সোহরাওয়ার্দী উদ্যান–এ দুবেলা পেট ভরে ভাত খাওয়ার আশায় এক বেকার মানুষ পানি বিক্রি করছিল। তার অপরাধটা কী ছিল?
তাকে দাঁড় করিয়ে গুনে গুনে সাতটি জোরে চপেটাঘাত করা হয়েছে। “গাঁজা "আছে, বের কর এমন অপমানজনক কথায় গালিগালাজ করা হয়েছে। অথচ শেষে তার কাছে কিছুই মেলেনি। কিছু না পেয়ে তাকে ফেলে রেখে চলে যাওয়া হয়েছে, যেন সে মানুষ নয়—একটা তুচ্ছ বস্তু।
হয়তো তার ছোট্ট সন্তান বাসায় বসে অপেক্ষা করছে—বাবা আজ কী নিয়ে ফিরবে। হয়তো স্ত্রী দরজার দিকে তাকিয়ে আছে—কয়টা টাকা হাতে পেলে বাজার করবে, সংসারটা কোনোভাবে চালাবে। সেই মানুষটি আজ বাজারের ব্যাগ নয়, শরীরভর্তি ক্ষত নিয়ে ঘরে ফিরবে।
সে কীভাবে দেখাবে তার শরীরের দাগগুলো? কীভাবে বলবে, “আমি নির্দোষ ছিলাম”? সন্তানের চোখে নিজের অপমানের গল্প কি বলা যায়? স্ত্রীর সামনে নিজের অসহায়ত্ব কি সহজে প্রকাশ করা যায়?
বিনা অপরাধে যে শাস্তি, তার কষ্ট শব্দে বোঝানো যায় না। এই অন্যায় শুধু একজন পানি বিক্রেতার গায়ে পড়েনি—প্রতিটি চপেটাঘাত আমাদের বিবেকের ওপরেও আঘাত করেছে।
মনে রাখি, একজন নিরপরাধ মানুষের অপমান মানে আমাদের মানবতার অপমান। অন্যায়ের বিরুদ্ধে অন্তত কণ্ঠটা যেন নীরব না থাকে।
মতামত দিন