প্রবাসীরা শুধু মানুষ নন, তারা আমাদের দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান শক্তি। বছরের পর বছর পরিবার-পরিজনের মুখে হাসি ফোটাতে নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করেন। সেই কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে প্রিয়জনদের জন্য ভালোবাসার ছোট্ট কিছু উপহার নিয়ে দেশে ফেরেন। কিন্তু কতটা হৃদয়বিদারক, যখন সেই স্বপ্নের উপহারগুলো বিমানবন্দরেই চুরি হয়ে যায় বা লাগেজ ভেঙে মূল্যবান জিনিসপত্র হারিয়ে যায়!
শুধু তাই নয়, অনেক প্রবাসী অভিযোগ করেন—বিমানবন্দরে দায়িত্বে থাকা কিছু কর্মচারীর অসৌজন্যমূলক আচরণেরও শিকার হতে হয়। অথচ দেশের প্রবেশদ্বার হিসেবে বিমানবন্দরই হওয়া উচিত সবচেয়ে নিরাপদ, সেবামুখী ও সম্মানজনক একটি স্থান।
সম্প্রতি হজ পালন শেষে দেশে ফেরা ১৩০ জন হজযাত্রীর লাগেজ ও মালামাল চুরির ঘটনা এবং প্রবাসীদের লাগেজ কেটে বা ভেঙে মালামাল চুরির অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এটি অবশ্যই একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে তদন্তের পাশাপাশি দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করাও জরুরি।
সরকারের উচিত এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া। যেখানে অনিয়ম, দুর্নীতি বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিলবে, সেখানে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া উচিত নয়। কারণ কয়েকজন অসাধু ব্যক্তির কারণে আজ দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে, প্রবাসীদের আস্থা নষ্ট হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সম্মান প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
মতামত দিন