• ২০২৬ জানুয়ারী ১০, শনিবার, ১৪৩২ পৌষ ২৭
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:০১ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

বাংলাদেশিদের জন্য এখন থেকে জামানত বাধ্যতামূলক করল যুক্তরাষ্ট্র

  • প্রকাশিত ০১:০১ অপরাহ্ন শনিবার, জানুয়ারী ১০, ২০২৬
বাংলাদেশিদের জন্য এখন থেকে জামানত বাধ্যতামূলক করল যুক্তরাষ্ট্র
ছবি
অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের বিজনেস (ব্যবসা) ও ট্যুরিস্ট (পর্যটক) ভিসার জন্য বাংলাদেশিদের পাঁচ থেকে ১৫ হাজার ডলার জামানত দিতে হবে। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশিদের জন্য এ নিয়ম কার্যকর হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন গত বছর আগস্টে জাম্বিয়া ও মালাউইর নাগরিকদের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ভিসা বন্ড (ভিসা পেতে জামানত) বাধ্যতামূলক করে। এরপর আরো কয়েকটি দেশকে ওই তালিকায় যোগ করা হয়েছিল।


সর্বশেষ গত মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বাংলাদেশকেও ‘ভিসা বন্ড’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষে অবস্থানের কারণেই বাংলাদেশের জন্য ‘ভিসা বন্ড’ চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

বাংলাদেশ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভিসা বন্ড’ তালিকায় আছে আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, বেনিন, ভুটান,

বতসোয়ানা, বুরুন্ডি, কাবো ভার্দে, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, কোট দিভোয়ার, কিউবা, জিবুতি, ডোমিনিকা, ফিজি, গ্যাবন, গাম্বিয়া, গিনি, গিনি-বিসাউ, কিরগিজিস্তান, মালাউই, মৌরিতানিয়া, নামিবিয়া, নেপাল, নাইজেরিয়া, সাও টোমে ও প্রিন্সিপে, সেনেগাল, তাজিকিস্তান, তানজানিয়া, টোগো, টোঙ্গা, তুর্কমেনিস্তান, টুভালু, উগান্ডা, ভানুয়াতু, ভেনেজুয়েলা, জাম্বিয়া ও জিম্বাবুয়ে। 

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিয়মের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেছেন, এর তিনটি কারণ থাকতে পারে।


একটি হলোএই ধরনের পদক্ষেপ রিপাবলিকান পার্টি যে নেবেই, সেটা তারা নিজেদের ২০২২ সালের এজেন্ডায় পরিষ্কার করেছিল। সেখানেই জানা ছিল, যুক্তরাষ্ট্র ভিসা কঠিন করে ফেলবে। 

ভিসা বন্ডের নিয়ম : যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভিসা বন্ডের শর্তাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের ২২১ (ছ)(৩) এবং পরীক্ষামূলক কর্মসূচি (টেম্পোরারি ফাইনাল রুল-টিএফআর) দ্বারা নির্ধারণ করা হয়েছে। ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণের হার নির্ধারণ করতে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তরের প্রতিবেদন আমলে নেওয়া হয়েছে।

ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৪ অর্থবছর শেষে ৩৮ হাজার ৯০ জন বাংলাদেশির যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের হওয়ার কথা ছিল। তাঁদের মধ্যে দুই হাজার ২১৩ জন বাংলাদেশি ভিসার মেয়াদ শেষে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ভিসার মেয়াদ শেষে অবস্থানকারী বাংলাদেশির হার ৫.৭৩ শতাংশ। 

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের হালনাগাদ ‘ভিসা বন্ডের’তালিকা তুলে ধরে বলেছে, ওই দেশগুলোর নাগরিকদের মধ্যে যারা ‘বি ওয়ান/বি টু’ (বিজনেস/ টুরিজম, প্লিজার, ট্রিটমেন্ট) ভিসা পাওয়ার যোগ্য, তাদের অবশ্যই পাঁচ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার ডলারের জামানত দিতে হবে। প্রতি মার্কিন ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে পাঁচ হাজার ডলার সমান ছয় লাখ ১৫ হাজার টাকা, ১০ হাজার ডলার সমান ১২ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং ১৫ হাজার ডলার সমান ১৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।


জামানতের পরিমাণ ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করা হবে।

আবেদনকারীকে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ফরম আই-৩৫২ জমা দিতে হবে এবং পে ডট গভ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জামানত দেওয়ার শর্তে সম্মতি জানানো হবে। যেখান থেকেই আবেদন করা হোক না কেন, ওই দেশগুলোর জন্য এই শর্ত প্রযোজ্য। 

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কনসুলার অফিসার নির্দেশ না দিলে আবেদনকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ফরম আই-৩৫২জমা দেবেন না। অফিসার সরাসরি পে ডট গভ-এর পেমেন্ট লিংক দেবেন। কোনো তৃতীয় পক্ষের ওয়েবসাইট ব্যবহার করা যাবে না। যুক্তরাষ্ট্র সরকার তার নিজস্ব সিস্টেমের বাইরে দেওয়া অর্থের জন্য দায়ী থাকবে না। 

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, ভিসা বন্ড জমা দিলেই ভিসা পাওয়া নিশ্চিত নয়। কনসুলার অফিসারের নির্দেশ ছাড়া অর্থ প্রদান করলে সেই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে না।

প্রবেশ ও প্রস্থানের জন্য নির্ধারিত বিমানবন্দর : ভিসা বন্ডের শর্ত হিসেবে জামানত প্রদানকারী ভিসাধারীদের অবশ্যই নির্ধারিত তিনটি বিমানবন্দর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও প্রস্থান করতে হবে। এগুলো হলোবোস্টন লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও ওয়াশিংটন ডুলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। নির্ধারিত বন্দর ব্যবহার না করলে প্রবেশে বাধা বা প্রস্থানের রেকর্ড সঠিকভাবে না হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

জামানত বাতিল ও অর্থ ফেরত : যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ না করলে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দর দিয়ে প্রবেশের অনুমতি না পেলে ভিসার জন্য জামানত স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল এবং অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। 

অনুমোদিত সময়ের পর যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করা, অনুমোদিত সময়ের পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা এবং নন-ইমিগ্র্যান্ট স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করা (যেমন : আশ্রয় আবেদন)এ ধরনের কাজের মাধ্যমে ভিসা বন্ডেরশর্ত লঙ্ঘিত হয়েছে মনে হলে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তর বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের (ইউএসসিআইএস) কাছে পাঠাবে। 

ট্রাম্পের ১৫ হাজার ডলারের ভিসা বন্ড কর্মসূচি : ভিসা বন্ড হলো একটি আর্থিক জামানত, যা নিশ্চিত করে যে ভিসাধারী তাঁর ভিসার শর্ত, বিশেষ করে অবস্থানের সময়সীমা মনে চলবেন। যেসব দেশের নাগরিকদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভিসার মেয়াদ শেষে অবস্থানের হার বেশি তারাই মূলত ট্রাম্পের এই কর্মসূটির লক্ষ্য। কনসুলার অফিসার ভিসা আবেদনকারীর ব্যক্তিগত অবস্থা, পেশা, আয়, শিক্ষা ও ভ্রমণের কারণ বিবেচনা করে জামানতের পরিমাণ (পাঁচ হাজার ডলার, ১০ হাজার ডলার, ১৫ হাজার ডলার) নির্ধারণ করবেন।

জানা গেছে, ২০২০ সালে ট্রাম্প প্রশাসন এ ধরনের একটি কর্মসূচি চালু করতে চেয়েছিল। কিন্তু কভিড-১৯-এর কারণে এর পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি।


সর্বশেষ