• ২০২২ ডিসেম্বর ০১, বৃহস্পতিবার, ১৪২৯ অগ্রহায়ণ ১৭
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:১২ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

ছয় বছর আগে দুর্ঘটনায় পুড়ে যাওয়া ইঞ্জিন সচল করল দেশীয় প্রকৌশলীরা

  • প্রকাশিত ০৮:১২ অপরাহ্ন বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ০১, ২০২২
ছয় বছর আগে দুর্ঘটনায় পুড়ে যাওয়া ইঞ্জিন সচল করল দেশীয় প্রকৌশলীরা
ছবি সংগ্রহীত
এ,কে,সুমন- নিজস্ব প্রতিবেদক

ছয় বছর আগে দুর্ঘটনায় পুড়ে অচল হয়ে পড়েছিল রেলের একটি নতুন ইঞ্জিন। সেটি এখন ছুটছে নতুন ইঞ্জিনের সমান গতিতে। দেশীয় প্রযুক্তিতে দেশের প্রকৌশলীরাই এটি সচল করেছেন তিন কোটি টাকা খরচে। অথচ এই মানের একটি রেল ইঞ্জিন কিনতে এখন লাগবে প্রায় ৩৩ কোটি টাকা।

রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, কোনো বড় মেরামত ছাড়াই এই রেল ইঞ্জিন অনায়াসে চালানো যাবে আরও অন্তত ১২ বছর। দক্ষিণ কোরিয়ার তৈরি ২৯৩৩ নম্বর ইঞ্জিনটি বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে যুক্ত হয় ২০১৩ সালে। ২০১৬ সালের ৭ অক্টোবর হবিগঞ্জের নোয়াপাড়ায় লাইনচ্যুত হয় এটি। জ্বালানি ট্যাংকে আগুন লেগে পুড়ে যায় ৩৩ কোটি টাকা দামে কেনা ইঞ্জিনটি। এটি আর চালানোর মতো অবস্থায় ছিল না।

এজন্য লোহা-লক্কড় হিসাবে ইঞ্জিনটি বিক্রির কথাও ভাবা হচ্ছিল। কিন্তু কয়েকজন প্রকৌশলীর আগ্রহে ২০১৯ সালে ইঞ্জিনটি নেওয়া হয় দিনাজপুরের পার্বতীপুরে কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানায়। শুরু হয় অচল ইঞ্জিনকে সচলের জটিল কাজ।

রেলওয়ের প্রধান যন্ত্র প্রকৌশলী (পশ্চিম) মুহাম্মদ কুদরত-ই-খুদা জানান, আগুনে ইঞ্জিনের ভেতরের সব যন্ত্রাংশ পুড়ে যায়। এ কারণে আমরা এটিকে স্ক্র্যাপ হিসাবেই বিক্রির চিন্তাভাবনা করেছিলাম।

তিনি আরও বলেন, প্রায় এক বছরের প্রচেষ্টায় ইঞ্জিনটি সচল হয়। কিছু যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আনা হয়। পুরনো যন্ত্রংশ ঠিক করা হয়। সব মিলিয়ে বিপুল অংকের টাকা সাশ্রয় হয়। এক বছরের পরিশ্রমে ইঞ্জিনটি সচল করা হয়। মেরামতে কিছু দেশীয় আর কিছু বিদেশি যন্ত্রাংশ ব্যবহার করতে হয়।

২০২০ সালের মাঝামাঝি সেই ইঞ্জিনটি রেলওয়ের বহরে ফিরে আসে। করোনার রেশ কমে আসায় রেলওয়ে চলছে আগের ছন্দে। সেই ছন্দে চলছে ৭৬ টন ওজনের ২৯৩৩ নম্বর ইঞ্জিনটিও।

রেলওয়ের লোকো মাস্টার খালেদুজ্জামান খান বলেন, একটি নতুন ইঞ্জিন যেভাবে চলছে মেরামত করা ইঞ্জিনটিও সেইভাবে চলছে। নির্ধারণ করে দেওয়া ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার বেগে মেরামত করা ইঞ্জিনটিও চলছে সমান গতিতে।

রেল বলছে, দেশীয় কারখানাই এখন রেলের ইঞ্জিন সংযোজনে সক্ষম। আর এই কাজটি করা শুরু হলে বাঁচবে বিপুল অংকের বৈদেশিক মুদ্রা।

সর্বশেষ