• ২০২২ ডিসেম্বর ০১, বৃহস্পতিবার, ১৪২৯ অগ্রহায়ণ ১৭
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:১২ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

মাত্র ৩০ সেকেন্ডেই লক ভেঙে গাড়ি চুরি, গ্রেপ্তার ৪

  • প্রকাশিত ০৮:১২ অপরাহ্ন বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ০১, ২০২২
মাত্র ৩০ সেকেন্ডেই লক ভেঙে গাড়ি চুরি, গ্রেপ্তার ৪
ছবি সংগ্রহীত
এ,কে,সুমন- নিজস্ব প্রতিবেদক

মাত্র ৩০ সেকেন্ডেই রাস্তায় থাকা প্রাইভেটকার চুরি করে নিয়ে যায় একটি চক্র। ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় এসে প্রতি মাসেই অন্তত দুটি গাড়ি চুরি করতো চক্রের সদস্যরা। এরপর নরসিংদীর গ্যারেজে নিয়ে গাড়ির পার্টস ও রং পরিবর্তন করে ভুয়া রেজিস্ট্রেশন নম্বর লাগিয়ে বিক্রি করে দিতো তারা। এভাবে ৮ বছরের প্রায় দুশো গাড়ি চুরি করেছে এই চক্র। একটি গাড়ি চুরির মামলায় ৪ জনকে গ্রেপ্তারের পর এসব জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।

১৩ সেপ্টেম্বর, বেলা ১টা ২২ মিনিট। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের একটি রাস্তায় গাড়ি পার্কিংয়ের সামনে ফোনে কথা বলছে এই যুবক। কিছুক্ষণ পর এগিয়ে যায় গাড়ির কাছে। মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই গাড়িটি নিয়ে চলে যায়।

ঘটনার পর গাড়ির মালিকের অভিযোগ পেয়ে মাঠে নামে গোয়েন্দা পুলিশ। প্রযুক্তির সহায়তায় শনাক্ত করা হয় পারভেজ নামের সেই যুবককে। ঢাকা, গাজীপুর ও নরসিংদীতে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় পারভেজসহ এই চক্রের ৪ সদস্যকে। একইসঙ্গে উদ্ধার করা হয় চুরি যাওয়া ৪টি গাড়ি।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, পারভেজ ও তার সহযোগী কামাল বিভিন্ন অফিস বা মার্কেটের সামনে পার্কিং করা নাইনটি, নাইনটি-ফাইভ এবং হান্ড্রেড মডেলের প্রাইভেটকার টার্গেট করে। কামাল গাড়ির মালিকের গতিবিধি লক্ষ্য করে আর পারভেজ মাত্র ১০ থেকে ২০ সেকেন্ডের মধ্যে অভিনব কায়দায় বিশেষ চাবি দিয়ে লক খুলে গাড়ি নিয়ে সরে পড়ে। পরে সেই গাড়ি চলে যায় নরসিংদীর গ্যারেজ-মালিক নাজমুলের কাছে। আর নাজমুল দালাল সুমনের মাধ্যমে ভুয়া কাগজ বানিয়ে বিক্রি করে দেয় তা।

ডিবি জানাচ্ছে, চক্রের মূল হোতা পারভেজ ২০০৭ সালে ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় এসে লেগুনা ও বাস চালানো শুরু করে। একপর্যায়ে জড়িয়ে পড়ে গাড়ির ব্যাটারি চুরিতে। একটি মামলায় জেলে গিয়ে পরিচয় হয় কামালের সঙ্গে। জেল থেকে বেরিয়ে এই দুজন মিলে ৮ বছরে চুরি করেছে দু'শোর বেশি গাড়ি।

ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশিদ বলেন, পরিবহন শ্রমিক হিসেবে কাজ করার সময় তাদের পরিচয় হয় বিভিন্ন গ্যারেজে। সেখান থেকেই গাড়ির ব্যাটারি চুরি, নকল চাবি তৈরি করে হুন্ডা বা প্রাইভেটকার চুরি করা শুরু করে এই চোরচক্র।

তিনি বলেন, তারা মূলত বেশ কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে কাজ করে। কেউ চুরি করে, কেউ চেসিস নাম্বার ও রং পরিবর্তন করে, কেউ বিভিন্ন জায়গায় বিক্রির কাজে নিয়োজিত থাকে।

পুরোনো মডেলের গাড়িগুলো চোরের হাত থেকে বাঁচাতে মালিক ও চালকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ ডিবির।

সর্বশেষ