যুক্তরাষ্ট্রে স্ত্রী হত্যার অভিযোগে ভারতীয় সফটওয়্যার প্রকৌশলী গ্রেপ্তার, নয় মাসের তদন্তে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে স্ত্রীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে ভারতীয় সফটওয়্যার প্রকৌশলী অবিনাশ নার্নে (৩০)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার প্রায় নয় মাস ধরে চলা বিস্তৃত তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রির পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য, যা মামলাটিকে আরও জটিল ও আলোচিত করে তুলেছে।
বেলভিউ পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর নিজ বাসায় স্ত্রী রাজিথা সাব্বিনেনি (২৭)-কে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন অবিনাশ। এরপর ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন তিনি।
ঘটনার দিন জরুরি নম্বরে ফোন করে অবিনাশ দাবি করেন, তার স্ত্রী বাথরুমে আটকে আছেন এবং কোনো সাড়া দিচ্ছেন না। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে রাজিথার মরদেহ উদ্ধার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অবিনাশ জানান, তিনি প্রায় ৪০ মিনিটের জন্য কেনাকাটায় বাইরে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে স্ত্রীকে বাথরুমে আটকে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। তবে তদন্তে ওই সময়ের মধ্যে বাসায় অন্য কোনো ব্যক্তির প্রবেশ বা উপস্থিতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যা তার বক্তব্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
ঘটনার পরদিন কিং কাউন্টির মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয়ের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়, অক্সিজেনের অভাবে শ্বাসরোধ হয়ে রাজিথার মৃত্যু হয়েছে এবং এটি একটি স্পষ্ট হত্যাকাণ্ড।
তদন্তের অগ্রগতিতে আরও জানা যায়, ভারতের এক নারীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে অবিনাশের গোপন প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তদন্তকারীদের দাবি, সেই সম্পর্ক চলমান থাকতেই তিনি পারিবারিকভাবে রাজিথাকে বিয়ে করেন। এমনকি ওই নারী বিয়ের অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন এবং বিয়ের পরও তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত ছিল।
পুলিশের তথ্যমতে, হত্যাকাণ্ডের দিন অবিনাশ অন্তত চারবার ওই নারীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। এমনকি পুলিশকে ফোন করে ঘটনার বর্ণনা দেওয়ার সময়ের কাছাকাছিও তাদের মধ্যে যোগাযোগ হয়েছিল। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, স্ত্রীকে হত্যার পর রাজিথার মরদেহের একটি ছবিও তিনি ভারতে থাকা ওই নারীর কাছে পাঠিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, রাজিথার মোবাইল ফোন থেকে উদ্ধার হওয়া বার্তাগুলোও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সেসব বার্তায় দেখা যায়, তিনি একাধিকবার স্বামীকে জানিয়েছিলেন যে তার তৈরি পানীয়ের স্বাদ অস্বাভাবিক তিক্ত লাগছে। মৃত্যুর দিন পাঠানো এক বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, স্মুদিটির স্বাদ ‘ওষুধ’ ও ‘কাশির সিরাপের’ মতো মনে হচ্ছে। তদন্তকারীরা এসব তথ্যও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছেন।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ৫ জুলাই অবিনাশ নার্নের বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রির পরিকল্পিত হত্যার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। বর্তমানে ৫০ লাখ মার্কিন ডলার জামিন নির্ধারণের শর্তে তিনি পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।
মামলাটির তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে। তদন্তকারীরা ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য, সম্ভাব্য পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহে কাজ করে যাচ্ছেন।
প্রয়োজনে এটিকে আরও সংবাদপত্র-শৈলীতে, টিভি নিউজ স্ক্রিপ্টে বা অনলাইন পোর্টালের ফিচারধর্মী প্রতিবেদনের ভাষায়ও সাজিয়ে দিতে পারি।
মতামত দিন