• ২০২২ Jul ০২, শনিবার, ১৪২৯ আষাঢ় ১৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:০৭ পূর্বাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

শ্রীলঙ্কার নতুন প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে

  • প্রকাশিত ১১:০৭ পূর্বাহ্ন শনিবার, Jul ০২, ২০২২
শ্রীলঙ্কার নতুন প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে
ছবি সংগ্রহীত
এ,কে,সুমন- নিজস্ব প্রতিবেদক

শ্রীলঙ্কার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টি-ইউএনপির নেতা রনিল বিক্রমাসিংহে। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় প্রেসিডেন্ট গোতাবায়ের সামনে শপথ নেন তিনি। এ নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন ৭৩ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদ। এদিকে মাহিন্দা রাজাপাকসে, ছেলে এবং তার দলের ১৫ সদস্যের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত।

শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক সঙ্কটকে কেন্দ্র করে গণবিক্ষোভের মুখে গত সোমবার প্রধানমন্ত্রীত্ব থেকে পদত্যাগ করেন মাহিন্দা রাজাপাকসে। এরপর থেকে গেল দুই দিন সঙ্কটপূর্ণ দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব কে নেবেন তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত এই গুরু দায়িত্ব নিলেন ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির নেতা রনিল বিক্রমাসিংহে।

চলমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবিলয়ায় চলতি সপ্তাহেই নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের ঘোষণা দেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকশে। বুধবারের ঐ ভাষণের আগে ও পরে রনিল বিক্রমসিংহের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেন প্রেসিডেন্ট। এরপর থেকেই নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রনিল বিক্রমাসিংহের নাম আলোচনায় আসে।

জানা গেছে, শপথ গ্রহণ করে তিনি কলম্বোর একটি মন্দিরে যাবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি তার কার্যক্রম শুরু করবেন। এ নিয়ে রেকর্ড ষষ্ঠ বারের মতো তিনি দায়িত্বে স্থলাভিষিক্ত হলেন।

১৯৪৯ সালের ২৪ মার্চ জন্ম নেয়া রনিল বিক্রমাসিংহে বর্তমানে দলের মনোনীত সংসদ সদস্য। রাজনৈতিক পরিবারের জন্ম নেয়া রনিল সিলন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি নিয়েছেন।

গেল শতাব্দির সত্তরের দশকের মাঝামাঝিতে শ্রীলঙ্কার পুরোনো রাজনৈতিক দল ইউএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৭৭ সালে প্রথমবারের মতো দেশটির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন রনিল বিক্রমাসিংহে। ১৯৯৩ সালে প্রথমবারের মত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি। ১৯৯৪ সালের পর থেকে তিনি ইউএনপির নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

বুধবার জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে বলেছেন, তিনিই নতুন প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগ করবেন। এর পাশাপাশি সংবিধানের ১৯তম সংশোধন চালু করা হবে। পার্লামেন্টকে আরো ক্ষমতা দেয়া হবে।

এদিকে মাহিন্দা রাজাপাকসে, তার ছেলে এবং তার দলের ১৫ সদস্যকে দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে শ্রীলংকার আদালত।

প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিলেও দেশটির চলমান অচলাবস্থা শিগগিরই কাটছে না বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ ছাড়া জাতীয় ঐক্যের সরকারে যোগ না দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিরোধী দলগুলো।

গোতাবায়াকে ক্ষমতাচ্যুত করতে কারফিউ ভেঙ্গে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে জনগণ। সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে, আলোচনার মাধ্যমে সঙ্কট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব।

করোনার ধাক্কার পাশাপাশি সরকারের কিছু ভুল সিদ্ধান্তে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক দুর্দশার মুখে পড়ে শ্রীলঙ্কা। কয়েক মাস ধরে খাবার, জ্বালানি ও ওষুধের তীব্র সংকটে পড়েছে দেশটি। ব্যাপকভাবে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, চলছে বিদ্যুৎ-বিভ্রাট। ঋণের চাপ আর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকটে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করে। এ পরিস্থিতিতে সরকার পতনের দাবিতে এক মাসের বেশি সময় ধরে দেশটিতে বিক্ষোভ চলছে।

সর্বশেষ