কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)–এর সমাজকল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যান আসমা সাদিয়া রুনার নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পুরো ক্যাম্পাসে নেমে এসেছে গভীর শোক ও স্তব্ধতা। বুধবার বিকেলে নিজ বিভাগের অফিস কক্ষেই এক কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে তিনি মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান।
ঘটনার পর নিহত শিক্ষিকার স্বামী ছোট সন্তানকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন। উপাচার্যের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি আকুল কণ্ঠে বিচার দাবি করেন। আহাজারির মাঝে তাকে বলতে শোনা যায়, “যদি পোস্টমর্টেম না করা যেত, তবে আমি সবাইকে মাফ করে দিতাম স্যার।” তার এই হৃদয়বিদারক আর্তনাদ উপস্থিত সবার হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় বিভাগে ইফতার মাহফিলের প্রস্তুতি চলছিল। ঠিক সেই মুহূর্তেই ঘটে যায় এই ভয়াবহ ও মর্মান্তিক ঘটনা। অভিযুক্ত অফিস সহকারী ফজলু ঘটনার পর আত্মহত্যার চেষ্টা চালায় এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
একজন মেধাবী শিক্ষক, স্নেহময়ী মা এবং সহৃদয় মানুষকে এভাবে হারিয়ে পরিবার, সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের মাঝে নেমে এসেছে গভীর শোক ও ক্ষোভ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুততম সময়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক বিচারের আশ্বাস দিয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার আজ শোকাহত ও স্তব্ধ।
মতামত দিন