হাতছানি বা চিরবিদায়ের ক্ষণ এগিয়ে আসছে। তারপরও জন্ম মৃত্যু ভাঙা গড়া নিয়ে মানব সভ্যতা এগিয়ে যাবে। পুরাতনরা বিদায় নিবে নুতনরা স্থান করে নিবে এটাইতো কঠিন বাস্তবতা। এবারের জন্মদিনের প্রাক্কালে মহান আল্লাহ সমীপে প্রার্থনা হে রাব্বুল আলামীন করোনা নামক মহামারী সহ সকল প্রকার আসমানি এবং জমিনি বালা মুসিবত থেকে আমাদের হেফাজত করো। আমরা যেন দলমত, জাতি, ধর্ম, বর্ন নির্বিশেষে সকলে মিলে শ্রেণী বৈষম্যহীন উন্নত সমৃদ্ধ এবং নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি। জন্মদিনে মহান সৃষ্টিকর্তা মহিয়ান গরিয়ান রাব্বুল আলামীনের নিকট আকুল প্রার্থনা হে মহা ক্ষমাশীল দয়ার সাগর যে কটা দিন বেঁচে আছি তুমি তোমার অপার করুনার মহিমায় আমাকে সুস্থ শরীরে এবং সহি সালামতে রেখো। জীবনের অবশিষ্ট দিনগুলো আমি যেন মানব কল্যাণে কাজ করে যেতে পারি। তোমার প্রার্থনায় সার্বক্ষণিক সংযুক্ত থেকে ইমান এবং আমল নিয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে পারি। আমীন।

সর্বশেষ