• ২০২৬ ফেব্রুয়ারী ০৬, শুক্রবার, ১৪৩২ মাঘ ২৪
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:০২ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

৭ ও ৮ই ফেব্রুয়ারি জানা যাবে বাংলাদেশের নির্বাচন ১২ই ফেব্রুয়ারিতে একতরফা হবে নাকি পিছিয়ে ইনক্লুসিভ নির্বাচন হবে ।

  • প্রকাশিত ১০:০২ অপরাহ্ন শুক্রবার, ফেব্রুয়ারী ০৬, ২০২৬
৭ ও ৮ই ফেব্রুয়ারি জানা যাবে বাংলাদেশের নির্বাচন ১২ই ফেব্রুয়ারিতে একতরফা হবে নাকি পিছিয়ে ইনক্লুসিভ নির্বাচন হবে ।
সজীব ওয়াজেদের সংগৃহীত ছবি
বিশেষ প্রতিনিধি

বাংলাদেশের রাজনীতে বিদেশি শক্তির অন্দরমহলের খেলা এখন ওপেন সিক্রেট, এর মধ্যে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে আলোচনাটা বেশি । তবে আলোচনা যাই থাক দুই বিদেশী শক্তি ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গত তিনদিনে বাংলাদেশকে নিয়ে ঢাকা ওয়াশিংটনের পর্দার আড়ালে বেশ কয়েকটি চমকপ্রদ বৈঠক হয়েছে ।

সেসব বৈঠকে যা কিছু আলোচনা হয়েছে এবং প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে।সেগুলো দৃশ্যমান হতে শুরু করলেই আচমকা পাল্টে যেতে পারে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট। একদিকে ওয়াশিংটন অন্যদিকে ঢাকায় কয়েক দফা বৈঠক ,আর বৈঠকের আলোচনার খবরগুলো হয়ে উঠেছে বাড়িধারার টক অব দ‍্যা ডিপ্লোম্যাটিক জোন।৩ রা ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ।

বাংলাদেশ ও প্রতিবেশী মায়ানমার আর এই অঞ্চলের আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে বৈঠক করেন । ঠিক তার পরের দিনেই ঢাকার বাড়িধারায় ভারতীয় হাই কমিশনের বৈঠক করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস এবং ভারতীয় হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা। চমকপ্রদ তথ্য হলো এই বৈঠকের আগেই মার্কিন রাষ্ট্রদূত বৈঠক করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও তার মেয়ে জায়মা রহমানের সাথে । জানা গেছে  ঢাকা থেকে ওয়াশিংটনে হওয়া সবগুলোর বৈঠকের আলোচনার ইস্যু ছিল আওয়ামী লীগ, নির্বাচন ,জঙ্গী আর আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যু । আর এসব বৈঠকের একশ শুরু হয়ে গেছে ,বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে যে রাখাইন করিডোর স্বপ্ন দেখেছিল আমেরিকা সেই আমেরিকা এখন দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক ইস্যুতে বাংলাদেশকে স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারের তালিকা থেকে ছেড়ে ফেলেছে।

23 ফেব্রুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন 121 মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি সহায়তা বিল অনুমোদন করেছেন ।যেটির মাধ্যমে ভারত ও থাইল্যান্ডের মধ্য দিয়ে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গ্রুপগুলোর কাছে সহায়তা পৌঁছে যাবে ।আর সেই সহায়তা নিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে আরও শক্তিশালী হবে আরাকান আর্মি । অন্যদিকে আগামী দুইদিনে বিদেশী বেশ কয়েকটি শক্তিশালী সংস্থা ও দেশের প্রতিনিধিরা অনলাইনে বৈঠক করবেন শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সাথে।

জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের প্রধান কর্মকর্তা পল ওলকার বলেছেন। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১৩ই ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে বৈঠকের পর একটি যৌথ ঘোষণা প্রকাশিত হয়েছিল। সেই ঘোষণায় বলা হয়েছিল ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ভারতের চাওয়াকে প্রাধান্য দিবে যুক্তরাষ্ট্র। জয়শঙ্কর ও মার্কোরূবিও  এর বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের মিয়ানমার ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের আর বাংলাদেশ ইস্যুতে ভারতের স্বার্থকে প্রাধান্য দেবে দেশ দুটি। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট বাংলাদেশের রাজধানীতে পট পরিবর্তন হওয়ার পর থেকে এই অঞ্চলে ব্যাকফুটে আছে ভারত। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও সরকারের শীর্ষ মহল থেকে ভারত বিরোধী প্রচারণা তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে শেখ হাসিনা ইস্যুকে ঘিরে দুই দেশের সম্পর্ক ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। ভারত সরাসরি নাম না বললেও আওয়ামী লীগ সহ সকল দলের অংশনীন নির্বাচনের কথা বেশ কয়েকবার বলেছিল। আবার বাংলাদেশ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে জঙ্গিবাদী উত্থান হচ্ছে এমন অভিযোগ ভারত থেকে করা হয়েছে। একই অভিযোগের কথা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও ফলাও করে প্রচারিত হয়েছে।     

চমকপ্রদ তথ‍্য হলো ওয়াশিংটনে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকের কয়েক ঘন্টার মধ্যে ঢাকার তৎপরতা বেড়েছে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ড ক্রিস্টেনসেনের ।বাংলাদেশের  সুত বলা হয়েছে, চৌঠা ফেব্রুয়ারি ব্রেন্ড ক্রিস্টেনসেন ঢাকার বারিধারার ভারতীয় হাই কমিশনে গিয়ে হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মার সাথে বৈঠক করেছেন। খবরটিতে  আর বলা হয়েছে কূটনীতি মহলে এই বৈঠকের সময় এবং ক্রম নির্ধারণে বিষয়টি বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। আরো চমক জাগানো খবর হলো এই বৈঠকটির কয়েক ঘন্টা আগে ব্রেন্ড আলাদা বৈঠক করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের স্ত্রী ডক্টর জুবাইদা রহমান ও তার মেয়ে জায়মা রহমানের সাথে। বৈঠকটি গুলশানের বাসায় অনুষ্ঠিত হয়। ব্যাক টু ব্যাক এই ধরনের বৈঠকে কূটনীতি পাড়ায় বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

কূটনীতি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন একই দিনে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের তারেক রহমানের পরিবারের সাথে এবং ভারতীয় হাই কমিশনারের সাথে বৈঠক করা কোন আকস্মিক ঘটনা নয় বরং এটি বাংলাদেশ দেশের নির্বাচন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের অভিনব কৌশল বাস্তবায়নের শুরু হতে পারে যেখানে দেশ দুটি সব অনিশ্চয়তা দূর করে ফেলতে চাইছে। এই বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের জঙ্গি তৎপরতা এবং আওয়ামী লীগের উপর নিষেধাজ্ঞা  থাকা ও নির্বাচনের সকল দলকে সমান সুযোগ না দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।বাংলাদেশের সুত্রে খবরে আরো বলা হয়েছে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি না পাওয়া একটি সূক্ষ্ম জানায়, বাংলাদেশ নিয়ে দিল্লি ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা একাধিক প্লাটফর্মে অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ভারত তার অগ্রাধিকারের উপর জোর দিবে এবং ওভারল্যাপিং লক্ষ্য অর্জনের জন্য যেখানে সম্ভব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সামনে রাখা হবে। কূটনীতি একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে আওয়ামী লীগ ও নির্বাচন ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি ইইউ এবং কমনওয়েলথ সহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং দেশের প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলবে। ৭ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা অনলাইনে বৈঠক করবেন শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সাথে। এসব বৈঠকের পর পরিস্থিতির নাটকীয় মোড় দেখা গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না এমন মন্তব্য করেছেন ওই বৈঠকে থাকবেন এমন একজন প্রতিনিধি। 

ওই প্রতিনিধি বলেছেন ওই বৈঠকগুলো সফল হলে কার্যক্রম নিশ্চিত থাকা আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনগুলো মিছিলের খবর গণমাধ্যমে দেখতে পাওয়া যাবে। ছোট করে বলছি এসব বৈঠকের খবর সরকার এবং সরকারের মিত্র অন্য রাজনৈতিক দলগুলো জানে কিন্তু এখন তাদের আর কিছু করার নেই কারণ সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা এবং দুটি মিত্র দলের উপর পশ্চিমা আস্থার লেশমাত্র নেই। 

মার্কিন মূলকে ভারতের যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকের খবর পাওয়ার পর তেশরা ফেব্রুয়ারি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ছুটে গিয়েছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হলিলুর রহমান কিন্তু পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সাথে বৈঠকে কোন কুল কিনারা করতে পারেননি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা।

তথ‍্য সংগ্রহ কাজী রুমার চ‍্যানেল

সর্বশেষ