ঝিনাইদহে পেট্রোলপাম্পে মোটরসাইকেলে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নিরব (২২) নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৭ মার্চ) রাত প্রায় ১০টার দিকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পৌর এলাকার তাজ ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে।
নিহত নিরব কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার এলাকার বাদুরগাছা গ্রামের আলীমুর রহমানের ছেলে। তবে তিনি ঝিনাইদহ শহরের পৌর এলাকার ব্যাপারীপাড়ায় তার পালক পিতা আবুল কাশেমের সঙ্গে বসবাস করতেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার রাতে নিরব ও তার এক বন্ধু মোটরসাইকেলে করে তাজ ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে যান। কিন্তু পাম্পকর্মীরা মোটরসাইকেলে তেল দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। বিষয়টি মেনে নিয়ে তারা সেখান থেকে চলে যেতে উদ্যত হন। কিন্তু কিছু দূর যাওয়ার পর দেখতে পান, অন্য একজনকে পাঁচ লিটারের বোতলে তেল দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় তারা প্রশ্ন তুললে পাম্পকর্মীদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
এক পর্যায়ে কথা কাটাকাটি সংঘর্ষে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় পাম্পকর্মীদের একজন লাঠি দিয়ে নিরবকে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের পালক পিতা আবুল কাশেম বলেন, “মোটরসাইকেলে তেল না দিয়ে অন্যদের বোতলে তেল দেওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করায় পাম্পকর্মীরা নিরবকে মারধর করে।”
এ ঘটনায় ঝিনাইদহের ‘দ্যা রেড জুলাই’ সংগঠনের যুগ্ম সদস্য সচিব আবু হাসনাত তানাইম বলেন, বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলায় তাদের এক সহযোদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সুমন জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই নিরবের মৃত্যু হয়েছে।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সামসুল আরেফিন বলেন, তেল নেওয়া নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে লাঠির আঘাতে নিরবের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত মূল তিন আসামিকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মতামত দিন