• ২০২১ মে ১৬, রবিবার, ১৪২৮ জ্যৈষ্ঠ ২
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:০৫ অপরাহ্ন
English

জেল জরিমানা হতে পারে বাবা-মাকে দেখাশোনা না করলে

  • প্রকাশিত ০৩:০৫ অপরাহ্ন রবিবার, মে ১৬, ২০২১
জেল জরিমানা হতে পারে বাবা-মাকে দেখাশোনা  না করলে

বিশেষ সংবাদদাতা, এ টি এম ফিরোজ মন্ডলঃ

মা-বাবার দেখভাল তথা ভরণ-পোষণ না করার জন্য কি জেল জরিমানা হতে পারে? সাদামাটা উত্তর হ্যাঁ, অবশ্যই হতে পারে। আরও মজার ব্যাপার হলো ভরণ-পোষণ মানেই মা-বাবাকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ আর্থিক সুবিধা দিলেই দায়িত্ব চুকিয়ে যাবে তা নয়; পাশাপাশি মা-বাবার মন ভালো রাখতে তাদের সঙ্গে সময় ব্যয় করার বিষয়টিও নিশ্চিত করেছে ২০১৩ সালের পিতা-মাতা ভরণ-পোষণ আইন।বাবা-মায়ের এমন আবদার পূরণ করতে না পারলে সন্তান কে জেল জরিমানার বিধানও রেখেছে এই আইনে। এমনকি যে অভিযুক্ত সন্তানের ওপর এই ভরণ-পোষণের দায়িত্ব বর্তায় তাকে যদি কেউ এই দায়িত্ব থেকে সরে আসতে স্ত্রী বা কোনো নিকট আত্মীয় বাধা দেয় কিংবা অসহযোগিতা করেন। তাকেও আইনের আওতায় এনে একই শাস্তি নিশ্চিত করার বিধান সন্নিবেশিত হয়েছে। বৃদ্ধাশ্রম থেকে রেহাই পেতে বাবা-মায়ের অমতে বা ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাদের বৃদ্ধাশ্রমে রাখা যাবে না- এমন তাগিদও দেওয়া হয়েছে।


এই আইনের আওতায় মা-বাবা, দাদা-দাদি এবং নানা-নানিকেও অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে। অত্র আইনের ২ ধারায় প্রতিবন্ধী বা উপার্জন অক্ষমদের ক্ষেত্রে শিথিল করা হয়েছে। উপর্যুক্ত সামর্থ্যবান সন্তানদের ক্ষেত্রে এই ৩ শ্রেণির ব্যক্তিবর্গ নিকটস্থ উপজেলা, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কিংবা জেলা লিগ্যাল এইড অফিস গিয়ে আবেদনের প্রেক্ষিতে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন।


ভুক্তিভোগীর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কিংবা জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার অভিযুক্ত পক্ষকে নোটিশ দিয়ে উপস্থিত করিয়ে মীমাংসা করাতে পারেন। আপোষ-মীমাংসা না হলে মামলা চলবে। এমন ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী ব্যক্তি থানায় গিয়ে এজাহার দায়ের করতে পারেন অথবা জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করতে পারবেন। আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল ভুক্তভোগীকে লিগ্যাল এইড বিনা খরচে আইনি সহায়তা প্রদান করে থাকেন।


একবিংশ শতাব্দীর সভ্যতার এই যুগে আইনটি খুব দরকার! বিবেকের কাঠগড়ায় হয়ত উত্তরটা বেশ জটিল প্রকৃতির। মা-বাবা সন্তানের কাছে কতটা অসহায় আর জিম্মি হলে সরকারকে এমন আইন করতে হয়! পৃথিবী সৃষ্টিলগ্ন থেকে একসঙ্গে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাসের প্রথায় অভ্যস্ত ছিলো। কিন্তু ক্রমেই এখন মানুষ একটু একা নিজের মতো করে স্বাধীনভাবে বসবাস করতে চায়। কিন্তু বিরাজমান এই পরিস্থিতি চলমান হলে এক সময় পবিারের সঙ্গে বাবা-মা পরিজনদের নিবিড় সম্পর্কের মায়ার বাঁধন ছাড়া ভারসাম্যহীন পৃথিবী অপেক্ষার কথা প্রবীন মানুষদের মুখে মুখে।


সর্বশেষ