একটি সত্যি ঘটনা দিয়ে শুরু করি, আয়ান আব্দুল্লাহ (খুদে ফুটবলার) বয়স মাত্র ৩ বছর,
কুমিল্লা দেবিদ্বার আলোচিত ফুটবলার অবঃ গেমস টিচার সামাদ মাস্টার ও তার ঐ বাড়ির শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলেই ব্রাজিল সাপোর্টার অথচ ছোট্ট বাচ্চা ছেলে ভালো করে কথা বলতে পারেনা এই বাড়িতে সেই একমাত্র আর্জেন্টিনা সাপোর্টার। সে জিৎ করে তার ব্রাজিল সাপোর্টার বাবাকে দিয়ে আর্জেন্টিনা জার্সি আনিয়ে পরে এবং পুরো বাড়িতে ঘুরে ঘুরে সকলকে দেখিয়ে বলে আমি আর্জেন্টিনা।
ঠিক এভাবেই বাংলাদেশের সমাজে ব্রাজিল আর্জেন্টিনা ফুটবল ব্যপক প্রভাব রাখে।
১. ঐতিহাসিক ও মনস্তাত্ত্বিক আবেগঔপনিবেশিক ইতিহাস ও বিদ্রোহ: ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ডিয়েগো ম্যারাডোনার হাত ধরে যখন আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডকে পরাজিত করে, তখন বাঙালি সমাজ তা ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে একটি প্রতীকী বিজয় হিসেবে দেখেছিল। অ-ইউরোপীয় একটি দেশের এই জয় তৎকালীন তরুণ প্রজন্মের মনে গভীরভাবে রেখাপাত করে।সামাজিক মেলবন্ধন: পাড়ায়, চায়ের দোকানে বা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন সমাজে একাত্মতা ও সৌহার্দ্য বাড়ায়।২. পারিবারিক ও প্রজন্মগত ঐতিহ্যবাঙালি পরিবারগুলোতে ফুটবলের প্রতি সমর্থন অনেকটা উত্তরাধিকার সূত্রে চলে আসে। দাদা বা বাবার সমর্থিত দল পরবর্তী প্রজন্মেও স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছড়িয়ে পড়ে।বর্তমানে লিওনেল মেসির জাদুকরী ফুটবল শৈলী তরুণ প্রজন্মের মাঝে আর্জেন্টিনার ভক্তসংখ্যা আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।৩. আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনীতিআর্জেন্টিনা ফুটবল দলের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের এই উন্মাদনা দুই দেশের মাঝে এক অভাবনীয় কূটনৈতিক সম্পর্ক তৈরি করেছে।খেলাকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টিনার জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। এমনকি ঢাকায় আর্জেন্টিনার দূতাবাস খোলার ক্ষেত্রেও এই ফুটবলীয় আবেগ বড় ভূমিকা পালন করেছে।৪. অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক প্রসারবিশ্বকাপ বা বড় টুর্নামেন্টগুলোর সময় বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার জার্সি, পতাকা এবং আনুষঙ্গিক জিনিসপত্রের বিশাল বাজার তৈরি হয়, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে সাময়িক হলেও বড় ধরনের আর্থিক লেনদেন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে।ফুটবল কূটনীতির হাত ধরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধির পথও সুগম হয়েছে।
মতামত দিন