• ২০২৬ অগাস্ট ২৮, শুক্রবার, ১৪৩৩ ভাদ্র ১৩
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:০৮ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

যমুনা নদীতে ফেলে দেওয়ার সময় ওষুধভর্তি একটি ট্রাক জনতার হাতে আটকের অভিযোগ।

  • প্রকাশিত ১০:০৮ অপরাহ্ন শুক্রবার, অগাস্ট ২৮, ২০২৬
যমুনা নদীতে ফেলে দেওয়ার সময় ওষুধভর্তি একটি ট্রাক জনতার হাতে আটকের অভিযোগ।
File
হাসিনুর রহমান হাসু। জেলা প্রতিনিধি, টাংগাইল।

যমুনা নদীতে ফেলে দেওয়ার সময় ওষুধভর্তি একটি ট্রাক জনতার হাতে আটকের অভিযোগ। 


টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ যমুনা নদীতে ফেলে দেওয়ার সময় ওষুধভর্তি একটি ট্রাক জনতার হাতে আটকের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা ও ওষুধ সংরক্ষণ-বিতরণ ব্যবস্থার নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ একটি ট্রাকে করে ভূঞাপুর এলাকায় যমুনা নদীতে ফেলে দেওয়ার জন্য নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় স্থানীয় জনতা ট্রাকটি আটক করে। পরে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

প্রতিবছর দেশের স্বাস্থ্য খাতে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা। কিন্তু সরকারি হাসপাতালের ওষুধ যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা না করে যদি তা মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর নদীতে ফেলে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে সরকারি অর্থের ব্যবহার, ওষুধ সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে।

মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ কীভাবে এতদিন হাসপাতালের মজুত ব্যবস্থায় ছিল, সেগুলোর মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে কেন আগে আসেনি এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সেগুলো ধ্বংস বা নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা জরুরি।

এ ঘটনায় শুধু সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল নয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়েরও জরুরি ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে দায়িত্বে অবহেলা, অনিয়ম বা সরকারি সম্পদের অপচয়ের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ অনিয়ন্ত্রিতভাবে নদীতে ফেলে দেওয়া হলে তা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই এ ধরনের ওষুধ নির্ধারিত নিয়ম ও নিরাপদ পদ্ধতিতে ধ্বংস বা নিষ্পত্তি করা উচিত।

ঘাটাইলের ঘটনাটি কেবল একটি উপজেলার বিচ্ছিন্ন ঘটনা কি না, নাকি দেশের অন্যান্য সরকারি হাসপাতালেও একই ধরনের অব্যবস্থাপনা চলছে—তা খুঁজে বের করতে দেশব্যাপী সরকারি ওষুধের মজুত, বিতরণ ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার ওপর নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।

সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মূল লক্ষ্য যেখানে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছে দেওয়া, সেখানে ওষুধের এমন অপচয় কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাই ঘাটাইলের ঘটনাটি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

সর্বশেষ