• ২০২৬ এপ্রিল ১২, রবিবার, ১৪৩২ চৈত্র ২৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৩:০৪ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

কুকুরের কামড়ে জলাতঙ্ক রোগীর মৃত্যু প্রায় অনিবার্য।

  • প্রকাশিত ০৩:০৪ অপরাহ্ন রবিবার, এপ্রিল ১২, ২০২৬
কুকুরের কামড়ে জলাতঙ্ক রোগীর মৃত্যু প্রায় অনিবার্য।
file
হাসিনুর রহমান হাসু। টাইম বাংলা নিউজ ডেস্ক।

কুকুরের কামড়ে জলাতঙ্ক রোগীর মৃত্যু প্রায় অনিবার্য। 

দেশে কুকুরের কামড়ে প্রাণঘাতী রোগ জলাতঙ্ক-এর ঝুঁকি দিন দিন বাড়লেও প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিনের অপ্রতুলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে ভ্যাকসিনের সংকটের কারণে সাধারণ মানুষ পড়ছে চরম বিপাকে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে জলাতঙ্কে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু প্রায় অনিবার্য হওয়ায় বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্প্রতি ঝিনাইদহ জেলায় একাধিক শিশু কুকুরের কামড়ের শিকার হওয়ার ঘটনায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, আক্রান্তদের অনেকেই দ্রুত চিকিৎসা ও ভ্যাকসিনের জন্য দৌড়ঝাঁপ করেও ইউনিয়ন বা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না পেয়ে হতাশ হয়েছেন।

ভ্যাকসিন সংকটে বিপর্যস্ত গ্রামাঞ্চল:

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অধিকাংশ ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র কিংবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন মজুদ থাকে না। ফলে রোগীকে বাধ্য হয়ে বিভাগীয় শহরের হাসপাতালে যেতে হয়। এতে সময়, অর্থ ও ভোগান্তি—সবকিছুরই চাপ বেড়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এই ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে, যা জীবন ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

 সচেতনতার অভাব ও প্রশাসনিক উদাসীনতা:

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলাতঙ্ক সম্পর্কে সচেতনতার অভাব এবং ভ্যাকসিন সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা পরিস্থিতিকে জটিল করছে। কুকুরের কামড়ের পর দ্রুত সাবান পানি দিয়ে ক্ষত ধোয়া এবং নির্ধারিত সময়ে ভ্যাকসিন গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি হলেও অনেকেই তা জানেন না বা গুরুত্ব দেন না।

শিশুদের ঝুঁকি বেশি:

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, কুকুরের আক্রমণের শিকারদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যা বেশি। খেলাধুলার সময় তারা বেশি ঝুঁকিতে থাকে এবং অনেক সময় ঘটনাটি গোপনও করে, ফলে চিকিৎসা পেতে দেরি হয়।

 করণীয় কী?

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট মোকাবেলায় জরুরি ভিত্তিতে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন—

১। প্রতিটি ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন নিশ্চিত মজুদ রাখা

২। স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি

৩। কুকুর নিয়ন্ত্রণ ও টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা

৪। গণসচেতনতা বাড়াতে প্রচারণা চালানো

 সরকারের প্রতি আহ্বান:

ভুক্তভোগী পরিবার ও সচেতন মহল দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রতিটি স্তরের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভ্যাকসিন সহজলভ্য করা না গেলে প্রতিবছরই এভাবে অকালে প্রাণ হারাবে নিরীহ মানুষ।

শেষ কথা:

জলাতঙ্ক একটি শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য রোগ হলেও সময়মতো চিকিৎসা না পেলে তা নিশ্চিত মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই অবহেলা নয়, দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপই পারে অসংখ্য প্রাণ বাঁচাতে।

সর্বশেষ