• ২০২৬ Jul ১৪, মঙ্গলবার, ১৪৩৩ আষাঢ় ৩০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:০৭ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

৫ দিনের অস্থায়ী পশুর হাট দেড় মাসেও বহাল

  • প্রকাশিত ০৯:০৭ অপরাহ্ন মঙ্গলবার, Jul ১৪, ২০২৬
৫ দিনের অস্থায়ী পশুর হাট দেড় মাসেও বহাল
File
জসীমউদ্দীন ক্রাইম রিপোর্টার গোয়াইনঘাট সিলেট প্রতিনিধি

৫ দিনের অস্থায়ী পশুর হাট দেড় মাসেও বহাল


 জেলার জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল বাজারে গত ঈদুল আজহা-২০২৬ উপলক্ষে মাত্র ৫ দিনের জন্য অনুমোদন পাওয়া অস্থায়ী পশুর হাট নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার দেড় মাসেও দৃশ্যমানভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এ নিয়ে সরকারিভাবে ইজারাপ্রাপ্ত পশুর হাটের ইজারাদার ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী একটি মহল প্রশাসনের যোগসাজশে অবৈধভাবে হাট পরিচালনা করে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করছে। এতে সরকার রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি বৈধ পশুর হাটের ব্যবসায়ীরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২১ মে ২০২৬ তারিখে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঈদুল আজহা উপলক্ষে চিকনাগুল বাজারকে ৫ দিনের জন্য অস্থায়ী পশুর হাট হিসেবে ইজারা দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। বিজ্ঞপ্তির স্মারক নম্বর ০৫.৪৮.৯১৫৩.০০০.১২.০০১.২৬.৩৫৫। শর্ত অনুযায়ী ২৪ মে থেকে ২৯ মে ২০২৬ পর্যন্ত হাটে পশু ক্রয়-বিক্রয়ের অনুমতি দেওয়া হয়। হাটটির ইজারা নেন মসদ্দর আলীর ছেলে ইমদাদুল হক কিন্তু শুরু থেকেই ইজারার শর্ত লঙ্ঘন করে পশু ক্রয়-বিক্রয়ের রশিদে বৈধ ইজারাদারের নামের জায়গায় আওয়ামীলীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যার কামরুজ্জামান চৌধুরীর নির্দেশনাক্রমে কামাল মেম্বারের নাম ও মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও প্রতিদিন এ হাট বসানো হচ্ছে এবং অবৈধ রশিদের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, হাটটি ভারত থেকে চোরাই পথে আনা গরু ও মহিষ বিক্রির অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। অবৈধ রশিদের মাধ্যমে এসব পশুকে বৈধতার ছাপ দেওয়া হচ্ছে, ফলে বৈধ ও চোরাই পশুর মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে স্থানীয় বৈধ পশু ব্যবসায়ীরা নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।

গোয়াইনঘাট উপজেলার আলীরগাঁও ইউনিয়নের পশু ব্যবসায়ী আব্দুল জলিল বলেন, মহাসড়কের পাশে হওয়ায় ভারতীয় পশু সহজেই এসব বাজারে বিক্রি করা যায়। এ কারণেই ব্যবসায়ীরা এখানে আসছেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, নির্ধারিত ইজারা মেয়াদ শেষ হওয়ায় বর্তমানে বাজারটি বৈধ নয়।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের দাবি, অবৈধভাবে পরিচালিত এ পশুর হাট দ্রুত বন্ধ করে সরকারি নীতিমালার আওতায় আনা হোক। একই সঙ্গে অবৈধভাবে রাজস্ব আদায়ের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এবিষয়ে ৫ দিনের জন্য ইজারা নেওয়া ইজারাদার ইকবাল হোসেন বলেন,

রশিদে ইজারাদার পরিচয় দেওয়া কামাল মেম্বার বলেন, রশিদে আমার নাম ও মোবাইল নম্বর দেওয়া আছে। ৫ দিনের ইজারা নেওয়ার পর স্থানীয় ইজারার পার্টনার সবাই মিলে আমার নাম ও মোবাইল নম্বর দিয়েছেন। হাট এখনও চলছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই বিষয়ে আমি কিছু জানি না। সবাইকে কামরুজ্জামান চেয়ারম্যান মেনেজ করেন।

এবিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা ও বর্তমান চিকনাগুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, এই বিষয়ে নিউজ করার দরকার নাই। সরাসরি দেখা হলে এই বিষয়ে কথা বলবো।

এবিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুনন্দা রায় বলেন, জানতে পেরেছি চিকনাগুল বাজারটি ইউনিয়ন বাজার কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। বিষয়টি আমি জানতে পেরে বিষয়টির বৈধতা যাচাই-বাছাই করতে চিকনাগুল ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছি। এখনও চিঠির জবাব পাইনি। জবাব পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

সর্বশেষ