• ২০২১ Jul ২৫, রবিবার, ১৪২৮ শ্রাবণ ৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:০৭ পূর্বাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

একে একে নিভেছে দেউটি এবং তারপরও ঈদ মুবারক!

  • প্রকাশিত ০৪:০৭ পূর্বাহ্ন রবিবার, Jul ২৫, ২০২১
একে একে নিভেছে দেউটি এবং তারপরও  ঈদ মুবারক!
বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর আব্দুস সালাম
এ টি এম ফিরোজ মন্ডল, বিশেষ সংবাদদাতাঃ

গতকাল শুক্রবার পরপারে চলে গেলেন ম্যাগ গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আনোয়ারুল গনি চাঁদ। তাঁর স্ত্রীও করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে। মাস দুয়েক আগে  বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ডঃ হোসেন আলীও সস্ত্রীক পারি জমিয়েছেন ওপারে। তাঁরাও করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। চাঁদ ভাই এবং হোসেন আলী ভাই যথাক্রমে কুড়িগ্রাম সমিতি, ঢাকার সাবেক সভাপতি ও মহাসচিব ছিলেন। তাঁরা দু'জনেই কুড়িগ্রাম ডায়াবেটিক সমিতি ও হাসপাতালের পৃষ্ঠপোষক এবং প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। তারও কিছুদিন আগে একে একে চলে গেলেন কুড়িগ্রাম সমিতি, ঢাকা এবং কুড়িগ্রাম ডায়াবেটিক সমিতির প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও সাবেক সভাপতি সাবেক মন্ত্রী ও এমপি কাশেম গ্রুপের চেয়ারম্যান, এ কে এম মাঈদুল ইসলাম; সাবেক যুগ্ম সচিব জনাব আব্দুল আজিজ; গণপূর্ত বিভাগের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী, ইন্জিনিয়ার মতিয়ার রহমান এবং তারও আগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন খান। এঁরা সবাই কুড়িগ্রামের কৃতি সন্তান, অগ্রপথিক এবং কুড়িগ্রামের সার্বিক উন্নয়ন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের নিবেদিত প্রাণ। আমার সৌভাগ্য যে এঁদের সবার সাথে আমি সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলাম। এসব কাজে অগ্রজদের বিদায়ে আমরা অনেকটা মুরুব্বিহীন হয়ে পড়লাম! কুড়িগ্রামের দিকপালদের বিদায়ে যেন বাতিঘরগুলো একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আল্লাহ তাঁদের বেহেশত নসীব করুন। 

প্রকৃতির নিয়মে সবাই চলে যাবে, দু'দিন আগে বা পরে। এখানেই সান্ত্বনা খুঁজি! উদ্বেগের বিষয় যে এঁদের শেষের ৩/৪ জন করোনার শিকার। কুড়িগ্রামেও করোনার প্রকোপ বেড়ে গেছে। কুড়িগ্রামের মানুষদের অনেকে 'মফিজ' ( সহজ সরল, বোকা শোকা) বললেও তাঁরা কিন্তু বীর বাঙ্গালী, করোনাকে পাত্তাই দেয়না। সরকারি, বেসরকারি এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত কোন সতর্কবাণীই তাঁদের কর্ণকুহরে প্রবেশ করেনা। করলে অন্তত সংক্রমণ এতো ছড়াতো না। এইযে অনেকের সাথে আমাদের জ্যোতি আহমেদ এবং মানিক চৌধুরী নিরলসভাবে প্রতিনিয়ত মাস্ক পরা, হাত ধোয়া, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য লিখে যাচ্ছেন; আমরা ক'জন তা আমলে নিচ্ছি? নিলে, মানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে অন্তত সংক্রমণ এতো বেশি  ছড়াতো না, সেটা জোর দিয়ে বলা যায়। 

প্রাসঙ্গিকভাবে বলতে চাই, গতবছর মার্চ - জুনের দিকে করোনার উপর আমিও কয়েকটি পোস্ট দিয়েছিলাম। সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনার জন্য আহাম্মকের মতো কিছু সুপারিশ রেখেছিলাম। আহাম্মক বললাম একারণে যে আহাম্মকের কলিজা বড় হয়; আগপাছ অতো না ভেবে যা ভালো মনে করে তাই বলে ফেলে। আমিও তাই করেছিলাম। তবে এগুলো দাবি আকারে এখনও অনেক মহল থেকে উচ্চারিত হচ্ছে। তাই এর কয়েকটির পুনরুল্লেখ এখানে করছি ঃ

(১) উপজেলা এবং জেলায় করোনা পরীক্ষার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত আইসিইউ'র ব্যবস্থা করা। 

(২) হাসপাতালগুলোর আসন সংখ্যা বাড়ানোর ব্যবস্থা  করা। প্রয়োজনে কমুউনিটি সেন্টার, হোটেল, ২/১ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেও অস্থায়ী হাসপাতালরূপে সজ্জিত করা।  

(৩) পর্যাপ্ত সংখ্যক ডাক্তার, নার্স ও টেকনিসিয়ানের ব্যবস্থা করা, শর্ট কোর্স আয়োজন করে তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। প্রয়োজনে ইন্টার্নি ডাক্তারদের, অবসরগামী এবং অবসরপ্রাপ্ত ডাক্তার, নার্স,  টেকনিসিয়ানদের অস্থায়ী নিয়োগ দেয়া।

(৪) কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দিয়ে ' ছাত্র ব্রিগেড' তৈরী করা এবং তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। এদেরকে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী কর্মকাণ্ডে লাগানো যাবে। 

(৫) পাড়া-মহল্লা থেকে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত সর্বদলীয় কমিটি করে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সামাজিকভাবে কাজ করা। কেননা এটা অতিমারী, রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় সমস্যা। 

(৬) জনপ্রতিনিধিদের মাঠে নামানো, শুধু আমলাদের দিয়ে হবেনা। এবং 

(৭) দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে ত্রাণ বিতরণ এবং জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কাজে নিয়োজিত করা। 

      বিষয়গুলোর পুনরুল্লেখ এজন্যই করলাম যে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে এতো জলদি করোনা আমাদের ছাড়ছেনা। আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি, আপদ শীগ্রই নিপাত যাক, কিন্তু আরও অনেক মূল্যবান প্রাণ না নিয়ে যাবে বলে মনে হচ্ছেনা! 

লক-ডাউন খুলে গেল, হাটবাজার শপিং মল খুলে গেল, গরুর হাট চালু হলো, ঈদের জন্য মানুষ গিজগিজ করে ছুটছে। বিয়ে-শাদী, দাওয়াত পাতি ভালোই চলবে হয়তো। আহা কি আনন্দ আজ আকাশে বাতাসে!  কিন্তু ঈদ যে কার হবে ; আমাদের, না করোনার তা একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন!  তবুও সবাইকে ঈদ মুবারক। আসুন, পছন্দের পশু কোরবানির সাথে সাথে মনের পশুকেও কোরবানি দেই। মাস্ক পরি, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি। আল্লাহ আমাদের সহায় হোক।।।

সাবেক পরিচালক ۔বাংলাদেশ বিমান ۔ভাইস চেয়ারম্যান জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটি, বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর আব্দুস সালাম 

সর্বশেষ