• ২০২৩ জানুয়ারী ৩১, মঙ্গলবার, ১৪২৯ মাঘ ১৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:০১ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

টিকিট সংকট ও সিডিউল বিপর্যয় সত্ত্বেও কুড়িগ্রাম রেলস্টেশনে বার্ষিক আয় সোয়া চার কোটি টাকা।

  • প্রকাশিত ১০:০১ অপরাহ্ন মঙ্গলবার, জানুয়ারী ৩১, ২০২৩
টিকিট সংকট ও সিডিউল বিপর্যয় সত্ত্বেও কুড়িগ্রাম রেলস্টেশনে বার্ষিক আয় সোয়া চার কোটি টাকা।
টাইমবাংলা নিউজ
আব্দুল কাদের, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ

দারিদ্র্যে চ্যাম্পিয়ন কুড়িগ্রাম জেলায় টিকিট সংকট ও চরম সিডিউল বিপর্যয় সত্ত্বেও কুড়িগ্রাম নতুন রেলওয়ে স্টেশনের বার্ষিক আয় প্রায় সোয়া চারকোটি টাকা। রাজস্ব আয় বাড়লেও যাত্রী সেবার মান একেবারে তলানীতে।

স্টেশন সুত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে জানুয়ারী হতে ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট আয় হয়েছে ৪কোটি ১১লাখ ২৮হাজার ৪শত ৬৬ টাকা। অথচ কুড়িগ্রামে মাত্র দুটি ট্রেন চলাচল করে। বর্তমানে রাজারহাট,  টগরাইহাট, কুড়িগ্রাম, পাঁচপীর, উলিপুর, বালাবাড়ি ও রমনা বাজার রেলওয়ে স্টেশনসহ মোট সাতটি রেলওয়ে স্টেশন রয়েছে। অতীতে এখানে দিবা-রাত্রি চার জোড়া ট্রেন চলাচল করলেও বর্তমানে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ও চিলমারী কমিউটার নামে  মাত্র দুইটি ট্রেন চলাচল করছে। তারমধ্যে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস আন্তঃনগর ট্রেনটি কুড়িগ্রাম-ঢাকা-কুড়িগ্রাম রুটে চলাচল করলেও চিলমারী কমিউটার চলাচল করছে লালমনিরহাট-কাউনিয়া-রমনা বাজার, রমনা বাজার-রংপুর-লালমনিরহাট এবং লামনিরহাট-কাউনিয়া-কুড়িগ্রাম ও কুড়িগ্রাম-কাউনিয়া-লালমনিহাট রুটে। চিলমারী কমিউটারকে যখন লালমনিরহাট - কাউনিয়া - কুড়িগ্রাম ও কুড়িগ্রাম-কাউনিয়া-লালমনিরহাট রুটে চালনা করা হয় তখন এটিকে রংপুর এক্সপ্রেসের কানেক্টিং শাটল ট্রেন হিসেবে গণ্য করা হয়। সেদিক বিবেচনায় দেখা যায় কুড়িগ্রামে মাত্র দুইটি ট্রেন চলাচল করে।

টিকিট সংকট ও সিডিউল বিপর্যয়ঃ রেল-নৌ, যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির দূর্বার আন্দোলন কুড়িগ্রাম টু ঢাকা আন্তঃনগর ট্রেন চালুর দাবী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে আনতে সক্ষম হয়। ২০১৫ সালের ১৫ অক্টোবর কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠের জনসভায় মঞ্চের সামনে কুড়িগ্রাম টু ঢাকা আন্তঃনগর ট্রেন চালুর দাবী সম্বলিত একটি ব্যানার উঠিয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ উপস্থিত সকলের নজর কাড়ে। সেই ব্যানার দেখে প্রধানমন্ত্রী আন্তঃনগর ট্রেন চালুর প্রতিশ্রুতি দেন। কুড়িগ্রামবাসীর স্বপ্ন পূরণে প্রধানমন্ত্রী ২০১৯ সালের ১৬ অক্টোবর ভিডিও কনফারেন্সে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের শুভ উদ্বোধন করেন। কুড়িগ্রামের মানুষ খুশিতে আত্মহারা হয়ে এবং প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই কুড়িগ্রামের মানুষের সেই খুশি মলিন হয়ে যায়। কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস কুড়িগ্রামের জন্য বরাদ্দ হলেও চাহিদার তুলনায় টিকিট বরাদ্দ দেয়া হয় খুবই অল্প।

স্টেশন সুত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের মোট আসন সংখ্যা ৬৫৩ টি হলেও কুড়িগ্রাম স্টেশনের জন্য টিকিট বরাদ্দ দেয়া হয় মাত্র ১২২ টি। এর মধ্যে অনলাইনে ৬১টি এবং কাউন্টারে ৬১ টি। এসি সীট কাউন্টারে ৫টি এবং অনলাইনে ৫টি, এসি চেয়ার কাউন্টারে ৬টি এবং অনলাইনে ৬টি, শোভন চেয়ার কাউন্টারে ৫০টি এবং অনলাইনে ৫০টি।

রেল-নৌ, যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটি, কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সদস্য সচিব শামসুজ্জামান সরকার সুজা বলেন, কুড়িগ্রাম জেলায় কোন শিল্পকারখানা না থাকায় কুড়িগ্রামের অধিকাংশ শ্রমজীবি মানুষকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় কর্মের সন্ধানে ছুটে বেড়াতে হয়। প্রতিদিন (দিবা-রাত্রী) মিলে কুড়িগ্রাম থেকে ২০০টির অধিক বাস ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। কিন্তু কুড়িগ্রাম স্টেশনে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট বরাদ্দ মাত্র ১২২টি। অথচ রংপুর স্টেশনে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের টিকিট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১৭৯টি। আবার কুড়িগ্রামে রংপুর এক্সপ্রেসের টিকিট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে মাত্র ৪০ টি। এতেই প্রতীয়মান হয় যে, টিকিট বরাদ্দের ক্ষেত্রে কুড়িগ্রামের সাথে চরম বৈষম্য করা হয়েছে যা রেল কর্তৃপক্ষের কারসাজি ছাড়া আর কিছুই নয়। এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান রেল আন্দোলনের এই নেতা।

প্রতি সপ্তাহে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় ঘটছে বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন। বিলম্ব ঠেকাতে বিকল্প রেকে যাত্রীদের কুড়িগ্রাম স্টেশন হতে রংপুর স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়। এতে ব্যাগ-লাগেজ উঠানামা করতে যাত্রীদের বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হয়।

জরাজীর্ণ প্লাট ফরমের যাত্রী ছাউনীঃ যাত্রী এবং স্থানীয়দের অভিযোগ, কুড়িগ্রাম রেলস্টেশনের প্লাট ফরম যাত্রী ছাউনি দীর্ঘদিন যাবৎ সংস্কার না করায় জরাজীর্ণ হয়েছে। বর্ষাকালে বৃষ্টির সময় ঝরঝরে পানি পড়ে। ফলে বৃষ্টির সময় প্লাটফরমে দাঁড়ানোরও কোন উপায় থাকে না। এছাড়া প্লাট ফরম উভয়দিকে বর্ধিত করা হলেও যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হয়নি। ফলে বৃষ্টির সময় যাত্রীদের ভিজে ট্রেনে উঠতে হয় এবং ট্রেন থেকে নেমে ভিজে বাড়ী ফিরতে হয়। তাই অবিলম্বে কুড়িগ্রাম রেলস্টেশনের প্লাট ফরম এর যাত্রী ছাউনি মেরামতসহ উভয়দিকে বর্ধিতকরণের দাবী জানান স্থানীয়রা।

সর্বশেষ