• ২০২৬ মার্চ ০৭, শনিবার, ১৪৩২ ফাল্গুন ২৩
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:০৩ পূর্বাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

ভাইরাল হওয়ার নেশায় প্রাণ গেল যুবকের। মায়ের আহাজারি।

  • প্রকাশিত ০৯:০৩ পূর্বাহ্ন শনিবার, মার্চ ০৭, ২০২৬
ভাইরাল হওয়ার নেশায় প্রাণ গেল যুবকের। মায়ের আহাজারি।
file
হাসিনুর রহমান হাসু। টাইম বাংলা নিউজ ডেস্ক।

টিকটকের ভিডিও বানাতে গিয়ে নিভে গেল ১৭ বছরের এক প্রাণ—বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়লেন মা।

সস্তা জনপ্রিয়তার নেশা আবারও কেড়ে নিল একটি তরুণ জীবন। বরিশালের আগৈলঝাড়ায় টিকটক ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছে ১৭ বছর বয়সী কিশোর রাজ মন্ডল।

বুধবার সন্ধ্যায় নিজের ঘরের দ্বিতীয় তলায় একটি ভিডিও ধারণ করতে যায় রাজ। ভিডিওর দৃশ্য অনুযায়ী গলায় ফাঁস দেওয়ার অভিনয় করছিল সে। কিন্তু মুহূর্তের অসাবধানতায় সেই অভিনয়ই সত্যিকারের ফাঁসে পরিণত হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘটে যায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা—জীবনের শেষ ভিডিও হয়ে যায় সেই ভিডিও।

দীর্ঘ সময় রাজ নিচে না নামায় তার ছোট বোন তাকে খুঁজতে গিয়ে ঘরের ভেতর ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রাজ স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

হঠাৎ এমন মৃত্যুর খবরে পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। সবচেয়ে বেশি ভেঙে পড়েছেন তার মা ও দাদী। বুকফাটা কান্নায় শোকাহত মা বারবার বলছিলেন—

টিকটক আমার সর্বনাশ করে দিছে, আমার সন্তান কেড়ে নিছে…

একটি পরিবারের স্বপ্ন, একটি মায়ের বুকের ধন, একটি তরুণ জীবনের সব সম্ভাবনা—সবকিছু শেষ হয়ে গেল কয়েক মিনিটের এক ভিডিওর জন্য।

আজকের এই ঘটনা আমাদের সমাজের জন্য বড় এক সতর্কবার্তা। ভাইরাল হওয়ার প্রতিযোগিতা, সস্তা জনপ্রিয়তার লোভ এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভিডিও তৈরির প্রবণতা ধীরে ধীরে তরুণ প্রজন্মকে বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

ভিও বা লাইক জীবনের চেয়ে বড় নয়।

একটি ভিডিও কখনোই একটি জীবনের সমান হতে পারে না।

অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ—আপনার সন্তান ইন্টারনেটে কী করছে, কী ধরনের ভিডিও বানাচ্ছে, কার প্রভাবের মধ্যে রয়েছে—সেদিকে নজর দিন।

একটি প্রশ্ন এখন সবার সামনে—

এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভিডিও বানানোর প্রবণতা বন্ধে আমরা কী করতে পারি?

টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো কি আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন?

এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিন। সচেতন হোন, অন্যদেরও সচেতন করুন।

পোস্টটি শেয়ার করুন—হয়তো একটি শেয়ারই আরেকটি জীবন বাঁচাতে পারে।

সর্বশেষ