• ২০২২ ডিসেম্বর ০১, বৃহস্পতিবার, ১৪২৯ অগ্রহায়ণ ১৭
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৬:১২ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

কুড়িগ্রাম খামার বাড়ির প্রায় অর্ধকোটি টাকা দামের জেনারেটর ও নথিপত্র গায়েব

  • প্রকাশিত ০৬:১২ অপরাহ্ন বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ০১, ২০২২
কুড়িগ্রাম খামার বাড়ির প্রায় অর্ধকোটি টাকা দামের জেনারেটর ও নথিপত্র গায়েব
চুরি হওয়ার আগের ছবি, সংগৃহীত
মোঃ আব্দুল কাদের, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ

২৯.০৯.২০২২

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ক্যাম্পাসের ভিতর থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা দামের উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ জেনারেটরসহ সরকারি মুল্যবান নথিপত্র চুরি ও আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। লিখিত অভিযোগ দায়েরের পরেও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তৎপর কিছু অসাধু কর্মকর্তা। এ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুর রশিদের মেয়াদকালে অফিসের ক্যাশিয়ার আব্দুল আজিজ ও গাড়ি চালক জহুরুল হকের যোগসাজশে অফিসের উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন জেনারেটর চুরি ও অফিসের মূল্যবান নথিপত্র গায়েব করা হয়। ক্যাশিয়ার আব্দুল আজিজ ও গাড়ি চালক জহুরুল হক ছাড়াও স্টোর কিপার মমিনুল ইসলাম, সিকিউরিটি গার্ড ও আউটসোর্সিং এর কর্মচারী চুরির ঘটনায় জড়িত বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকে 'আনন্দ বাজার'কে জানিয়েছেন। তারা জানান, উপ-পরিচালক আব্দুর রশিদ অবসর গ্রহণের আগ-মুহুর্তে তাঁর পছন্দের কতিপয় অসাধু কর্মচারীর মাধ্যমে জেনারেটর চুরি করে আত্মসাত করেন এবং প্রমাণ লোপাটের জন্য জেনারেটর সংশ্লিষ্ট সকল কাগজ-পত্র সরিয়ে ফেলেন। তিনি অবসর গ্রহণ করলে বিষয়টি একেবারে চাপা পড়ে যায়। কিন্তু পরবর্তীতে জেনারেটর দেখতে না পাওয়ায় বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন শুরু হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে কয়েকজন কৃষক উপ-পরিচালক শামসুদ্দিন মিয়ার সাথে সাক্ষাত করেন এবং জেনারেটর চুরি ও আত্মসাতের ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। কিন্তু ঝামেলা এড়াতে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন পরবর্তী উপ-পরিচালক শামসছুদ্দিন মিয়া। তিনি বিষয়টি যাতে অফিসের বাইরে যেতে না পারে সেজন্য  অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (পিপি) খাজানুর রহমান, অভিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক আব্দুর রশিদ ও সদর উপজেলার কৃষি বিভাগের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি সকলকে সাবধান করে বলেন,  বিষয়টি কোনভাবেই যেন অফিসের বাইরে না যায়। তারপরও বিষয়টি শহরের 'টক অব দ্য টাউন' এ পরিণত হলে উপ-পরিচালক শামছুদ্দিন ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন এবং কয়েকজন কর্মচারীকে বদলি করার পাঁয়তারা চালান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা আনন্দ বাজারকে বলেন, ২০২২ সালের জুন মাসের ৩-৪ তারিখের দিকে অফিসের সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে জেনারেটরটি ও দাপ্তরিক কাগজপত্র অফিস থেকে সরিয়ে ফেলা হয় এবং জেনারেটর রুমের সকল আলামত ধ্বংস করে বাসস্থান হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন গাড়ি চালক জহরুল ইসলাম।
এ প্রসঙ্গে কথা হলে অভিযোগকারী কৃষক রেজাউল করিম বলেন, আমরা বিভিন্ন সূত্রে জানতে পারি খামারবাড়ি থেকে পুরনো জেনারেটরটি চুরি হয়েছে। আমরা বিষয়টি পরিষ্কার হতে উপ-পরিচালক শামছুদ্দিনের সঙ্গে কথা বলি। তিনি বিষয়টি স্বীকার করেন এবং আশ্বস্ত করেন যে, জড়িতদের দ্রুত বিচার করা হবে। কিন্তু অনেক দিন অতিবাহিত হলেও জড়িতরা সনাক্ত না হওয়ায় আমরা শঙ্কিত এবং এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা বিচারের আওতায় না আসলে আমরা মনে করি আগামীতে খামারবাড়িতে আরো অনেক বড় বড় চুরির ঘটনা ঘটবে। সরকারি সম্পত্তি এভাবে আত্মসাৎ করার অধিকার কারও নেই এবং আমরা আগামীতে মানববন্ধন করার চেষ্টা করছি।
অভিযোগকারী কৃষক আপেল মিয়ার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আমরা চায়ের দোকানে বিভিন্নভাবে জানতে পারি অফিসের জেনারেটর চুরি হয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে ১০-১২ জন কৃষক উপ-পরিচালক শামসছুদ্দিনের সঙ্গে দেখা করি। তিনি বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, জেনারেটর চুরি ও আত্মসাতের ঘটনাটি সত্য।  আমরা তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছি।
অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন আব্দুল মোতালেব বলেন, জেনারেটরটি ১৯৮৯ সালে ক্রয়কৃত। যার বাজার মুল্য ৩৫ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা।
অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে উপ- পরিচালক শামছুদ্দিন এর সাথে গোপনে কথা হলে তিনি জানান, জেনারেটরটি ৩২ বছর পুরনো এবং আপদকালীন সময়ে বিদ্যুৎতের চাহিদা ও সেচের কাজে ব্যবহার হতো। জেনারেটরটি ছিল উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন। পরবর্তীতে তেল খরচ ও মেইনটেনেন্স খরচ বেশি হওয়ায় জেনারটরটি দীর্ঘদিন থেকে পরিত্যক্ত ছিল। তৎকালিন উপ-পরিচালক মঞ্জুরুল ইসলাম অফিসের গাড়ি চালক জহুরুল ইসলামকে আনঅফিসিয়ালি জেনারেটর রুমে থাকার অনুমতি প্রদান করেন। অনুমতিপ্রাপ্ত হয়ে গাড়িচালক জহুরুল ইসলাম মৌখিকভাবে নজরুল ইসলাম কে জেনারেটর রুমে থাকার জন্য অনুমতি দেন। পরবর্তীতে তিনি জেনারেটরটি সম্পর্কে খোঁজ-খবর না রাখলে সেই সুযোগে চলতি বছরের জুন মাসের দিকে সেটি গায়েব করা হয়। এক কল রেকর্ড বার্তায় তিনি আরও বলেন, আমি বিষয়টি পুরোপুরি বুঝতে পেরেছি, তবে ব্যবস্থা এ জন্য নিতে পারছি না যে, তাতে অবসরপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক আব্দুর রশিদের পেনশন ভাতা আটকে যেতে পারে।
এদিকে অফিসের জেনারেটর চুরির বিষয়টি যাতে পুরোপুরি ধামাচাপা দেয়া যায় সেজন্য উপ-পরিচালক শামসুদ্দিন ওই অফিসের ক্যাশিয়ারসহ জেলা ও উপজেলা অফিসের ১১জন কর্মচারীকে বদলি করেন।
এ প্রসঙ্গে সদ্য যোগদান করা উপ-পরিচালক বিপ্লব কুমার মোহন্তের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি শুধু বলেন, যেহেতু এটি আমার যোগদানের আগের ঘটনা এবং এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত আছেন সেহেতু আমার মন্তব্য করার সুযোগ নেই।

সর্বশেষ