নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান একটি সড়ক সংস্কারকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নিম্নমানের ইটের খোয়া, পাথর ও বিটুমিন ব্যবহারের কারণে কাজ শেষ হওয়ার পরদিনই হাত দিয়ে টানলেই উঠে যাচ্ছে সড়কের কার্পেটিং। এতে সংস্কারকাজের মান নিয়ে জনমনে ব্যাপক প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নলুয়া গ্রামের কালাম হুজুরের দোকান থেকে ইতালি মার্কেট পর্যন্ত সড়ক সংস্কারকাজে বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রয়োজনের তুলনায় কম বিটুমিন ব্যবহার এবং নিম্নমানের সামগ্রী প্রয়োগের কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ছাত্রদল নেতা আব্দুল হান্নান হৃদয় বলেন, “কাজ শুরুর পর থেকেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় ও ঠিকাদারপক্ষকে একাধিকবার বিষয়টি জানানো হলেও কোনো উন্নতি হয়নি।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে আড়াই কিলোমিটার সড়কের কার্পেটিং কাজের দায়িত্ব পান ‘চাষী’ নামে এক ঠিকাদার। অভিযোগ রয়েছে, কার্যাদেশের শর্ত (সিডিউল) যথাযথভাবে অনুসরণ না করে তড়িঘড়ি করে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। গত ২৫ জুন প্রায় ৯৮ শতাংশ কাজ শেষ হলেও পরদিন থেকেই বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে যেতে শুরু করে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ননা মিয়ার দোকানের সামনে সড়কের কার্পেটিং উঠে যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঠিকাদারপক্ষ ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজিত আচরণ করেছে বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাজু বলেন, “শুরু থেকেই কাজে অনিয়ম হয়েছে। বিটুমিনের মান খারাপ ছিল এবং নির্ধারিত পুরুত্বও মানা হয়নি। তাই হাত দিয়েই কার্পেটিং তুলে ফেলা যাচ্ছে। এতে সরকারের অর্থের অপচয় হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট এলজিইডি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ঠিকাদার মো. চাষীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিযোগ প্রসঙ্গে কবিরহাট উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইসলাম হোসেন বলেন, “স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে আমি কয়েকবার কাজ পরিদর্শন করেছি। এটি প্রকৃত কোনো অভিযোগ নয়। কিছু মানুষ নিজেরাই কার্পেটিং তুলে ফেলেছে। বিস্তারিত জানতে চাইলে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন করতে হবে।”
এ বিষয়ে নোয়াখালী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মাহফুজুল হোসাইন বলেন, “এখানে কোনো সিন্ডিকেট নেই। কোথাও গাফিলতি হয়ে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিম্নমানের সড়ক সংস্কারকাজ পুনরায় সঠিক মান বজায় রেখে সম্পন্ন করা হোক।
মতামত দিন