• ২০২৬ এপ্রিল ২২, বুধবার, ১৪৩৩ বৈশাখ ৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:০৪ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

আমেরিকা ইরানে কেন আক্রমণ করলো জানেন কি ?

  • প্রকাশিত ০৮:০৪ অপরাহ্ন বুধবার, এপ্রিল ২২, ২০২৬
আমেরিকা ইরানে কেন আক্রমণ করলো জানেন কি ?
File
রেজাউল ইসলাম আশিক

আমেরিকা ইরানে আক্রমণ করলো কেনো?


মূলত একটি কারণ দেখিয়ে আমেরিকা ও ইজরাইলের ইরান আক্রমণ - 

(১) নিরাপত্তা হুমকি, যা পৃথিবীর সবচাইতে আদি ও গ্রহণযোগ্য কারণ। সেই একটি কারণ আবার দুইটি ভাগে বিভক্ত - (১) ইরানের ইউরেনিয়াম এনরিচমেন্ট প্রকল্প (২) ইরানের মিসাইল প্রকল্প।


পৃথিবীর প্রায় ২০০ টি দেশের মধ্যে ও ৩২ টি নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যাট থাকা দেশের মধ্যে মাত্র ১০-১২ টি দেশের এনরিচমেন্ট কেইপেবিলিটি আছে। এমনকি ইউনাইটেড স্টেইটস অব আমেরিকা - পৃথিবীর প্রায় ৪০০ টি নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের মধ্যে প্রায় ১০০ টিই যেই দেশে অবস্থিত - সেই দেশেরও এনরিচমেন্ট কেইপেবিলিটি তাঁদের মোট ডিমান্ডের মাত্র ২০%। বাকি ৮০% তাঁরা আমদানী করে। এই আমদানীর প্রায় ২৫% আবার আসে আর্চ রাইভাল রাশার কাছ থেকে। আমেরিকার সবচাইতে স্ট্র্যাটেজিক ম্যাটেরিয়াল আসে সবচাইতে স্ট্রাটেজিক অ্যাডভার্সারির কাছ থেকে - ভাবা যায়!


ফলশ্রুতিতে, ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে আমেরিকা ডমেস্টিক ইউরেনিয়াম এনরিচমেন্ট কেইপেবিলিটি বাড়াতে উঠেপড়ে লেগেছে।


আরও ব্যাপার হচ্ছে, আমেরিকার ডমেস্টিক যেই ২০% এনরিচমেন্ট কেইপবেলিটি রয়েছে, সেগুলোর সিংহভাগ আসে দুই বিদেশি কোম্পানী বৃটিশ-জার্মান-ডাচ ইউরেনকো ও ফ্রেঞ্চ ওরানো থেকে। আবার আমেরিকায় এনরিচড ইউরেনিয়াম থেকে ফুয়েল বানানোর প্রধান কোম্পানি ফ্র‍্যামাটোম একটি ফ্রেঞ্চ কোম্পানি। নিউক্লিয়ার এনার্জি, নিউক্লিয়ার ওয়াপন, ইউরেনিয়াম এনরিচমেন্ট - সকল প্রযুক্তির আবিষ্কারক ও সর্বোচ্চ ব্যবহারকারী যেই আমেরিকা, সেই আমেরিকাই কিনা এতো সিরিয়াস ও স্ট্র‍্যাটেজিক একটি এরিয়াতে এতোটা পরনির্ভরশীল।


এই যখন অবস্থা, তখন কোথাকার কোন ইরান এনরিচমেন্ট প্রকল্প হাতে নিয়ে বসে আছে, যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল ঘটনা। ইউরেনিয়াম এনরিচমেন্ট অত্যন্ত জটিল প্রজেক্ট ও এই কাজ সকলের পক্ষে করা সম্ভব না। পাকিস্তানের পারমাণবিক প্রকল্পের জনক একিউ খান পশ্চিমে চাকরি করার সময় ইউরেনিয়াম এনরিচমেন্টের টেকনোলজি চুরি করে পাকিস্তানের কাছে পাচার করেন। পরবর্তীতে লিবিয়া, নর্থ কোরিয়া, ইরানসহ অনেকের কাছে বিক্রি করেন। ধারণা করা হয়, মিসাইল টেকনোলজি শেয়ার করার বিনিময়ে ইরান নর্থ কোরিয়ার কাছ থেকে এনরিচমেন্ট টেকনোলজির ব্লু প্রিন্ট হাতে পেয়েছে।


কোনো দেশের এনরিচমেন্ট কেইপেবিলিটি থাকার বিপদ হচ্ছে, পাওয়ার প্ল্যান্ট গ্রেড এনরিচমেন্ট থেকে ওয়াপন গ্রেড এনরিচমেন্টে যাওয়া অত্যন্ত সহজ কাজ। ইট'স লাইক, এক টন বালু ও চিনির মিশ্রণ ছেঁকে ২০ টি বালুকণা ও ৩ টি চিনিকণায় আসা যতো কঠিন কাজ, তারপর ২০ টি বালুকণা ছেঁকে সেখান থেকে ৩ টি চিনিকণা আলাদা করা অনেক সহজ। তাই কোনো দেশের এনরিচমেন্ট কেইপেবিলিটি থাকার মানে সেই দেশ চাইলেই ওয়াপন গ্রেড এনরিচমেন্ট করতে সক্ষম। পৃথিবীর হাতে গোণা কয়েকটি দেশের মধ্যে ইরান সেই সক্ষমতা অর্জন করেছে ও কেনো করেছে তা ভ্যালিড প্রশ্নের জন্ম দেয়।


২০১১ সালে ইরান তাঁদের একমাত্র নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট উদ্বোধন করে। নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের বিপদ হচ্ছে, এখান থেকে প্লুটোনিয়াম এক্সট্রাক্ট করা সম্ভব। প্লুটোনিয়াম হচ্ছে পারমাণবিক বোমা বানানোর মূলধন। কিন্তু এই জিনিস প্রকৃতিতে বিরাজ করে না। কেবল নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে পাওয়া যায়। তাই যেসব দেশের নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট ও এনরিচমেন্ট কেইপেবিলিটি রয়েছে, সেসব দেশকে কড়া মনিটরিংয়ে রাখা হয়। কিন্তু নিকট অতীতে ইরান আন্তর্জাতিক মনিটরিং সংস্থাকে অ্যাক্সেস দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে। তারপর ৬০% ইউরেনিয়াম এনরিচ করেছে। নট গুড।


এই যখন একটি দেশের অবস্থা, একের পর এক প্রশ্নবিদ্ধ কাজ করে যাচ্ছে, ও পাশাপাশি আমেরিকা ও ইজরাইলকে উড়িয়ে দেয়ার লাগাতার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে - তখন সেখানে মিলিটারি অপারেশান চালানো পৃথিবীর সবচাইতে ভ্যালিড কাজ। এর মধ্যে অনেক ধরণের রাজনীতি রয়েছে সত্যি, তবে বটবাহিনী যেভাবে আমেরিকা ও ইজরাইলের অভিযানকে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বলে প্রচার করছে - বাস্তবতা তেমন নয়। দে গট ভ্যালিড রিজনস।


ফলশ্রুতিতে, আমেরিকা যখন ইরানকে শর্ত দেয় যে তাঁদেরকে এনরিচমেন্ট কেইপেবিলিটি শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি সীমিত করতে হবে - এটা কোনো অন্যায্য চাওয়া নয়। পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশেরই এনরিচমেন্ট কেইপেবিলিটি নেই। যাদের পাওয়ার প্ল্যান্ট রয়েছে তাঁরা বিদেশ থেকে নিউক্লিয়ার ফুয়েল ইমপোর্ট করে। খোদ আমেরিকা ৮০% এনরিচড ইউরেনিয়াম বিদেশ থেকে ইম্পোর্ট করে।

সর্বশেষ