বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, দুয়েক দিনের মধ্যে তারেক রহমান দলের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন।
রোববার সিলেটের একটি অভিজাত হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা দীর্ঘ ১৫/১৬ বছর গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছি। এই সময়ে ইলিয়াস আলীসহ ১৭০০ নেতাকর্মীকে গুম করে দেওয়া হয়েছে। গোটা দেশে তারা ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেছিল। মানুষের প্রতিরোধের মুখে তারা দেশ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।
চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শূন্য হওয়া পদটি পূরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার শূন্যতা পূরণে তারেক রহমানকেই এই পদে বসানো হবে। বরাবরের মতো সিলেট থেকেই এবারও নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবে বিএনপি।
মির্জা ফখরুল জানান, গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে রাজকীয়ভাবে প্রস্থান করেছেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি আগামীতে যে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন, সেটি গঠনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গে মহাসচিব বলেন, এই নির্বাচন জাতির কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ তার ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। প্রথম থেকেই নির্বাচন চেয়েছে বিএনপি। নির্বাচন নিয়ে মিডিয়া আশঙ্কার কথা বললেও দল হিসেবে বিএনপি শঙ্কাবোধ করে না।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নির্বাচন তার পথে এগিয়ে চলছে। সবার সহযোগিতায় কমিশন নির্বাচন বাস্তবায়ন করবে।
নাগরিকদের ন্যূনতম চাহিদা তুলে ধরে তিনি বলেন, সুশাসন, ন্যায়বিচার ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হলো মানুষের মৌলিক প্রত্যাশা। গণতন্ত্র বা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এক দিনে হয় না। মানুষের প্রচেষ্টার মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
মির্জা ফখরুল উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ইদানীং মবজাস্টিস চালু হয়েছে, যা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।
সকল রাজনৈতিক দলের উদ্দেশে তিনি বলেন, যে সুযোগ পেয়েছি তা কাজে লাগাই। আজকে সুযোগ এসেছে। এই সুযোগকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি একদিনে গড়ে ওঠে না। তিনি গণতান্ত্রিক সংসদ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মতবিনিময়কালে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সিলেট-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেট-৪ আসনে মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট-৩ আসনে মনোনীত প্রার্থী এম এ মালিক, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট-৬ আসনে মনোনীত প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকিসহ জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
মতামত দিন