• ২০২১ Jul ২৫, রবিবার, ১৪২৮ শ্রাবণ ৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:০৭ পূর্বাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

কুড়িগ্রামে উত্তরবঙ্গ জাদুঘর ভবন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্থর ফলক উম্মোচন

  • প্রকাশিত ০৫:০৭ পূর্বাহ্ন রবিবার, Jul ২৫, ২০২১
কুড়িগ্রামে উত্তরবঙ্গ জাদুঘর ভবন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্থর ফলক উম্মোচন
ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 মোঃ আব্দুল কাদের, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :  ০৯-০৬-২০২১

 মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে কুড়িগ্রামে উত্তরবঙ্গ জাদুঘরের নিজস্ব ভবণ নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্থর ফলক উম্মোচন করা হয়েছে।

বুধবার(৯ জুন) বিকেল ৩টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ভবন নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন করেন এবঃ তাঁর পক্ষে ভিত্তিপ্রস্থর ফলক উম্মোচন করেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম।

এসময় ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সচিব খাজা মিয়া, ট্রাস্টি মফিদুল হক, তানভির মোকাম্মেল, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জাফর আলী, ব্রিগ্রেডিয়ার মোহাম্মদ আলী, মেজর(অবঃ) আব্দুস সালাম, বীরপ্রতীক আব্দুল হাই, জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা এডভোকেট এসএম আব্রাহাম লিংকন, কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি এডভোকেট আহসান হাবীব নীলু প্রমুখ।

মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত ২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০ শতক জমির উপর ভবনটি নির্মিত হবে। উত্তরবঙ্গ জাদুঘরের নকশা তৈরি করেছেন ঢাকার ‘নকশাবিদ’ ফার্মের পক্ষে প্রকৌশলী বায়েজিদ মাহবুব খন্দকার। দুই বছরের মধ্যে উত্তরবঙ্গ জাদুঘর ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ করা হবে বলে জানা গেছে। কুড়িগ্রামের বিশিষ্ট আইনজীবী এডভোকেট এসএম আব্রাহাম লিংকন মহান মুক্তিযুদ্ধের গবেষণায় মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে অনেক দুর্লভ স্মারক সংগ্রহ করেন এবং নিজ বাড়ীতে সেগুলো সংরক্ষণ করেন। এই সংগ্রহশালা নিয়ে ২০১২ সালের ১২ এপ্রিল কুড়িগ্রাম নতুন শহরের নাজিরা ব্যাপারী পাড়া এলাকায় নিজ দ্বিতল বাড়ীতে ‘উত্তরবঙ্গ জাদুঘর’ এর অস্থায়ী কার্যালয় স্থাপন করেন। দীর্ঘ ৯বছর ধরে তিনি সংগ্রহশালাটিকে আরো সমৃদ্ধ করে তোলেন। পরে সেগুলো সর্বসাধারণ ও নতুন প্রজম্মের দেখার ও মহান মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানার জন্য উম্মুক্ত করে দেন এবং পরিদর্শনে আগতদের বুঝতে সহজতর করার লক্ষে নিজেই পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে ব্যাখ্যা করেন। এভাবে তাঁর বসতবাড়িটিই উত্তরবঙ্গ জাদুঘর হিসেবে দেশজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করে।

এই দ্বিতল ভবনের বাড়িটির বসার ঘর, খাবারের ঘর, সেঁরেস্তা ঘর, সিঁড়িঘর, এমনকি শোবারঘরেও সাজিয়ে রাখা হয় স্থানীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মারকের ২ হাজারেরও বেশি প্রামাণ্য দলিল ও নানা উপকরণ। জাদুঘরটি দেখতে পদস্থ কর্মকর্তাসহ দেশের অনেক গুণী ব্যক্তিও ছুটে এসেছেন বিভিন্ন সময়ে। এছাড়াও প্রতিদিন সময়ে অসময়ে নানান বয়স ও শ্রেণি পেশার মানুষ সেখানে ছুটে যান। জাদুঘরের নামে তিনি ২০শতক জমি লিখে দিয়েছেন। তাঁর বাড়ী সংলগ্ন সেই ২০ শতক জায়গায় নির্মিত হচ্ছে ‘উত্তরবঙ্গ জাদুঘর’র নতুন ভবন।

বর্তমানে উত্তরবঙ্গ জাদুঘরের অস্থায়ী ভবনটিতে রয়েছে বৃহত্তর রংপুর জেলার ৫ হাজার ৮৬৫জন রাজাকারের নামের তালিকা ও তাদের ক্ষমা প্রার্থণার দলিল, শান্তি কমিটির সদস্যদের নামের তালিকা, রৌমারী রণাঙ্গনে মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহৃত কিছু ডামি রাইফেল ও মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে প্রকাশ হওয়া সাপ্তাহিক পত্রিকার কাটিং, ভূরুঙ্গামারী রণাঙ্গনে পাকিস্তানী বাহিনীর ছোঁড়া অবিস্ফারিত মর্টার শেল, গ্রেনেড, গোলাবারুদের বাক্সসহ নানান অমূল্য দলিল। 

কুড়িগ্রামের সচেতন মহলের অনেকেই মনে করেন এই উত্তরবঙ্গ জাদুঘর একদিন দেশের গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জনে সক্ষম হবে যা দারিদ্র্যের শীর্ষে থাকা কুড়িগ্রাম জেলাকে মর্যাদার শীর্ষে পৌঁছে দিবে।

সর্বশেষ