• ২০২৬ Jul ০১, বুধবার, ১৪৩৩ আষাঢ় ১৭
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:০৬ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

রানা প্লাজা থেকে বেঁচে ফেরা নাসিমা আক্তারের করুণ পরিণতি: পদ্মায় বাসডুবিতে মৃত্যু।

  • প্রকাশিত ০৯:০৭ পূর্বাহ্ন বুধবার, Jul ০১, ২০২৬
রানা প্লাজা থেকে বেঁচে ফেরা নাসিমা আক্তারের করুণ পরিণতি: পদ্মায় বাসডুবিতে মৃত্যু।
file
হাসিনুর রহমান হাসু। টাইম বাংলা নিউজ ডেস্ক।

রানা প্লাজা থেকে বেঁচে ফেরা নাসিমা আক্তারের করুণ পরিণতি: পদ্মায় বাসডুবিতে মৃত্যু।

২০১৩ সালের ভয়াবহ Rana Plaza collapse থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা নাসিমা আক্তারের জীবন শেষ পর্যন্ত থেমে গেল আরেক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়। পদ্মা নদীতে বাসডুবির ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনি—যা তার জীবনের এক নির্মম পরিণতির গল্প হয়ে রইল।

জানা যায়, ২০১৩ সালে সাভারের রানা প্লাজা ধসে পড়ার সময় নাসিমা আক্তার ধ্বংসস্তূপের নিচে টানা তিন দিন আটকে ছিলেন। চারপাশে মৃত্যু আর আর্তনাদের মধ্যে থেকেও তিনি হার মানেননি। উদ্ধারকর্মীদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় অবশেষে জীবিত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। সেই সময় তার বেঁচে ফেরার ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল এবং অনেকের কাছে তা ছিল এক অনন্য বেঁচে থাকার লড়াইয়ের প্রতীক।

কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—বহু বছর পর আবারও এক দুর্ঘটনা কেড়ে নিল তার জীবন। সম্প্রতি পদ্মা নদীতে একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে গেলে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটে। ওই বাসে থাকা যাত্রীদের মধ্যে নাসিমা আক্তারও ছিলেন। উদ্ধার অভিযান চালিয়ে অনেককে জীবিত উদ্ধার করা হলেও, শেষ পর্যন্ত তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তৎপরতা শুরু করে। নদীর স্রোত এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হলেও দীর্ঘ চেষ্টার পর হতাহতদের উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নাসিমা আক্তারের জীবনের গল্প যেন একদিকে বেঁচে থাকার অদম্য সংগ্রামের, অন্যদিকে ভাগ্যের নির্মম পরিহাসের প্রতিচ্ছবি। যে মানুষটি একবার মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছিলেন, তাকেই শেষ পর্যন্ত হার মানতে হলো আরেকটি দুর্ঘটনার কাছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন দুর্ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—জীবন কতটা অনিশ্চিত। প্রতিদিনের চলার পথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং পরিবহন ব্যবস্থায় আরও সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।

নাসিমা আক্তারের এই করুণ পরিণতি শুধু একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়; এটি আমাদের সমাজের জন্যও এক গভীর বার্তা—জীবন কখন, কোথায় থেমে যাবে, তা কেউ জানে না। কিছু গল্প শুধু বেঁচে থাকার নয়, ভাগ্যের নিষ্ঠুরতারও নিঃশব্দ সাক্ষী হয়ে থাকে।


সর্বশেষ