চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন যুগান্তকারী ব্যবস্থা ‘স্টেম সেল থেরাপি’। এটি নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছে। লিভার বিকল, টাকে চুল গজানো থেকে শুরু করে হাঁটুর ব্যথা কিংবা হূদযন্ত্রে প্রদাহ—এমন অনেক রোগেই এই থেরাপি প্রয়োগ হচ্ছে। বাংলাদেশে ‘স্টেম সেল থেরাপি’ বিষয়টি একবারেই নতুন— লিভার বিকল চিকিত্সায় তো বটেই।
সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের লিভার বিভাগে দেশে প্রথমবারের মতো ক্রনিক লিভার বিকল চিকিত্সায় স্টেম সেল থেরাপি ব্যবহার শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হেমাটোলজি ও ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগ এ ব্যাপারে পরস্পরকে সহযোগিতা করছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ, আব্দুল মালেক উকিল মেডিক্যাল কলেজ ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের একদল তরুণ লিভার বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক এ প্রচেষ্টায় যুক্ত রয়েছেন। তাদের পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করছেন জাপান প্রবাসী বাংলাদেশি লিভার বিশেষজ্ঞ ডা. শেখ মোহাম্মদ ফজলে আকবর।
বাংলাদেশের অনেক রোগী ‘অস্টিওআরথ্রাইটিস’ রোগে আক্রান্ত। এই রোগে হাঁটুর অবকাঠামোর পরিবর্তন ঘটে যায়। সাধারণত ৫০ এর বেশি বয়সী মানুষেরা বেশি এ রোগে আক্রান্ত। এক্ষেত্রে অনেকে হাঁটু প্রতিস্থাপন করেও সুফল পাচ্ছেন না। এ রোগের চিকিত্সায় স্টেম সেল থেরাপি খুবই কার্যকরী ব্যবস্থা।
শরীরের যেখানে স্টেম সেল রয়েছে সেখান থেকে যন্ত্রের মাধ্যমে সেল নিয়ে রোগীর হাঁটুতে ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রবেশ করা হয়। দেড় থেকে দুই ঘণ্টার স্টেম সেল থেরাপির এই চিকিত্সায় রোগী অনেকদিন ভালো থাকে। দুর্ঘটনার কারণে আঘাতপ্রাপ্ত স্থানেও স্টেল সেল প্রবেশ করিয়ে চিকিত্সা নেওয়া যায়।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলটেশন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. খুরশীদ মাহমুদ বলেন, দেশে স্টেম সেল থেরাপি চিকিত্সা ব্যবস্থা চালু করার প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে চিকিত্সকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বেসরকারিভাবে এর চিকিত্সা খরচ হবে দেড় থেকে দুই লক্ষ টাকা। তবে সরকারিভাবে ৬০/৭০ হাজার টাকা খরচ হবে। তিনি বলেন, স্টেম সেল থেরাপির চারটি ধাপ রয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে শুধু নিয়মনীতি মেনে চললেই সুস্থ থাকা যায়। তৃতীয় ধাপে একবার থেরাপি নিলে ২/৩ বছর ভাল থাকে। আর চতুর্থ ধাপে ৩/৬ মাস থেরাপি দিলে দীর্ঘদিন সুস্থ থাকা যায়।
ড. শিভেন্দ্র কর্মকার (PHD USA) এর টাইম বাংলা নিউজের কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি সাইদুজ্জামান সেলিম স্টেমসেল থেরাপি নিয়ে জানতে চাইলে উনি বলেন, আগামীর চিকিৎসা বিজ্ঞান স্টেমসেল নির্ভর হয়ে উঠবে। তবে ইনজেকটেড পদ্ধতি বহুল আলোচিত হলেও স্টেমসেল নিউট্রিশন থেরাপি অধিক নিরাপদ ও স্থায়ী। এই সেক্টরে গ্লোবালী সুনাম কুড়িয়েছে সুইজারল্যান্ড মেবেল কোম্পানির চিকিৎসা বিজ্ঞানী ড. ফ্রেড জুলি, তার তত্ত্বাবধানে আবিষ্কৃত এপেল স্টেমসেল গ্রেব স্টেমসেল স্ট্রবেরি স্টেমসেল সহ গুরুত্বপূর্ণ বহু ন্যাচারাল ইনগ্রেডিংস সম্বলিত সাপ্লিমেন্ট গুলো স্থায়ী ভাবে জটিল ও কঠিন রোগ সারাতে ব্যপক ভূমিকা রেখে চলেছে। ইতিমধ্যে সুইজারল্যান্ডের এই মেবেল কোম্পানির সাপ্লিমেন্ট গুলো মালোশিয়া কোম্পানি লিভেন গ্লোবাল এর হাত ধরে অলরেডি বাংলাদেশে হাজার হাজার নিরুপায় রুগীদের আশার আলো জাগিয়ে চলেছে। আমি আশাবাদী শীগ্রই সকল হাসপাতালে স্টেমসেল থেরাপির চর্চা শুরু হবে।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের যুগ্ম পরিচালক অধ্যাপক ডা. বদরুল আলম বলেন, স্টেম সেল থেরাপি চিকিত্সা ব্যবস্থা চালু করতে ভারতের বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকদের নিয়ে তিন দিনব্যাপী সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। গতকালও কিভাবে এ সেবা চালু করা যায় তা হাতেকলমে দেখানো হয়েছে। আগামীকাল শনিবারও সেমিনার চলবে। তিনি বলেন, এ চিকিত্সা সেবা চালু হলে হাঁটুতে ‘নি’ প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হবে না।
ভারতের চেন্নাইয়ের দুই জন বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক ফিজিয়াট্রিস্ট ডা. এম ফিরোজ খান ও ভারতের কুমান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক স্টেম সেল থেরাপিস্ট ডা. হিমাংশু বানসাল সেমিনারে প্রশিক্ষণ দেন। টাইম বাংলা নিউজের কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি সাইদুজ্জামান সেলিম এর সঙ্গে আলাপকালে তারা বলেন, স্টেম সেল থেরাপি একটি যুগান্তকারী চিকিত্সা ব্যবস্থা। এতে হাঁটুতে জয়েন্ট প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয় না। এ থেরাপি নিলে চলাফেরা স্বাভাবিকভাবে করতে পারে। দেড় থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যেই এই থেরাপি নেওয়া যায়। এরপর রোগীরা হাসপাতাল ত্যাগ করতে পারে এবং দীর্ঘদিন সুস্থ জীবনযাপন করতে পারে। তবে তরুণদের শরীর থেকে সেল নিয়ে বৃদ্ধদের শরীরে প্রবেশ করানো যায় কিনা এটি নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে গবেষণা চলছে। শিগগিরই গবেষণাকর্ম সমপন্ন হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রসঙ্গত, স্টেম হলো অবিভাজিত জীবকোষ, যা আজীবন আরো অনেক স্টেম সেল তৈরি করতে পারে। এই এক কোষ থেকে অনেক কোষ তৈরি হয় দুই ভাবে। এক. বিভাজন ও দুই পৃথকীকরণ। ১৯০৮ সালে রাশিয়ান বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার ম্যঅক্সিমভ স্টেম সেলের ধারনা দেন। স্টেম সেল বিভিন্ন ধরনের হয়, যেমন এমব্রায়োনিক স্টেম সেল, যা মানুষের ভ্রুণে থাকে।
মতামত দিন