হাসিনার দেশত্যাগের দিন পুলিশের গুলিতে ঝরে শতাধিক প্রাণ
৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের বিজয়ের উল্লাসের আড়ালে রক্তাক্ত অধ্যায়; বিভিন্ন এলাকায় প্রাণহানি, সংঘর্ষ ও সহিংসতার অভিযোগ
বিশেষ প্রতিনিধি: মোঃ সাখাওয়াত হোসেন | টাইম বাংলা নিউজ
ঢাকা, ৬ আগস্ট: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করলে রাজধানীসহ সারা দেশে বিজয়ের উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। লাখো মানুষ রাজপথে নেমে এ ঘটনাকে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে উদ্যাপন করলেও, একই দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ এবং প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে, যা দিনটিকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম রক্তাক্ত অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় করে রেখেছে।
বিভিন্ন তথ্য, নথিপত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনকারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত থাকে। এসব ঘটনায় শতাধিক মানুষের প্রাণহানির অভিযোগ উঠে। সবচেয়ে বেশি হতাহতের খবর পাওয়া যায় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, চানখাঁরপুল, উত্তরা এবং ঢাকার পার্শ্ববর্তী আশুলিয়া এলাকায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, যাত্রাবাড়ী এলাকায় পুলিশের গুলিতে ৫২ জন নিহত হন বলে অভিযোগ রয়েছে। রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় গুলিবর্ষণে আরও সাতজন নিহত হওয়ার দাবি করা হয়। এছাড়া উত্তরা ও আশুলিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ, অগ্নিসংযোগ এবং প্রাণহানির একাধিক ঘটনা ঘটে।
এসব ঘটনার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে থানা, সরকারি স্থাপনা ও সরকারি সম্পত্তিতে হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। ফলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম অস্থির হয়ে ওঠে।
৫ আগস্টের এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন তদন্ত, মামলা এবং বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। কয়েকটি ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও বিচার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট একদিকে যেমন গণঅভ্যুত্থানের বিজয়ের প্রতীক হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে, অন্যদিকে বহু প্রাণহানি, সহিংসতা ও মানবিক বিপর্যয়ের কারণে দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে গভীর বেদনা ও শোকের স্মারক হিসেবেও চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
মতামত দিন