• ২০২৬ অগাস্ট ০৮, শনিবার, ১৪৩৩ শ্রাবণ ২৪
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৫:০৮ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের দুই বছর: রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে নতুন রাজনৈতিক টানাপোড়েন

  • প্রকাশিত ০৫:০৮ অপরাহ্ন শনিবার, অগাস্ট ০৮, ২০২৬
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের দুই বছর: রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে নতুন রাজনৈতিক টানাপোড়েন
টাইম বাংলা নিউজ
বিশেষ প্রতিনিধি : মোঃ শাখাওয়াত হোসেন

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের দুই বছর: রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে নতুন রাজনৈতিক টানাপোড়েন

বিশেষ প্রতিনিধি: মোঃ সাখাওয়াত হোসেন | টাইম বাংলা নিউজ

ঢাকা: জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তিতে রাষ্ট্র সংস্কারের অগ্রগতি, সংবিধান সংশোধন এবং রাজনৈতিক ঐকমত্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা সামনে এসেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। রাষ্ট্রকাঠামোর মৌলিক সংস্কার ছিল সেই সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। তবে দুই বছর পরও সংস্কারের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে ঝুলে রয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন ও পুলিশ সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়। পরে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরির লক্ষ্যে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে দীর্ঘ আলোচনা হয় এবং ৮৪টি প্রস্তাব নিয়ে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ তৈরি করা হয়। এর মধ্যে ৪৮টি প্রস্তাব ছিল সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত।

নির্বাচনের পর সংবিধান সংস্কারের বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা থাকলেও বিএনপির সংসদ সদস্যরা এতে শপথ নেননি। দলটির পক্ষ থেকে ওই বাস্তবায়ন আদেশের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতৃত্বাধীন জোটের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের একটি অংশ সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

এরই মধ্যে জাতীয় সংসদ ১২ সদস্যের একটি ‘সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি’ গঠন করেছে। কমিটি জুলাই জাতীয় সনদের পাশাপাশি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের প্রস্তাবগুলোও বিবেচনা করে সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে সুপারিশ দেওয়ার কাজ করছে। তবে বিরোধী দল এই কমিটি প্রত্যাখ্যান করেছে।

সংস্কারের আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১১০টি সংসদ অনুমোদন করেছে। তবে বিচারক নিয়োগ, অধস্তন আদালতের স্বাধীনতা, দুর্নীতি দমন কমিশন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও পুলিশ সংস্কারসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর যে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক ঐকমত্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংস্কার নিয়ে মতপার্থক্য অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করার উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হচ্ছে, জুলাই জাতীয় সনদের যেসব বিষয়ে বিএনপি একমত হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নের পাশাপাশি নির্বাচনী ইশতেহারের অঙ্গীকারগুলোও বিবেচনায় নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নিয়েই প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক পরিবর্তনের সুপারিশ করা হবে।

সব মিলিয়ে, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তির দিনে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে—গণ–অভ্যুত্থানের পর ঘোষিত রাষ্ট্র সংস্কারের প্রত্যাশা কতটা বাস্তবে রূপ নেবে এবং রাজনৈতিক দলগুলো কতটা ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারবে।

সর্বশেষ