*"সুপেয় পানির সংকট ভয়াবহ রূপ নিতে পারে" সতর্ক করলেন পানিসম্পদমন্ত্রী ।*
দেশে সুপেয় পানির সংকট ক্রমেই গভীর হচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, চারদিকে বিপুল জলরাশি থাকলেও শিল্পবর্জ্য ও নানা ধরনের দূষণের কারণে সেই পানি মানুষের ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হলে অর্থ দিয়েও নিরাপদ পানি পাওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
রোববার বিকেলে রাজধানীর পানি ভবনে আয়োজিত ‘বিশ্ব নদী দিবস ২০২৬ উদযাপন ও মার্ক এঞ্জেলো রিভার অ্যাওয়ার্ড গিভিং’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ঢাকার আশপাশে গড়ে ওঠা ১১টি শিল্পাঞ্চলের বর্জ্য পরিবেশের পাশাপাশি নদী ও জলাশয়ের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। ফলে দেশে পানির প্রাচুর্য থাকলেও নিরাপদ ও ব্যবহারযোগ্য পানির সংকট তৈরি হচ্ছে।
ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু গভীর নলকূপ স্থাপন করে এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। তেলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিশ্বে যেভাবে সংঘাত দেখা যাচ্ছে, ভবিষ্যতে সুপেয় পানির জন্যও তেমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তখন অর্থ বা বৈদেশিক মুদ্রা থাকলেও প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া নাও যেতে পারে।
নিজ নির্বাচনি এলাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে নিয়মিত গভীর নলকূপ স্থাপনের আবেদন আসে। কিন্তু চার থেকে সাড়ে চার লাখ মানুষের বিপরীতে বছরে মাত্র ৩০০ থেকে ৫০০টি গভীর নলকূপ স্থাপন করে পানির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, পানিদূষণের প্রভাব শুধু পান করার ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। দূষিত পানিতে গোসল করাও স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। কোথাও কোথাও দূষিত পানিতে মাছ চাষ করা হলেও সেসব মাছ মানুষের খাওয়ার উপযোগী কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বিভিন্ন গবেষণায় পানিতে বিষাক্ত ধাতুর উপস্থিতির বিষয়টিও উঠে এসেছে।
পানির সংকট মোকাবিলায় সবাইকে সম্পৃক্ত করে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান মন্ত্রী। তাঁর মতে, শুধু সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। নদী-খাল রক্ষা, জলাশয় সংরক্ষণ ও খনন কর্মসূচির সঙ্গে সাধারণ মানুষকে যুক্ত করতে হবে।
তিনি বলেন, দেশকে গণতান্ত্রিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্যও এখন সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বর্তমান প্রজন্মকে এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে আগামী প্রজন্ম নিরাপদ পানি ও সুস্থ পরিবেশ নিয়ে বেঁচে থাকতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত ক্ষতির কারণে বাংলাদেশ যে ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ছে, সেগুলো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার ওপরও গুরুত্ব দেন পানিসম্পদমন্ত্রী।
তিনি বলেন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির কারণে বাংলাদেশের যে ন্যায্য অধিকার ও দাবিগুলো রয়েছে, সেগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে।
মতামত দিন