• ২০২৩ জানুয়ারী ৩১, মঙ্গলবার, ১৪২৯ মাঘ ১৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:০১ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

বার কাউন্সিল চরের লোকদের সনদ দিয়ে আইনজীবী বানাচ্ছে: হাইকোর্ট

  • প্রকাশিত ১০:০১ অপরাহ্ন মঙ্গলবার, জানুয়ারী ৩১, ২০২৩
বার কাউন্সিল চরের লোকদের সনদ দিয়ে আইনজীবী বানাচ্ছে: হাইকোর্ট
ছবি সংগ্রহীত
টাইমবাংলা নিউজ ডেস্কঃ

খুলনা ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের সাবেক বিচারক (বর্তমানে যুগ্ম জেলা জজ) নির্মলেন্দু দাশের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের ঘটনায় খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলামসহ তিন আইনজীবীকে তুলোধুনো করেছেন হাইকোর্ট। 

এ সময় আদালত খুলনা বার সভাপতির উদ্দেশে বলেন, আপনি শুধু আইনজীবী সমাজের কলংক না, আপনি খুলনার কলংক। আপনি বিচারকের সঙ্গে যে আচরণ করেছেন কোন সভ্য সমাজের মানুষ এ আচরণ করতে পারে না।

মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।

শুনানির শুরুতে খুলনা বার সভাপতিসহ তিন আইনজীবীর পক্ষে নি:শর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির।

এ সময় আদালত সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতিকে প্রশ্ন রেখে বলেন, কোন সভ্য লোক কি বিচারকের সঙ্গে এ ধরণের আচরণ করতে পারে?  তিনি কি বার সভাপতি হয়ে আদালতে দাপট দেখাচ্ছেন।  আপনারা কেন এসব মানুষের পক্ষ নিয়ে আদালতে আসেন? আপনারা ডিপেন্ড করতে আসলে আমরা বিব্রত হই। বার কাউন্সিল চরের লোকদের সনদ দিয়ে আইনজীবী বানাচ্ছে। মানুষ কতটা নিচু হলে এ ধরণের বিচারকের সঙ্গে এ ধরণের ভাষা ব্যবহার করতে পারে।

এ সময় খুলনা বার সভাপতিকে উদ্দেশ করে আদালত বলেন,আপনি শুধু আইনজীবী সমাজের কলংক না। আপনি খুলনার কলংক। আপনি কি নিজেকে খুলনার মহানায়ক মনে করেন।

তখন খুলনা বার সভাপতি বলেন, আমার ভুল হয়ে গেছে। আমি নি:শর্ত ক্ষমা চাচ্ছি। আমাকে মাফ করে দেন।

এ সময় জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা বলেন, আমরা লজ্জিত তাদের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাচ্ছি। তিনি বলেন, এটা সত্যি অভিযোগ পড়তে লজ্জা লাগে। রেপ ভিকটিমের জবানবন্দির মত মনে হয়।

আদালত বলেন, আইনজীবীরা যদি আদালতের সঙ্গে এ রকম আচরণ করেন তাহলে আদালত, বার কিছুই থাকবে না। তারা ক্রিমিনাল অফেন্স করেছে।

এ সময় তিন আইনজীবীর পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি মোমতাজ উদ্দিন ফকির, সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুন নূর দুলাল, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমেদ রাজা, অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা যুথি, অ্যাডভোকেট রবিউল আলম বুদু আদালতকে বলেন, এবারের মত ক্ষমা করে দেন। আর কখনও এমন হবে না।

তখন আদালত বলেন, যারা আদালত অবমাননা করে, বিচারকের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে আপনারা তাদের পক্ষে নিয়ে আসবেন না। তাদেরকে আশ্রয় দিবেন না। আপনারা তাদের পক্ষে দাঁড়ালে ভুল ম্যাসেজ যায়।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা বলেন, এবারের মত ক্ষমা করে দেন। আমরা দায়িত্ব নিয়ে বলছি আর কখনও এমন ভুল হবে না। তখন আদালত বলেন,আপনারা ভুল করেননি। অপরাধ করেছেন।

এ সময় আদালত খুলনার আরেক আইনজীবী অ্যাডভোকেট শেখ আশরাফ আলী পাপ্পুকে ডায়াসের সামনে ডাকেন।

তাকে আদালত বলেন, আপনি এর আগে কি করতেন ? তখন তিনি বলেন, ব্যবসা করতাম। আদালত বলেন, আপনার আচরণ আইনজীবীর মত না। বিচারকের সঙ্গে খারাপ আচরণের ক্ষেতেও আপনি মেইন রোল প্লে করেছেন। আপনাদের মত ব্যবসায়ীরা এসে আইন পেশাকে নষ্ট করে দিচ্ছেন। খুলনার আরেক আইনজীবী শেখ নাজমুল হোসেনকেও ভর্ৎসনা করেন হাইকোর্ট।

সর্বশেষ