• ২০২৬ Jul ৩১, শুক্রবার, ১৪৩৩ শ্রাবণ ১৫
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:০৭ পূর্বাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও ইছামতী নদীতে সেতু নেই

  • প্রকাশিত ০২:০৭ পূর্বাহ্ন শুক্রবার, Jul ৩১, ২০২৬
স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও ইছামতী নদীতে সেতু নেই
Time Bangla news
মোয়াজ্জেম হোসেন দিনাজপুর প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ

স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও ইছামতী নদীতে সেতু নেই

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাঠের সাঁকো পারাপার, চিরিরবন্দরের হাজারো মানুষের দুর্ভোগ

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার জোত সাতনালা ও দক্ষিণ আলোকমহি গ্রামের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত ইছামতী নদীর ওপর নির্মিত হয়নি একটি স্থায়ী সেতু। ফলে ফেকু বাবনিয়ার ঘাটে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাঠের সাঁকো পার হয়ে চলাচল করতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বেড়ে গেলে দুর্ভোগের পাশাপাশি বেড়ে যায় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নদীর দুই তীরে চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষ এই ঘাট ব্যবহার করেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ না হওয়ায় তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে উঠেছে ভোগান্তি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিটি নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও ভোট শেষ হলে সেই প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবায়ন হয় না। বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও কোনো সেতুর দেখা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগেই সমস্যার সাময়িক সমাধানের চেষ্টা করেন।

এলাকাবাসীর সার্বিক সহযোগিতা এবং তৎকালীন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের উদ্যোগে ২০২৪ সালে প্রায় দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রায় ২০০ ফুট দীর্ঘ একটি কাঠের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে এই সাঁকোটিই দুই পাড়ের মানুষের একমাত্র চলাচলের পথ। তবে কাঠের তক্তাগুলো পুরোনো হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে মানুষকে।

জোত সাতনালা গ্রামের বাবনিয়াপাড়ার কৃষক ফেরদৌস আলী ও ফয়েজউদ্দীন ফয়েজ বলেন, “নির্বাচনের সময় সবাই সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে আর কেউ খোঁজ নেন না। আমরা এখনও ঝুঁকি নিয়েই সাঁকো পার হচ্ছি।”

দক্ষিণ আলোকমহি গ্রামের কৃষক আব্দুস সালাম বলেন, “আমাদের পূর্বপুরুষরাও এই ঘাটে বাঁশের সাঁকো দিয়ে নদী পার হয়েছেন। এখন কাঠের সাঁকো হলেও ঝুঁকি কমেনি। পুরোনো তক্তার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ হলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর হবে।”

সাতনালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. এনামুল হক শাহ্ বলেন, “সাঁকোটির দুই পাশেই স্কুল ও মাদ্রাসা রয়েছে। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে দ্রুত ইছামতী নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।”

এলাকাবাসীর মতে, ইছামতী নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মিত হলে শুধু যাতায়াতের দুর্ভোগই কমবে না; শিক্ষা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশেও নতুন গতি আসবে। তাই দীর্ঘদিনের এই জনদাবি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

সর্বশেষ