• ২০২৬ Jul ২৯, বুধবার, ১৪৩৩ শ্রাবণ ১৩
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:০৭ পূর্বাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

সাড়ে সাত বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৭ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর, অর্ধেকের বেশি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়

  • প্রকাশিত ১২:০৭ পূর্বাহ্ন বুধবার, Jul ২৯, ২০২৬
সাড়ে সাত বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৭ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর, অর্ধেকের বেশি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়
File
মোঃ সেলিম মিয়া বিশেষ প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ

সাড়ে সাত বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৭ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর, অর্ধেকের বেশি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়


দেশে গত সাড়ে সাত বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৩৬৪ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় সড়ক দুর্ঘটনায় মোট নিহতের প্রায় ১৫ শতাংশই ছিলেন শিক্ষার্থী। নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়, যেখানে চালক ও আরোহী মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা অর্ধেকেরও বেশি।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রোড সেফটি ফাউন্ডেশন প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সংগঠনটি ২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণ করে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচ্য সময়ে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ৪৮ হাজার ৭১৩ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৭ হাজার ৩৬৪ জন ছিলেন বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থী, যা মোট মৃত্যুর ১৫ দশমিক ১১ শতাংশ।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিহতদের মধ্যে ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ৩ হাজার ৩২৮ জন এবং ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থী ৪ হাজার ৩৬ জন।

দুর্ঘটনার ধরন অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি ৩ হাজার ৮৪১ জন শিক্ষার্থী মোটরসাইকেলের চালক বা আরোহী হিসেবে প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া পথচারী অবস্থায় ১ হাজার ৯২৩ জন, বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী হিসেবে ৯২৭ জন, রিকশা ও সাইকেলের আরোহী হিসেবে ৫১৯ জন এবং অটোরিকশার চাকায় ওড়না বা পোশাক পেঁচিয়ে ১৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্থানভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আঞ্চলিক সড়কে সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ১৪৯ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া গ্রামীণ সড়কে ১ হাজার ৯৪৭ জন, শহরের সড়কে ১ হাজার ৭৮৬ জন এবং মহাসড়কে ১ হাজার ৪৮২ জন নিহত হয়েছেন।

সংগঠনটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ৫ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের বড় একটি অংশ স্কুলে যাওয়া-আসা কিংবা বাড়ির আশপাশে খেলাধুলার সময় অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও পণ্যবাহী যানবাহনের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছে। অন্যদিকে ১৩ থেকে ২৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের অধিকাংশ মৃত্যু ঘটেছে মোটরসাইকেল চালানো বা আরোহী থাকার সময়, বিশেষ করে আঞ্চলিক সড়ক ও মহাসড়কে।

বছরভিত্তিক হিসাবে ২০১৯ সালে ৬৯৩ জন, ২০২০ সালে ৭১৯ জন, ২০২১ সালে ৯৩৬ জন, ২০২২ সালে ১ হাজার ৩৮৫ জন, ২০২৩ সালে ১ হাজার ১৫৩ জন, ২০২৪ সালে ১ হাজার ৭৩ জন, ২০২৫ সালে ১ হাজার ১৪ জন এবং ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ৩৯১ জন শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মতে, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক অবকাঠামো, অনিরাপদ যানবাহন, ট্রাফিক আইন অমান্য, বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতার অভাব এবং পরিবহন খাতে শৃঙ্খলার ঘাটতি শিক্ষার্থীদের প্রাণহানির প্রধান কারণ।

সংগঠনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রম, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, পাঠ্যক্রমে সড়ক নিরাপত্তা শিক্ষা অন্তর্ভুক্তি, অনিরাপদ যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের মোটরসাইকেল চালানো বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের সুপারিশ করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০১৮ সালে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলন হলেও এখনো সড়ক পরিবহন খাতে কার্যকর শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা হয়নি। দুর্ঘটনা কমাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি বিদ্যমান সড়ক পরিবহন আইনের কঠোর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

সর্বশেষ