• ২০২৬ Jul ২৯, বুধবার, ১৪৩৩ শ্রাবণ ১৪
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:০৭ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

১২ বছরেও এমপিওভুক্ত হয়নি কালাইয়ের অটিস্টিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়, বিনা বেতনে পাঠদান করছেন ১৭ শিক্ষক

  • প্রকাশিত ০৪:০৭ অপরাহ্ন বুধবার, Jul ২৯, ২০২৬
১২ বছরেও এমপিওভুক্ত হয়নি কালাইয়ের অটিস্টিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়, বিনা বেতনে পাঠদান করছেন ১৭ শিক্ষক
File
স্টাফ রিপোর্টার আব্দুর রহিম


জয়পুরহাট  কালাই উপজেলার অটিস্টিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার ১২ বছর পার হলেও এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। সরকারি কোনো নিয়মিত অনুদান বা বেতন-ভাতা না থাকায় চরম আর্থিক সংকটের মধ্যেও ১৭ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষা সহায়ক বিনা বেতনে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পাঠদান করে যাচ্ছেন।

‎২০১৪ সালে 'এসো গড়ি সোনার বাংলা'-এর সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব গাওসুল আযমের উদ্যোগে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ২৭৭ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী নিবন্ধিত রয়েছে। প্রতিদিন দুই শিফটে প্রায় ১০০ থেকে ১২০ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত পাঠগ্রহণ করে।

‎বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর মোহাম্মদ বলেন, "সমাজের অবহেলিত প্রতিবন্ধী শিশুদের নিজের সন্তানের মতো আগলে রেখে শিক্ষা দিয়ে আসছি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কোনো সরকারি বেতন-ভাতা না থাকায় বিদ্যালয় পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয় করে আর এভাবে চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।"

‎সিনিয়র সহকারী শিক্ষিকা নাছরিন নাহার বলেন, "বেতন না পেয়েও আমরা শিশুদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে কাজ করে যাচ্ছি। অনেক সময় মানুষের কটূক্তিও শুনতে হয়। তবুও শিশুদের মুখের হাসির জন্য দায়িত্ব পালন করছি।"

‎বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে প্রধান শিক্ষক নুর মোহাম্মদ, সিনিয়র সহকারী শিক্ষক নাছরিন নাহার, কোরবান আলী, আব্দুর রহিমসহ ১৭ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষা সহায়ক বিনা বেতনে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আনার জন্য একটি নিজস্ব অটোভ্যান এবং চারটি ভাড়ার ভ্যান ব্যবহার করা হয়। অনেক সময় পরিবহন ব্যয়, শিক্ষাসামগ্রী ও শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় খরচও শিক্ষক-কর্মচারীদের নিজেদের অর্থ থেকেই বহন করতে হয়।

‎এ বিষয়ে কালাই উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সাদিকুর রহমান বলেন, "আমি নতুন যোগদান করেছি। বিদ্যালয়ের বিষয়টি জেনেছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।"

‎এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকরা দ্রুত বিদ্যালয়টিকে এমপিওভুক্ত করার পাশাপাশি সরকারি অনুদান ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে বিদ্যালয়টির আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

সর্বশেষ