১৭ই এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ গ্রহণ করে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি এবং ১৯৭০ এর নির্বাচনে বিজয়ী শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে গঠিত এই সরকারের অধীনেই আমাদের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয় এবং বিশ্ব-মানচিত্রে নতুন স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
এই দিনে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। শ্রদ্ধা জানাচ্ছি পঁচাত্তরে শহীদ জাতীয় চার নেতা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী ৩০ লক্ষ শহীদ, সম্ভ্রম হারানো প্রায় তিন লক্ষ মা-বোন এবং সকল পর্যায়ের মুক্তিযোদ্ধা ও সংগঠকদের প্রতি।
মুজিবনগর দিবসের চেতনা আজ আমাদের জন্য আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে দেখছি, মুক্তিযুদ্ধের প্রধান অর্জন ১৯৭২ সালে প্রণীত সংবিধানকে বাতিলের ষড়যন্ত্র চলছে। এই সংবিধান শহীদের রক্তে ভেজা এক পবিত্র দলিল, যা আমাদের অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি। এই সংবিধানকে যারা বাতিল করতে চায়, তারা মূলত বাংলাদেশের স্বাধীনতার মৌল চেতনাবিরোধী। আওয়ামী লীগ বিহীন ষড়যন্ত্রের নির্বাচনের সুযোগে ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের প্রধান দলটি আজ জাতীয় সংসদে বিরোধী দল হিসেবে আসীন। যে অপশক্তি আমাদের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল এবং আমাদের স্বজনদের রক্তে হাত রাঙিয়েছিল, তাদের এই আস্ফালন শহীদের রক্তের সাথে নির্লজ্জ বিদ্রূপ।
হৃত গৌরব ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশকে পুনরুদ্ধার করতে আমি দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাই। আজকের দিনে আমাদের শপথ হোক, সকল ষড়যন্ত্র ছিন্ন করে আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা এবং একটি অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবোই।
মতামত দিন