বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্ধারণে জটিলতা:
বগুড়া শাজাহানপুর জামালপুরে ধরে রাখার দাবিতে আগামীকাল মহাসড়কে মানববন্ধনের ডাক:
১৯ জুলাই, ২০২৬ ইং
বগুড়া: দীর্ঘ ২৫ বছরের প্রতীক্ষার পর অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাওয়া স্বপ্নের 'বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়' এর স্থান নির্ধারণ নিয়ে জেলাজুড়ে নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। আইনের খসড়ায় নির্দিষ্ট স্থানের উল্লেখ ও প্রাথমিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে জেলার বিভিন্ন সুবিধাজনক স্থানে বিশ্ববিদ্যালয়টি সরিয়ে নেওয়ার গুঞ্জন ও আলোচনা শোনা যাচ্ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়টি পূর্বনির্ধারিত ও প্রস্তাবিত স্থান শাজাহানপুর উপজেলার জামালপুরেই বহাল রাখার দাবিতে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় সাধারণ জনগণ। দাবি আদায়ে আগামীকাল (২০ জুলাই) এক বিশাল মানববন্ধনের ডাক দিয়েছেন শাজাহানপুর উপজেলার জামালপুর এলাকার সর্বস্তরের বাসিন্দারা।
দাবির মূল ভিত্তি ও জনক্ষোভ:
আন্দোলনকারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সাবেক ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কর্তৃক যে স্থানটি বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত ও প্রস্তাবিত হয়েছিল, সেই শাজাহানপুর উপজেলার জামালপুর এলাকাতেই যেন এই স্বপ্নের বিদ্যাপীঠ স্থাপন করা হয়। এটি শাজাহানপুরের অবহেলিত জনপদের মানুষের দীর্ঘদিনের আবেগ ও অধিকারের প্রশ্ন। কোনো বিশেষ মহলের চক্রান্তে বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই স্থান পরিবর্তন করা হলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। এই দাবিতেই আগামীকাল জামালপুরের সাধারণ মানুষ রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আইনি পটভূমি ও বর্তমান অবস্থা:
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাস থেকে জানা যায়, প্রথমবার ২০০১ সালের ১৫ই জুলাই তৎকালীন জাতীয় সংসদে ‘বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১’ পাস করা হয়েছিল। পরবর্তীতে দীর্ঘ দুই দশকে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক নানা জটিলতায় এর কোনো অগ্রগতি হয়নি। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে গত ১৪ই জুলাই, ২০২৬ তারিখে সংসদে পূর্বের আইনটি বাতিল করে একটি পূর্ণাঙ্গ সাধারণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল, ২০২৬’ পাস করা হয়।
নতুন এই আইন অনুযায়ী, পূর্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে অনুমোদিত থাকলেও এখন এটি সাধারণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে কাজ করবে। আইন ও পূর্ববর্তী সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক, বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার জামালপুর এলাকাকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য উপযুক্ত স্থান হিসেবে বিবেচনা করে জেলা প্রশাসনের কাছে জমি অধিগ্রহণের আবেদন প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে স্থান পরিবর্তনের নানা আলোচনা মাঠপর্যায়ে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করেছে।
প্রশাসনিক কাঠামো ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:
স্থান নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিতর্ক দেখা দিলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার কাজ কিন্তু থেমে নেই। গত ৩রা জুন, ২০২৫ তারিখে মহামান্য রাষ্ট্রপতি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক মো. কুদরত-ই-জাহানকে নিয়োগ দেন। নতুন আইন পাস হওয়ার পর থেকে উপাচার্যের নেতৃত্বে দাপ্তরিক কার্যক্রম গতি পেয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এখানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির পাশাপাশি মানবিক, সামাজিক বিজ্ঞান, ব্যবসায় প্রশাসন, আইন, কৃষি ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ অনুষদ থাকবে। প্রথাগত শিক্ষা ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে এখানে অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই)-এর মতো যুগোপযোগী ও কর্মমুখী বিষয় চালুর খসড়া পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হচ্ছে।
আগামী শিক্ষাবর্ষেই চালুর লক্ষ্য:
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষকে লক্ষ্য করে অনুষদ ও বিভাগ খুলে আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম ও ক্লাস শুরু করার জোর প্রস্তুতি চালাচ্ছে। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু করার আগে ক্যাম্পাসের সীমানা এবং স্থান সংক্রান্ত এই জটিলতার দ্রুত ও স্থায়ী অবসান চান বগুড়াবাসী। আগামীকাল শাজাহানপুরের জামালপুরে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে স্থানীয় জনগণ ও নাগরিক সমাজ সরকারের উচ্চপর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে পূর্বনির্ধারিত স্থানেই বিশ্ববিদ্যালয়টি বহাল রাখার জোর দাবি জানাবেন।
মতামত দিন