• ২০২২ অক্টোবর ০৩, সোমবার, ১৪২৯ আশ্বিন ১৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:১০ পূর্বাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

বিজ্ঞাপন দিয়ে ডাক্তারি সনদ বিক্রি।

  • প্রকাশিত ১১:১০ পূর্বাহ্ন সোমবার, অক্টোবর ০৩, ২০২২
বিজ্ঞাপন দিয়ে ডাক্তারি সনদ বিক্রি।
ছবি সংগ্রহীত
এ,কে,সুমন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

পাঁচ লাখ টাকা দিলেই একরাতে হওয়া যাচ্ছে এমবিবিএস ডাক্তার। জাতীয় দৈনিকে রীতিমতো বিজ্ঞাপন দিয়েই চলছে ভুয়া ডাক্তারি সনদ বিক্রির রমরমা ব্যবসা। এসব ভুয়া সনদে এ পর্যন্ত ডাক্তার হয়েছে অন্তত ৬ হাজার ব্যক্তি। এদের মধ্যে অনেকের আবার রয়েছে বিএমডিসির‍ নিবন্ধনও।

নানা পরীক্ষা-প্রতিযোগিতা আর কাঠখড় পুড়িয়ে চিকিৎসক হতে হয় একজন শিক্ষার্থীকে। কিন্তু জাতীয় দৈনিকের এই বিজ্ঞাপন বলছে অন্য কথা। টাকার বিনিময়ে অনায়াসেই একরাতে এমবিবিএস চিকিৎসক বানিয়ে দিচ্ছে তারা। সঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে রেজিস্ট্রেশনও।

ভুয়া সনদ কেনার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে টেলিফোনে বিসিএমডিসির চেয়ারম্যান এম এন হক জানালেন, ২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে মিলবে বিদেশি প্রতিষ্ঠান আর ৫ লাখ দিলেই মিলবে দেশি প্রতিষ্ঠানের সনদ।

সনদ কেনার উদ্দেশ্যে রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় গিয়ে দেখা যায় একটি বাণিজ্যিক ভবনের সপ্তম তলায় প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির অফিস। সেখানে কিছু চেয়ার-টেবিল আর ৩ কর্মচারী ছাড়া আর কেউ নেই। শান্তিনগরে ছোট্ট এক দোকান ঘরে খোলা হয়েছে এ অফিসের শাখা। সেখানে মোয়াজ্জেম হোসেন নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে সনদ কিনতে চাওয়ার বিষয়ে কথা বলে জানা যায় পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পর্কে।

মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, সনদ কিনতে মোট খরচ হবে ৫ লাখ। এক লাখ দিলে পর দিনেই মিলবে এমবিবিএস পাসের সার্টিফিকেট। সঙ্গে আরো ৬০ হাজার টাকায় পাওয়া যাবে বিএমডিসির নিবন্ধন। ভুয়া সনদ ক্রয়ের অগ্রিম টাকা নেন এম এন হকের এই সহযোগী।

টাকা দেয়ার পরের দিনই শান্তিনগরের অফিস থেকে পাওয়া যায় জাল এমবিবিএস পাসের সনদ।

এরপরই তৈরি হয়ে যায় এমবিবিএস ডাক্তার পরিচয়ে ভিজিটিং কার্ড। যেখানে রয়েছে আরো কিছু ডাক্তারি ডিগ্রির নাম। সেই ভিজিটিং কার্ড দিয়ে মহাখালীর একটি ফার্মেসিতে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ হিসেবে রোগী দেখার প্রস্তাবে পাওয়া যায় কর্তৃপক্ষের সাড়া।

শিক্ষা, অভিজ্ঞতা, প্রতিষ্ঠান কোনো কিছু ছাড়াই কত সহজে বনে যাওয়া যাচ্ছে এমবিবিএস ডাক্তার। নোয়াখালীর শিব প্রসাদ শর্মা প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি থেকে সনদ কিনে হয়েছেন এমবিবিএস ডাক্তার। তিনি এখন এমবিবিএস থেকে ডিএমএফ হয়ে গেছেন।

ডা. এ কে তুষার নামে ডাক্তারি করেন আহমেদ কামাল তুষার। এমবিবিএস ছাড়াও ডিগ্রি আছে তার ৫টি। তিনি দিচ্ছেন ৮টি রোগের চিকিৎসা। সঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছেন যেকোনো ধরনের অস্ত্রপচার। তার রয়েছে বিএমডিসি নিবন্ধন নম্বরও। হৃদরোগের সমস্যা নিয়ে তার চেম্বারে হাজির হলে তৎক্ষণাত তিনি করান ইসিজি। বিএমডিসির ওয়েবসাইটে গিয়েও পাওয়া যায় তার নাম।

তুষারের সনদ বলছে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নীল রতন সরকারি মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেছেন তিনি। সেশন ১৯৯৭-৯৮। কিন্তু ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিকেল কাউন্সিলে মেইল করলে তারা জানায়, সনদে থাকা নিবন্ধন নম্বরটি তুষারের নয়, অন্য এক চিকিৎসকের। তার মতো আরো ২৮ ভুয়া চিকিৎসকে নিবন্ধন নম্বর দিয়েছে বিএমডিসি।

দেশে সরকারি, বেসরকারি ও অন্যান্য মিলিয়ে মেডিকেল কলেজ ১১৫ ও বিশ্ববিদ্যালয় ৬টি। বাংলাদেশে এর বাইরে মেডিকেলে পড়ার কোনো সুযোগই নেই।

সর্বশেষ