দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলে বড় ধরনের অবনতি হয়েছে। এবার বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশে, যা গত সাত বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সঙ্গে কমেছে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যাও।
বোর্ডের গত সাত বছরের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে এবার পাসের হার কমেছে ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় মোট ১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৯৪ জন পরীক্ষার্থী নিবন্ধিত ছিল। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৮০ হাজার ৭৫২ জন। তাদের মধ্যে পাস করেছে ১ লাখ ৪ হাজার ৯২৫ জন। ফলে এবার অকৃতকার্য হয়েছে ৭৮ হাজার ৭৬৯ জন। আর পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল ২ হাজার ৯৪১ জন।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালে এ বোর্ডে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১ লাখ ৮২ হাজার ২৩৪ জন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছিল ১ লাখ ২২ হাজার ১৪৬ জন। সে হিসাবে গত বছরের তুলনায় এবার উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ১৭ হাজার ২২১ জন।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরিসংখ্যান বলছে, গত কয়েক বছর ধরেই পাসের হারে ওঠানামা ছিল। ২০২১ সালে বোর্ডে পাসের হার ছিল ৯৪ দশমিক ৮০ শতাংশ। ২০২২ সালে তা কমে ৮১ দশমিক ১৬ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০২৩ সালে পাসের হার ছিল ৭৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ।
২০২৪ সালে কিছুটা বেড়ে পাসের হার দাঁড়ায় ৭৮ দশমিক ৪৩ শতাংশে। এরপর ২০২৫ সালে তা নেমে আসে ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশে। এবার আরও কমে দাঁড়িয়েছে ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশে।
অর্থাৎ, ২০২১ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার কমেছে ৩৬ দশমিক ৩০ শতাংশীয় পয়েন্ট। আর গত বছরের তুলনায় কমেছে ৮ দশমিক ৮ শতাংশীয় পয়েন্ট।
পাসের হারের পাশাপাশি এবার জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে মোট ১৩ হাজার ৬৩৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
এর মধ্যে ছাত্র ৬ হাজার ৪৮৭ জন এবং ছাত্রী ৭ হাজার ১৫২ জন। অর্থাৎ জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে এবারও ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছে।
২০২৫ সালে এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১৫ হাজার ৬২ জন। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ১ হাজার ৪২৩ জন।
ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে চাইলে দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইলিয়াস আহমেদ মোবাইল ফোনে বলেন, চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের এখনো দুই মাস পূর্ণ হয়নি। তিনি শুধু এবারের ফলাফল প্রকাশের দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি বলেন, ফলাফল কেন কমেছে, এর কারণ এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। বিষয়টি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করে দেখতে হবে—কোথায় সমস্যা হয়েছে এবং কোন বিষয়গুলো এর জন্য দায়ী।
চেয়ারম্যান আরও বলেন, আগে ফলাফল বিশ্লেষণ করা হবে। এরপর পাসের হার কমে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। তাঁর মতে, এবার মোটামুটি দেশের সব শিক্ষা বোর্ডেই ফলাফলে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
মতামত দিন