• ২০২২ অক্টোবর ০৩, সোমবার, ১৪২৯ আশ্বিন ১৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:১০ পূর্বাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

ডান চোখের আলো তো গেছেই, এখন চোখটিই হারাতে বসেছেন সেই শিক্ষিকা শিরিনা আখতার

  • প্রকাশিত ১০:১০ পূর্বাহ্ন সোমবার, অক্টোবর ০৩, ২০২২
ডান চোখের আলো তো গেছেই, এখন চোখটিই হারাতে বসেছেন সেই শিক্ষিকা শিরিনা আখতার
চোখ হারানো শিক্ষিকা শিরিনা আখতার
মোঃ আব্দুল কাদের, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ

০৯.০৮.২০২২

ক্লাস চলাকালিন সময়ে বাঁশে বাঁধা ফ্যানের জিআই তার ছিঁড়ে ফ্যানের পাখার আঘাতে গুরুতর আহত শিক্ষিকা শিরিনা আকতারকে ছয়দিন  মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ার পর রবিবার (৭ আগস্ট) ঢাকায় রেফার্ড করেছে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সোমবার (৮ আগস্ট) তাঁকে ঢাকার ইস্পাহানী ইসলামিয়া আই ইনিষ্টিটিউট এন্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে ডাঃ মিশকাত মনজিমা মৌরী, ডাঃ রেজওয়ান ও ডাঃ অসীম কুমার পাল তাঁকে দেখেছেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। চোখের রেটিনা ও কর্ণিয়ার বি-স্ক্যান রিপোর্ট দেখে ডাঃ অসীম কুমার পাল বলেছেন, ডান চোখের আলো তো থাকবেই না, চোখটা বাঁচবে কি-না সেটারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে টাইম বাংলা নিউজ.কম-কে এমনটিি জানিয়েছেন ওই শিক্ষিকার স্বামী আলমগীর কবীর বাবলু। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সরকারি দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের অব্যবস্থাপনা এবং নিরাপদ কর্মস্থল না হওয়ায় পাঠদানরত অবস্থায় আহত হন আমার স্ত্রী। অথচ আহত হওয়ার ছয়দিন পর্যন্ত তাঁকে দেখতে আসেনি শিক্ষা প্রশাসন কিংবা উপজেলা প্রশাসনের কোন কর্মকর্তা।

দৈনিক যুগান্তর, দৈনিক অধিকার ও দৈনিক আনন্দ বাজার পত্রিকাসহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় এবং অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় ঘটনার ৬দিন পর শনিবার (৬ আগস্ট) সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসার এ কে এম তৌফিকুর রহমান, উলিপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার নাদির উজ্জামান ও উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার জাহিদুল ইসলাম ফারুক শিক্ষিকা শিরিনা আকতারকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দেখতে গিয়ে দায়সারা দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে শিরিনার চিকিৎসা, থাকা-খাওয়া ও যাতায়াত বাবদ ধার-দেনা এবং ঋণে আমি জর্জরিত হয়েছি। যেহেতু সরকারী দায়িত্ব পালনকালে দূর্ঘটনাটি ঘটেছে সেহেতু সরকারের সার্ভেন্ট হিসেবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সরকারি খরচে বিদেশে নিয়ে গিয়ে তাঁর উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, চক্ষু প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা করা, বাড়ির নিকটবর্তী কোন স্কুলে (কুড়িগ্রাম সদরে) তাঁকে বদলির ব্যবস্থা করাসহ আহত শিক্ষিকা ও তাঁর ৬ বছরের শিশু সন্তানের ভবিষ্যৎ ভাবনায় ক্ষতিপূরণ দাবী করেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ১লা আগস্ট কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গোড়াই দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালীন সময়ে এ মর্মান্তিক দূর্ঘটনাটি ঘটে। স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, দুর্বলভাবে ফ্যান বাঁশের সাথে বেঁধে রাখায় ঘটনাটি ঘটেছে। এতে স্কুলের সাধারণ শিক্ষার্থীরা রক্ষা পেলেও শিক্ষিকা শিরিনা আকতার তার চোখের আলো হারিয়ে এখন চোখ হারানোর অপেক্ষায় অসহ্য যন্ত্রনায় হাসপাতালের বিছানায় ছটফট করছেন।

জানতে চাইলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শহিদুল ইসলাম জানান, আমি ডিসি স্যারের সাথে কথা বলেছি, সকলের সাথে কথা বলছি। তিনি অফিসিয়ালি ও নিজেরা মিলে আহত শিক্ষিকা শিরিনা আখতারকে সর্বাত্মক সহযোগীতার আশ্বাস দেন।

সর্বশেষ