• ২০২৬ অক্টোবর ১৭, শনিবার, ১৪৩৩ কার্তিক ২
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৬:১০ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

এম শামসুল আলমের সতর্কতা: জ্বালানি তেল বেসরকারীকরণে বাড়বে নিরাপত্তাঝুঁকি।*

  • প্রকাশিত ১০:১০ অপরাহ্ন শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
এম শামসুল আলমের সতর্কতা: জ্বালানি তেল বেসরকারীকরণে বাড়বে নিরাপত্তাঝুঁকি।*
Time Bangla news
ফজলে এলাহী সুমন | সাভার প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ!

*এম শামসুল আলমের সতর্কতা: জ্বালানি তেল বেসরকারীকরণে বাড়বে নিরাপত্তাঝুঁকি।* 


 *উপশিরোনাম:* বেসরকারি অলিগোপলি তৈরির আশঙ্কা, সংস্কারের আগে রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ এম শামসুল আলমের। 

জ্বালানি তেলের আমদানি, মজুদ, পরিবহন ও বিপণন বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া হলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম। তাঁর মতে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা দূর না করে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানো হলে প্রতিযোগিতামূলক বাজারের পরিবর্তে কয়েকটি বড় ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সম্প্রতি পরিশোধিত জ্বালানি তেলের আমদানি ও বিপণনে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়াতে নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) খসড়া নীতিমালা তৈরির নির্দেশ দিয়েছে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ।

এ উদ্যোগের সম্ভাব্য প্রভাব তুলে ধরে এম শামসুল আলম বলেন, জ্বালানি তেল সাধারণ কোনো বাণিজ্যিক পণ্য নয়; কৃষি, শিল্প, পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও খাদ্য সরবরাহসহ পুরো অর্থনীতি এর ওপর নির্ভরশীল। ফলে এ খাতের নীতিগত পরিবর্তনে ব্যবসায়িক সুবিধার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা ও জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি, অদক্ষতা ও জবাবদিহির ঘাটতি থাকলে সেগুলো দূর করাই সংস্কারের লক্ষ্য হওয়া উচিত। শুধু মালিকানা পরিবর্তন করলেই দক্ষতা বাড়বে বা দাম কমবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। জ্বালানি তেলের ব্যবসায় বিপুল বিনিয়োগ, বৈদেশিক মুদ্রা, সংরক্ষণাগার ও বিস্তৃত সরবরাহ নেটওয়ার্ক প্রয়োজন হওয়ায় এ খাতে কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের বাজার নিয়ন্ত্রণের ঝুঁকি রয়েছে।

ক্যাবের এই জ্বালানি উপদেষ্টার মতে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শুধু পরিবহন খাতে সীমাবদ্ধ থাকে না; কৃষি উৎপাদন, পণ্য পরিবহন ও শিল্পের ব্যয় বাড়ার মাধ্যমে খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও এর প্রভাব পড়ে। তাই সরবরাহের নিরবচ্ছিন্নতা, সাশ্রয়ী মূল্য এবং সংকটকালে জ্বালানি প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ থাকা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, বেসরকারি খাত পরিবহন, লজিস্টিকস, প্রযুক্তি ও টার্মিনাল পরিচালনার মতো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অংশ নিতে পারে। তবে জ্বালানির কৌশলগত মজুদ, মূল্যনীতি ও সরবরাহ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের হাতে থাকতে হবে।

জ্বালানি খাতে সংস্কারের জন্য বিপিসির কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, আন্তর্জাতিক ক্রয়প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি, ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে বেসরকারি অংশগ্রহণ বাড়ানোর আগে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত প্রভাব মূল্যায়ন এবং ভোক্তা, কৃষক, পরিবহন খাত ও স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়ার আহ্বান জানান।

 *এম শামসুল আলমের মতে, জ্বালানি খাতের সংস্কারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি ও জনগণের স্বার্থ সুরক্ষা; শুধু মালিকানা পরিবর্তন নয়।*

সর্বশেষ