কারাগারের লোহার গেট পেরিয়ে ঘরে ফিরেছিলেন মাত্র দুই ঘণ্টা। প্রিয়জনদের মুখ দেখার আনন্দ তখনও মুছে যায়নি। এর মধ্যেই নির্মমভাবে থেমে গেল এক তরুণের জীবন।
ফতুল্লা-র মাসদাইর মিস্ত্রিবাগ এলাকায় জামিনে মুক্তির পরই ইমন (৩০) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় নেমে এসেছে শোক আর ক্ষোভের ছায়া। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফেরেন তিনি। পরিবারের সঙ্গে অল্প কিছু সময় কাটানোর পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। এরপর পরিকল্পিত হামলায় প্রাণ হারান ইমন।
নিহত ইমন মাসদাইর ঘোষেরবাগ এলাকার বাসিন্দা ওমর খৈয়াম ও কমলা বেগম দম্পতির বড় ছেলে। স্বজনদের দাবি, এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকায় এবং স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের ধরিয়ে দেওয়ার কারণেই তাকে টার্গেট করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে হুমকিও পেয়ে আসছিলেন বলে জানিয়েছে পরিবার।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পূর্ববিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে, জড়িতদের শনাক্তে অভিযান চলছে। (তথ্যসূত্র: সময় টিভি)
তবু থেকে যায় কিছু কঠিন প্রশ্ন—জামিনে মুক্তি পাওয়া একজন মানুষ কীভাবে এত অল্প সময়ের মধ্যে এমন হামলার শিকার হন? কারা তাকে ডেকে নিল, কীভাবে এত দ্রুত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলো, আর অপরাধীরা এখন কোথায়?
মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো কি তবে আজ জীবনসংকট ডেকে আনে? সমাজের এই প্রশ্নের জবাব খুঁজে পাওয়া এখন সময়ের দাবি।
মতামত দিন