• ২০২৩ জানুয়ারী ৩১, মঙ্গলবার, ১৪২৯ মাঘ ১৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:০১ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

পিএমখালীতে কৃষি জমিতে স্কেভেটরের থাবা,ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কা! মাটি বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি টাকা নুরুল হুদা সিন্ডিকেট

  • প্রকাশিত ১০:০১ অপরাহ্ন মঙ্গলবার, জানুয়ারী ৩১, ২০২৩
পিএমখালীতে কৃষি জমিতে স্কেভেটরের থাবা,ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কা!  মাটি বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি টাকা নুরুল হুদা সিন্ডিকেট
টাইমবাংলা নিউজ
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ-

কক্সবাজার সদরের পিএমখালীতে  স্কেভেটরের থাবায় কৃষি জমিতে ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা। পিএমখালীতে প্রকাশ্যে অবাধে কৃষি জমির টপসয়েল (জমির উপরি ভাগের উর্বর অংশ) কেটে নেয়া হলেও প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর কোন কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রভাবশালী চক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।এসব মাটির বেশিরভাগ অংশ যাচ্ছে ইটভাটায়।  তাছাড়া বসতভিটা ও পুকুর ভরাট কাজেও ব্যবহৃত হচ্ছে এসব মাটি। ভূমি আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিএনপি নেতা নুরুল হুদা, আরিফ ও মো.আবদুল্লাহর নেতৃত্ব সিন্ডিকেট ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে উজাড় করছে বলে জানা যায়। ফলে এলাকার পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন ও ফসল বৈচিত্র্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।


সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, পিএমখালী ইউনিয়নের চেরাংঘর বাজারের পশ্চিম পাশে জুমছড়ি বিলে  স্কেভেটর দিয়ে দিনরাত কৃষি জমির উপরিভাগের উর্বরা অংশ কেটে অর্ধশতাধিক মিনি ট্রাক-ডাম্পারে করে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে এসব মাটি। আর এসব মাটি যাচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়। তাছাড়া বসতভিটা ও পুকুর ভরাট কাজেও এসব মাটির ব্যাপক চাহিদা বেড়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মাটি কাটার গভীরতার পরিমাণ ৫ থেকে ১০ ফুট পর্যন্ত ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ফলে কোথাও কোথাও অর্থনৈতিক ও অনৈতিক আগ্রাসনে পার্শ্ববর্তী মালিকের জমিও নষ্ট হচ্ছে। কৃষি জমি রক্ষায় জন্য এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসন বরাবর লিখিত অভিযোগ করেও কোন সুরাহা হয়নি। এরআগে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিযান চালিয়ে বেশকয়েক বার জরিমানাও করেছিল। এর পরে এসব চক্র থেকে এসব কৃষি জমি রক্ষা পাচ্ছে না। 

এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে, পিএমখালী ইউনিয়নের উত্তর নয়াপাড়ার মো.হোছনের ছেলে আবদুল্লাহ ও মধ্যম নয়াপাড়ার আবু বক্করের ছেলে নুরুল হুদা একটি সিন্ডিকেট গঠন করে পাহাড় ও জমির টপ সয়েল কেটে পাচার করে আসছিল দীর্ঘদিন ধরে।এসব মাটি ডাম্পার প্রতি  বিক্রি করা হচ্ছে ৯০০-১০০০  টাকায়। এতে জমির মালিক পান গাড়ী প্রতি ১০০ টাকা।দৈনিক প্রতিটি ডাম্পার ২ থেকে আড়াই'শ গাড়ী মাটি বিক্রি করে যাচ্ছে। 

স্থানীয়রা জানান, নুরুল হুদার মালিকানাধীন রয়েছে নিজস্ব স্কেভেটর।প্রতিদিন রাতে ও দিনে সমান তালে টপ সয়েল পাচার করায় রাস্তাঘাট ধুলো-বালি হয়ে যায়। এতে সাধারণ মানুষ স্বাভাবিক ভাবে চলাচলে মারাত্মক দুর্ভোগে পড়তে হয়

কৃষি বিজ্ঞানের ভাষায় যে কোনো ফলনযোগ্য জমির উৎপাদন শক্তি জমা থাকে মাটির ৬ থেকে ১৮ ইঞ্চি গভীরতায়। মাটির এই অংশেই যে কোনো ফসল বেড়ে ওঠার গুণাগুণ সুরক্ষিত থাকে। বীজ রোপণের পর এই অংশ থেকেই ফসলটি প্রয়োজনীয় উপাদান গ্রহণ করে। এই অংশটি একবার কেটে নিলে সে জমির আর মৃত্তিকা প্রাণ থাকে না। এমনকি ওই জমিতে ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে কোনো ফসল বেড়ে উঠবে না। এতে জমিটি পরিত্যক্তই হয়ে যায়।

সূত্র জানায়,শুকনো মৌসুমের শুরুতে সদর উপজেলা প্রশাসন টপ সয়েল বিক্রি রোধে পিএমখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে আবদুল্লাহকে দুই দফায় ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।এর পরেও কিছুতেই থামছে না মাটি ব্যবসায়ী দুর্বৃত্তদের অপতৎপরতা। ইটভাটা ও বসতভিটায় টপ সয়েলের ব্যাপক চাহিদা থাকায় নুরুল হুদা ও মো. আবদুল্লাহ মাটি খেকো চক্র কৃষকদের (জমির মালিক) বিভিন্ন কৌশলে প্রলুব্ধ করে সামান্য (গাড়ী প্রতি ১' শ টাকা) অর্থের বিনিময়ে তা উজাড় করছে। ফলে কৃষকরা ধরে রাখতে পারছেন না তাদের জমির স্বাভাবিক ফলন।

জানা যায়, কৃষি জমির টপ সয়েল কেটে নেয়ার কারণে ফসলের প্রধান খাদ্য নাইট্রোজেন, ফসফরাস, আয়রন, জিংক, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়ামসহ বিভিন্ন জৈব উপাদানের ব্যাপক ঘাটতি হচ্ছে। 

অন্যদিকে, চলাচলে নিষেধ থাকলেও মাটি ভর্তি ভারি ট্রাক, ডাম্পার চলাচল করায় গ্রামীণ রাস্তাঘাট ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ইটভাটার তত্ত্ববধায়ক জানান, মাটি ব্যবসায়ীরা তাদের ইটভাটার মাটি সরবরাহ করে থাকে। ভাটা মালিকরা কেউ টপ সয়েল কাটায় সরাসরি জড়িত নয়। এব্যাপারে টপ সয়েল কাটায় সরাসরি জড়িত সিন্ডিকেট প্রধান নুরুল হুদা ও আরিফের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পরে সাথে সাথে ফোন কেটে দিয়ে পরবর্তীতে একাধিক ফোন করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করে নাই। তথ্য বলছে স্কেভেটরের মালিক নুরুল হুদা। প্রতিদিন ১০-১২ টি ডাম্পার গাড়ী মাটি পাচারে জড়িত থাকলেও সব গাড়ী ভাড়ায় চালিত বলে জানা যায়।

এব্যাপারে কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকারিয়া বলেন, সাধারণ কৃষকদের অসচেতনতার সুযোগে এক শ্রেণির মাটি ব্যবসায়ীরা কৃষি সম্পদের সর্বনাশ করছে। এ ব্যাপারে মাঠ পরিদর্শন করে শিগগির কৃষকদের বুঝানোর চেষ্টা করা হবে।তিনি আরও জানান, মাটি কাটার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দফা দফা অভিযান চালানো হয়েছে।জরিমানাও করা হয়েছে অনেককে।এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সর্বশেষ