ভালুকায় বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র, আহত ৩০-এর বেশি
ময়মনসিংহের ভালুকা বাসস্ট্যান্ড ও হবিরবাড়ী ইউনিয়নের সিডস্টোর বাজার এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু ও স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত আহ্বায়ক মোর্শেদ আলমের সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে।
আজ রোববার বিকেল পাঁচটা থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়। দফায় দফায় সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, ভালুকা উপজেলার ভরাডোবা ইউনিয়নের নিশিন্দা বাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোর্শেদ আলমের পক্ষে লিফলেট বিতরণের সময় বিএনপি প্রার্থী ফখর উদ্দিন বাচ্চুর সমর্থকেরা হামলা চালান। এতে অপু নামের এক কর্মী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। এর পরপরই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং ভালুকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে ভালুকা বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন ইসলামী ব্যাংকের সামনে অবস্থিত বিএনপির কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক আদি খান শাকিলের কার্যালয়েও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত আহ্বায়ক মোর্শেদ আলম অভিযোগ করে বলেন, বাটাজোড় বাজারে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় তাঁর ওপর সরাসরি হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্য প্রার্থীর ওপর এভাবে হামলা হলে সাধারণ ভোটাররা কতটা নিরাপদ?’
বিএনপি প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর নির্বাচনের প্রধান সমন্বয়কারী এবং ভালুকা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিন মাসুদ বলেন, বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা মোর্শেদ আলমের লোকজন ধানের শীষের প্রার্থীদের ওপর হামলা করেছে। তারা বিএনপির একাধিক কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে। বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের ১০ থেকে ১২ জন নেতাকর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাঁদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। বিস্তারিত পরে জানানো যাবে।
বর্তমানে পুরো ভালুকা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়লে ব্যবসায়ীরা আতঙ্কিত হয়ে দোকানপাট বন্ধ করে দেন। এতে কার্যত পুরো ভালুকা এলাকায় শাটডাউন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। তবে থেমে থেমে এখনো সংঘর্ষ চলছে। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
মতামত দিন