নরসিংদীর জেলা প্রশাসক আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত দাবি নাগরিকদের
জেলা প্রতিনিধি: আক্তারুজ্জামান বাবু
নরসিংদীর সদ্য প্রত্যাহার হওয়া জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এলআর ফান্ডের নামে অর্থ সংগ্রহ থেকে শুরু করে এলএ শাখায় অগ্রিম টাকা গ্রহণ, রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং ব্যক্তিগত অনলাইন কেনাকাটার বিল সরকারি খাতে চাপানোর অভিযোগে জেলাজুড়ে বিস্তর আলোচনা চলছে।
অভিযোগ রয়েছে—
এলআর ফান্ডের নামে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হলেও তার সঠিক হিসাব পাওয়া যায়নি।
এলএ শাখায় ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অগ্রিম ২০ শতাংশ টাকা নেওয়া হয়েছে, যেখানে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
জেলা প্রশাসকের সরকারি বাসভবনে মাসে প্রায় ১–১.৫ লাখ টাকার অনলাইন কেনাকাটার পার্সেল পৌঁছাতো, যেগুলো ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’তে পরিশোধ করা হতো।
এছাড়া নারানপুরের এক ইটালি প্রবাসীর পুকুরকে স-মিল দেখানো এবং স-মিলকে পুকুর দেখিয়ে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে এলএ অফিসার মুন্নি, সাইফুল ও একটি দালালচক্রের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারী সংবাদ সম্মেলনও করেছেন।
পরবর্তীতে তাদের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপার চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
এদিকে, এসএ টিভির সাংবাদিক সজল ভুইয়ার দাবি, সাংবাদিকদের ‘ম্যানেজ’ করতে প্রতি মাসে প্রায় ৬৬ হাজার টাকা প্রদান করা হয়, যা এলএ শাখা এবং এডিসি রেভিনিউর মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি ১০০ সাংবাদিকের সামনে উল্লেখ করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসক আনোয়ার হোসেনের বক্তব্য জানতে হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এলএ শাখায় জড়িত কর্মকর্তাদের নাম শিগগিরই প্রকাশিত হবে।
এ ঘটনায় জেলায় ব্যাপক সমালোচনা এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি উঠেছে,,,,,
মতামত দিন