• ২০২৩ মার্চ ২৬, রবিবার, ১৪২৯ চৈত্র ১২
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:০৩ পূর্বাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

মুখ থুবড়ে পড়েছে গ্যাসের প্রিপেইড মিটার প্রকল্প

  • প্রকাশিত ১২:০৩ অপরাহ্ন রবিবার, মার্চ ২৬, ২০২৩
মুখ থুবড়ে পড়েছে গ্যাসের প্রিপেইড মিটার প্রকল্প
ছবি সংগ্রহীত
এ,কে,সুমন- বিশেষ প্রতিবেদকঃ

আর্থিক সঙ্কটে মুখ থুবড়ে পড়েছে গ্যাসের প্রিপেইড মিটার প্রকল্প। প্রায় এক বছর বন্ধ নতুন মিটার দেওয়া। উল্টো রক্ষণাবেক্ষণের সংকটে খুলে নেওয়া হচ্ছে পুরনো মিটার। গ্যাসের অপচয় রোধে ২০১১ সালে আবাসিক সংযোগে প্রিপেইডমিটার দেওয়ার উদ্যোগ নেয় সরকার। ২০১৫ সালে শুরু হয় কার্যক্রম।

২০১৯ সালে বিইআরসি একটি পরিপত্রের মাধ্যমে সব লাইনে প্রিপেইড মিটার বসানোর নির্দেশনা দেয়। পরে ধাপে ধাপে রাজধানীতে ৩ লাখ ২৮ হাজার ৬০০টি প্রিপেইড গ্যাস মিটার বসায় তিতাস গ্যাস। এতে গ্যাসের অপচয়, ব্যবহার ও গ্রাহকের খরচ সবদিক দিয়ে সাশ্রয় হয়।

তবে, সম্প্রতি ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে সার্ভার জটিলতাসহ নানা কারণ দেখিয়ে খুলে নেওয়া হচ্ছে গ্যাসের প্রিপেইড মিটার। এতে ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধিতে এমনিতেই হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ।

প্রিপেইড মিটার সম্পর্কে ঢাকার মিরপুর রূপনগর এলাকার এক বাসিন্দা জানান, তার বাসায় গ্যাসের প্রিপেইড মিটার বসানো হয়েছে। এতে অনেক সাশ্রয়। মিটার বসানোর পর খরচ কমে দাঁড়িয়েছে সবমিলিয়ে চার থেকে পাঁচশ’ টাকা। কিন্তু বর্তমানে মিটার ছাড়া দুই চুলা ১০৮০ টাকা এবং এক চুলা ৯৯০ টাকা গুনতে হয় গ্রাহকদেরকে। প্রিপেইড মিটার লাগানোর পর গ্যাসের জন্য প্রতি মাসে মোটামুটি এরকমই খরচ হয়। তবে এটা অনেকটাই নির্ভর করে ব্যবহারকারীর উপর। রিচার্জ করা টাকা শেষ হয়ে যাওয়ার আগেই তিতাস গ্যাসের বুথে গিয়ে আবার টাকা ভরে নেন তিনি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রাহকদের সুবিধাসহ নানা দিক বিবেচনা করে গ্যাসের প্রিপেইড মিটারের কোনে বিকল্প নেই। তাই প্রকল্প থেকে ধীরে ধীরে সরে আসা দুঃখজনক।

ভোক্তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করে এমন সংগঠন কনজ্যুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, তারা মিটার বসানোর ক্ষেত্রে গড়িমসি দেখতে পাচ্ছেন। তাদের দিক থেকে তারা বলে যে, প্রিপেইড মিটারে বিনিয়োগ করার মতো পর্যাপ্ত অর্থ নেই, বসানোর জন্য জনবলের সংকট। এই কারণে তাদের ধীরগতি হচ্ছে। কিন্তু এধরনের ব্যাখ্যা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

এদিকে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ বলছে, অর্থের সংকটে নতুন করে প্রিপেইড মিটার বসানোর কাজ বন্ধ। পুরনোগুলোও রক্ষণাবেক্ষণ করা যাচ্ছে না। তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হারুনুর রশীদ মোল্লা জানান, জাইকা’র ঋণ পেলে প্রিপেইড মিটার প্রকল্পের কাজ আগাবে।

বিশ্বব্যাংক, জাইকা ও এডিবির সহযোগিতা পেলে শিগগরিই আবারো প্রি পেইড মিটার বসানোর কাজ শুরু হবে। সেইসঙ্গে করিগরি জটিলতায় যেসব মিটার খুলে নেয়া হয়েছে, তা আবারও ফেরত দেওয়া হবে একথা জানিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।

সর্বশেষ