• ২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৪, সোমবার, ১৪৩৩ ভাদ্র ৩০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৩:০৯ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

ঘোষণা হয়েছে পে-স্কেল, প্রজ্ঞাপন জারিতে দেরি কেন?

  • প্রকাশিত ০৩:০৯ অপরাহ্ন সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
ঘোষণা হয়েছে পে-স্কেল, প্রজ্ঞাপন জারিতে দেরি কেন?
Time Bangla news
মোঃ মিজানুর রহমান | কুমিল্লা বুরো চিফ প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ


ঘোষণা হয়েছে পে-স্কেল, প্রজ্ঞাপন জারিতে দেরি কেন?

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৮:৪৪

সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে গত ৩১ আগস্ট নতুন বেতন কাঠামোর ঘোষণা দেওয়া হলেও এখনো এর প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর প্রায় দুই সপ্তাহ পার হয়ে যাওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারির কথা শোনা গেলেও দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। এখনো গেজেট প্রকাশের কোনো খবর না থাকায় আবার কোনো জায়গায় বিষয়টি আটকে গেল কি না, তা নিয়ে অনেকে চিন্তিত।

তবে সাবেক আমলারা বলছেন, মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর কোনো সিদ্ধান্ত প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশের আগে বেশ কিছু প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এসব কারণে কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে আরও বেশি সময় লাগতে পারে।

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেন, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়ায় কয়েক সপ্তাহ বা কখনো মাসও লেগে যেতে পারে। দীর্ঘ সময় পর নতুন পে-স্কেল ঘোষণার কারণে এবার অপেক্ষার বিষয়টি নিয়ে মানুষের মধ্যে হতাশা বেশি তৈরি হয়েছে।

খসড়া এখনো অর্থ মন্ত্রণালয়ে

মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপনের খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে-এমন খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। তবে দুই মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, খসড়াটি এখনো আইন মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেনি। এটি বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়েই রয়েছে।

আইন মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গত সপ্তাহে তারা শুনেছিলেন, এক-দুই দিনের মধ্যে অনুমোদিত পে-স্কেলের খসড়া ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। কিন্তু রোববার পর্যন্ত সেটি মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেনি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অবশ্য বিষয়টিকে ‘আটকে থাকা’ হিসেবে দেখতে নারাজ। তার ভাষ্য, গেজেট প্রকাশের আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে কিছুটা সময় লাগছে।

বর্তমানে সামরিক ও বেসামরিক বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা কীভাবে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা যুক্ত করে প্রজ্ঞাপনের খসড়া প্রস্তুতের কাজ চলছে। দ্রুতই খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।

কীভাবে জারি হয় প্রজ্ঞাপন?

মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পরই সরাসরি পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করা যায় না। প্রথমে অনুমোদিত কাঠামোর ভিত্তিতে বিস্তারিত প্রজ্ঞাপনের খসড়া তৈরি করে অর্থ মন্ত্রণালয়।

এই খসড়ায় বিভিন্ন গ্রেডের বেতন-ভাতার পাশাপাশি কারা কীভাবে নতুন কাঠামোর আওতায় আসবেন, সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ, বিজিবি, সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এটি কীভাবে কার্যকর হবে-এসব বিষয় উল্লেখ থাকে।

সাবেক সচিব ড. মো. আনোয়ার উল্ল্যাহ বলেন, মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য পাঠানো প্রাথমিক প্রস্তাবে মূলত কোন গ্রেডে কত বেতন-ভাতা বাড়বে, তার একটি সামগ্রিক চিত্র থাকে। কিন্তু অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপনে বাস্তবায়নের বিস্তারিত নিয়ম ও নির্দেশনা যুক্ত করতে হয়। আগে থেকে এসব প্রস্তুত না থাকলে প্রক্রিয়াটি শেষ করতে সময় লাগে।

খসড়া প্রস্তুতের পর সেটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। সেখানে সংবিধান ও সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী এর কোনো অসঙ্গতি আছে কি না, তা যাচাই করা হয়। পাশাপাশি আইনি পরিভাষা, শব্দচয়ন ও নির্দেশনার অস্পষ্টতাও পরীক্ষা করা হয়।

ভেটিং শেষ হলে চূড়ান্ত খসড়া আবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে যায়। এরপর তা সরকারি মুদ্রণালয় বা বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। মুদ্রণ শেষে অর্থ মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

নতুন বেতন কাঠামোয় কতটা বাড়ছে বেতন?

এক দশকেরও বেশি সময় পর ঘোষিত নতুন বেতন কাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

প্রথম থেকে ১১তম গ্রেডের ক্ষেত্রে বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ এসব গ্রেডের অনেক কর্মকর্তা আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ মূল বেতন পাবেন।

সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডে বেতন বাড়ানো হয়েছে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত। নতুন কাঠামোয় এই গ্রেডের মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর প্রথম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে এটি কার্যকর ধরা হয়েছে। ফলে জুলাই থেকেই নতুন কাঠামোর সুবিধা পাওয়ার কথা সরকারি চাকরিজীবীদের

প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের বছরে অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর নতুন পে-স্কেল

  • সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বশেষ জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। ওই বছরের ৭ সেপ্টেম্বর অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পায়। এরপর ১৫ ডিসেম্বর চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। অর্থাৎ অনুমোদনের পর গেজেট প্রকাশে প্রায় সাড়ে তিন মাস সময় লেগেছিল।

সর্বশেষ