ছাতকে ভূমি দখল ও অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সিমান্ত ভর্তী এলাকা বিশ্বনাথের লামাকাজি ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে ভূমি দখল, প্রতারণা, হয়রানি , ও অর্থ আত্মসাৎ সহ একাধিক মিথ্যা মামলার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে একটি ভুক্তভোগী পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মাধবপুর গ্রামের মরহুম আব্দুল গফুরের ছেলে মাহমুদুল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, গত প্রায় ১৫ বছর ধরে তাদের পরিবারের ওপর অন্যায়, নির্যাতন ও হয়রানি চালানো হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসন ও দেশবাসীকে অবহিত করতেই তারা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।
লিখিত বক্তব্যে মাহমুদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বিশ্বনাথ উপজেলার মাধবপুর এলাকায় অবস্থিত বিলুপ্ত সিডিপি ব্রিক ফিল্ডের পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের, হুমকি-ধমকি ও প্রতারণার মাধ্যমে তাদের পৈতৃক সম্পত্তি দখল করেছেন। তাদের দাবি, ৬৫ ও ৪৭ নম্বর খতিয়ানভুক্ত মোট আটটি দাগের জমি ওই ব্রিক ফিল্ডের আওতায় রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে আলোচনা করলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। পরে ব্রিক ফিল্ডের দায়িত্বে থাকা আব্দুল হামিদের কাছেও বিষয়টি উত্থাপন করা হলে তিনি সমাধানের আশ্বাস দেন। কিন্তু পরে জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ অস্বীকার করে তাদের গুম ও হত্যার হুমকি দেন বলে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, আব্দুল হামিদ স্থানীয়দের কাঁচা ইট পুড়িয়ে অধিক লাভের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ২ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। একপর্যায়ে এলাকাবাসী ব্রিক ফিল্ড ঘেরাও করলে তিনি দেশ ছেড়ে লন্ডনে চলে যান। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জাহাঙ্গীর আলম পুনরায় ব্রিক ফিল্ডের দায়িত্ব নেন এবং কোম্পানি সব দায়-দায়িত্ব বহন করবে বলে আশ্বাস দেন বলে অভিযোগ করা হয়।
মাহমুদুল ইসলাম দাবি করেন, পরবর্তীতে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ছাতক উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম কিরণের মাধ্যমে ব্রিক ফিল্ড পরিচালনা করা হয়। এসময় জমি ও পাওনা টাকা চাইতে গেলে জাহাঙ্গীর আলম তা অস্বীকার করেন এবং উল্টো তাদের বিরুদ্ধে ছাতক থানায় দুটি মামলা দায়ের করে পুলিশি হয়রানি ও গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি জানান, কয়েক মাস কারাভোগের পর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়াসহ ১২ জনের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত একটি সালিশ বৈঠকে ৫২ লাখ টাকার মধ্যে তাৎক্ষণিক ৫ লাখ টাকা পরিশোধ এবং বাকি অর্থ তিন মাসের মধ্যে পরিশোধের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে নতুন মামলা করে সেই সমঝোতা ভেস্তে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, জাহাঙ্গীর আলম তাদের ওপর জোরপূর্বক জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার চাপ প্রয়োগ করেন এবং একের পর এক মামলা দিয়ে মোট ১২টি মামলার আসামি করেন। আদালতেও তিনি সংশ্লিষ্ট জমির বৈধ মালিকানা প্রমাণে কোনো কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারেননি বলেও দাবি করা হয়। এছাড়া ব্রিক ফিল্ডের ইট ও অন্যান্য মালামাল বিক্রি করে প্রায় ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও আনা হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সার্ভেয়ার দিয়ে জমির সীমানা নির্ধারণ করতে গেলে জাহাঙ্গীর আলম তার লোকজন নিয়ে বাধা দেন এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এতে রাজি না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করে, দীর্ঘ ১৫ বছরের মামলা, হামলা ও হয়রানির কারণে তারা আর্থিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। তারা তাদের রেকর্ডভুক্ত জমি দখলমুক্ত করা, আত্মসাৎকৃত অর্থ ফেরত, দায়ের করা মামলাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রত্যাহার এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদুল ইসলামের ভাই আশরাফ উদ্দিন, রফিক আহমদ, সাদিক আহমদসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
বিষয়ে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলম তার উপর আনীত সকল অভিযোগ মিথ্যা দাবী করে বলেন মোট ৪১ কিয়ার ভূমির বৈধ মালিকানা ব্রিক ফিল্ডের,তাদের চার দাদার থেকে ক্রয়কৃত। এরপরও মাহমুদুল ইসলামের পিতা আব্দুল গফুর ওই সময় কিছু ভূমি দাবী করলে, আলোচনাক্রমে ১৫ শতক ভুমি তাদেরকে দেওয়া হয়। যার আপোষ নিষপ্তির কাগজপত্র আছে। এরপরও তারা অন্যায় ভাবে এসব করতেছে। এছাড়া ৫২ লাখের সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানা নেই। ভুমির
বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
মতামত দিন