শিবগঞ্জে উদ্ধার হওয়া ৩ কোটি টাকার কষ্টিপাথরের বিষ্ণু মূর্তি মহাস্থান জাদুঘরে হস্তান্তর
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার আটমূল ইউনিয়নের দোপাড়া গ্রাম থেকে উদ্ধার হওয়া প্রাচীন ও মূল্যবান একটি কালো পাথরের (কষ্টিপাথর) বিষ্ণু মূর্তি অবশেষে প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তরের অধীনে থাকা মহাস্থানগড় জাদুঘরে হস্তান্তর করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক আনুমানিক ৩ কোটি টাকা মূল্যের এই পুরাকীর্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে জাদুঘর কর্তৃপক্ষের কাছে সোপর্দ করা হয়।
আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর প্রক্রিয়া
শিবগঞ্জ থানা সূত্রের বরাতে জানা যায়, আদালতের আদেশের পর শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুজ্জামান শাহীন উদ্ধারকৃত এই মূল্যবান বিষ্ণু মূর্তিটি মহাস্থান জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান রাজিয়া সুলতানার কাছে বুঝিয়ে দেন। মূর্তিটি হস্তান্তরের সময় এক আবেগঘন ও আনুষ্ঠানিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন:
রাজিয়া সুলতানা (কাস্টোডিয়ান, মহাস্থান জাদুঘর)
শাহীনুজ্জামান শাহীন (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, শিবগঞ্জ থানা)
শাহরিয়ার শাফী হাসান (সহকারী কাস্টোডিয়ান, মহাস্থান জাদুঘর)
এছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্ধার ও পটভূমি
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে শিবগঞ্জ উপজেলার আটমূল ইউনিয়নের দোপাড়া গ্রামের একটি স্থান থেকে কষ্টিপাথরের এই অমূল্য বিষ্ণু মূর্তিটি উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারকৃত কালো পাথরের এই মূর্তিটির আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূর্তিটি উদ্ধারের পর সেটির সুরক্ষায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশনার আলোকেই এটি সাধারণ মানুষ ও গবেষকদের প্রদর্শনী ও সংরক্ষণের জন্য মহাস্থান জাদুঘরে প্রেরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জাদুঘর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
মূর্তিটি গ্রহণ করে মহাস্থান জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান রাজিয়া সুলতানা বলেন, "এই অঞ্চলটি প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ। এই প্রাচীন বিষ্ণু মূর্তিটি আমাদের ইতিহাসের এক অনন্য দলিল। এটি জাদুঘরে সংরক্ষিত থাকায় সাধারণ মানুষ যেমন প্রাচীন ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে, তেমনি গবেষকদের জন্যও এটি নতুন তথ্য উন্মোচন করতে সাহায্য করবে।"
মূর্তিটি এখন থেকে মহাস্থান জাদুঘরের সংগ্রহশালায় যথাযথ সুরক্ষায় সংরক্ষিত থাকবে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
মতামত দিন