• ২০২৬ এপ্রিল ০৫, রবিবার, ১৪৩২ চৈত্র ২১
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:০৪ পূর্বাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের অধ্যাদেশ সংশোধনীসহ পাস হচ্ছে সংসদে ।আইন করে নিষিদ্ধ করা যায় না হীতে বিপরীত হবে সামনে এর পর কি হবে দেশের সেটা কেউ জানে না

  • প্রকাশিত ০১:০৪ পূর্বাহ্ন রবিবার, এপ্রিল ০৫, ২০২৬
আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের অধ্যাদেশ সংশোধনীসহ পাস হচ্ছে সংসদে ।আইন করে নিষিদ্ধ করা যায় না হীতে বিপরীত হবে সামনে এর পর কি হবে দেশের সেটা কেউ জানে না
সংগৃহীত ছবি
বিশেষ প্রতিনিধি

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিধান সংবলিত ‘সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ সংশোধনীসহ পাসের সুপারিশ করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা শেষে বিশেষ কমিটি চূড়ান্ত রিপোর্টে এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটির প্রধান জয়নুল আবদিন এমপি প্রতিবেদনটি পেশ করেন। আওয়ামীলীগ নিষিদ্ধ সহ জেল জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। 

তবে এগুলো করে দেশকে বিভক্ত করার চেষ্টা চলছেনা তো বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। অতীতের থেকেও শিক্ষা নিতে হবে।

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ কেবল একটি রাজনৈতিক দল নয়, বরং এটি লক্ষ লক্ষ পরিবারের কয়েক প্রজন্মের লালিত আদর্শ ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। 

আইন জারি করে বা শাস্তির ভয় দেখিয়ে একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের বিশ্বাস ও আবেগকে নির্মূল করা প্রায় অসম্ভব। অতীতেও দেখা গেছে, যখনই কোনো আদর্শিক শক্তির ওপর রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন বা জুলুম চালানো হয়েছে, সাধারণ সমর্থকরা ততই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে উঠেছে। 

বর্তমান প্রেক্ষাপটে নির্যাতনের মাত্রা যত বাড়ছে, সাধারণ ভোটার ও সমর্থকদের মধ্যে পাল্টা প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হচ্ছে। এই চাপ সমর্থকদের আরও একনিষ্ঠ বা 'ডাইহার্টেড' কর্মীতে রূপান্তর করছে, যারা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে এই চেতনাকে বহন করে নিয়ে যাবে।

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে সম্পূর্ণভাবে মুছে দেওয়ার প্রচেষ্টায় গণ-গ্রেপ্তার বা কঠোর আইনের প্রয়োগ শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। 

লক্ষ লক্ষ সমর্থককে শাস্তির আওতায় আনতে গেলে পুরো দেশকেই এক বিশাল কারাগারে রূপান্তর করতে হবে, যা কোনো স্থিতিশীল শাসনব্যবস্থার লক্ষণ হতে পারে না। 

আওয়ামী লীগ মানে কেবল কিছু নেতা নয়, বরং এর প্রাণশক্তি হলো সেই কোটি কোটি আবেগপ্রবণ সমর্থক যারা মাঠ পর্যায়ে দলটিকে টিকিয়ে রাখে। এদের জনভিত্তি এবং সহনশীলতাকে অবজ্ঞা করলে সরকারকে ভবিষ্যতে চরম মূল্য দিতে হতে পারে। 

বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া ও বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাস সাক্ষী দেয় যে, যখনই কোনো জনপ্রিয় রাজনৈতিক ধারাকে আইন দিয়ে দাবিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, তারা আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে এসেছে অথবা দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারকে তাই আবেগের চেয়ে বাস্তবতাকে প্রাধান্য দিয়ে রাজনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজা প্রয়োজন, কারণ ইতিহাস বলে দমনের রাজনীতি শেষ পর্যন্ত হিতে বিপরীত ফলাফলই বয়ে আনে।

.প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূল অধ্যাদেশে আওয়ামী লীগের নাম উল্লেখ করে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের যে ধারা ছিল, সেখানে কিছু পরিবর্তন বা পরিমার্জন এনে এটি পাসের প্রস্তাব করা হয়েছে। দলের বিচার করে আজীবন নিষিদ্ধ হতে পারে সামনে আওয়ামীলীগ। তবে ঠিক কী ধরনের সংশোধনী আনা হচ্ছে, তা প্রতিবেদনে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক জারিকৃত এই অধ্যাদেশে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সত্তা বা সংগঠনের সভা, সমাবেশ, মিছিল এবং প্রকাশনা নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা সরকারকে দেওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে ফ্যাসিবাদী শাসনের অভিযোগে আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যেই এই আইনটি আনা হয়। বিশেষ কমিটি এই অধ্যাদেশটি সরাসরি বাতিলের তালিকায় না রেখে কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে স্থায়ী আইনে রূপান্তরের পক্ষে মত দিয়েছে। এর ফলে দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা আরোপের পথ প্রশস্ত হলো। একতরফা ভাবে দেশ বেশিদিন চালানো যায় না। সামনের দিনগুলো অনিশ্চিত যাত্রা পথে বাংলাদেশ। কবে আসবে স্থায়িত্ব ও শান্তিশৃংখলা কেউ তা জানে না। 

সর্বশেষ