পর্যাপ্ত মজুতের দাবি, তবু মাঠে সার নিয়ে ভোগান্তি
সংকট মোকাবিলায় ‘সার ব্যবস্থাপনা কন্ট্রোল রুম’ চালু করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়
নিজস্ব প্রতিবেদক | টাইম বাংলা নিউ
দেশে পর্যাপ্ত সার মজুত থাকার সরকারি দাবি থাকলেও বিভিন্ন এলাকায় কৃষকের সারপ্রাপ্তি নিয়ে ভোগান্তি ও অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে। কোথাও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সার নিতে হচ্ছে, আবার কোথাও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে সার সরবরাহ, মজুত, পরিবহন ও বিতরণ কার্যক্রম আরও নিবিড়ভাবে তদারকিতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।
সার ব্যবস্থাপনায় মাঠপর্যায়ের সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত ও সমাধানের লক্ষ্যে কৃষি মন্ত্রণালয় ‘সার ব্যবস্থাপনা কন্ট্রোল রুম’ চালু করেছে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সার সরবরাহ, মজুত, পরিবহন, বিতরণ ও খুচরা বিক্রয় কার্যক্রম সার্বক্ষণিক তদারকির পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে উদ্ভূত সমস্যা দ্রুত সমাধান করাই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
কৃত্রিম সংকটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান
কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, দেশে সার নিয়ে সামগ্রিকভাবে ঘাটতি নেই। গত ২ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদও দেশে পর্যাপ্ত সার মজুত থাকার কথা জানান। একই সঙ্গে তিনি একটি সংগঠিত চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন।
এর আগে কৃষি সচিব মো. সেলিম খান জানিয়েছিলেন, দেশে বর্তমানে সারের সংকট নেই এবং পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। পাশাপাশি সার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থানের কথাও জানানো হয়।
গুদামে মজুত, কৃষকের হাতে পৌঁছানোই বড় প্রশ্ন
তবে বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও কিছু এলাকায় কৃষকেরা চাহিদামতো সার পাচ্ছেন না। কোথাও দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে, আবার কোথাও বেশি দামে সার কেনার অভিযোগ রয়েছে। ফলে জাতীয় পর্যায়ে মোট মজুতের পাশাপাশি সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় সার পৌঁছানো এবং ন্যায্য দামে বিক্রি নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষ করে ডিএপি সারের সরবরাহ নিয়ে কিছুটা চাপের কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। একই সঙ্গে ডিলার পর্যায়ে বিতরণ ব্যবস্থাপনা এবং নতুন ডিলার নীতি বাস্তবায়নের বিষয়টিও সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলছে বলে সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ
কৃষি মন্ত্রণালয়ের নতুন কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সার সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থার ওপর নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে কোনো সমস্যা, অনিয়ম, কৃত্রিম সংকট বা অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কৃষকের জন্য শুধু গুদামে সার মজুত থাকা যথেষ্ট নয়; চাষের প্রয়োজনীয় সময়ে নির্ধারিত মূল্যে সহজে সার পাওয়াই সবচেয়ে জরুরি।
কৃষি উৎপাদনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক
সারের সরবরাহ ব্যবস্থায় সাময়িক বিঘ্নও কৃষকের উৎপাদন পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে আমনসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের উৎপাদনে প্রয়োজনীয় সময়ে সার নিশ্চিত করা খাদ্য উৎপাদন ও কৃষকের আয়—দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ।
এ কারণে সার ব্যবস্থাপনায় মন্ত্রণালয়ের নতুন তদারকি ব্যবস্থা মাঠপর্যায়ে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হলে অনিয়ম, মজুতদারি ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ কমানোর পাশাপাশি কৃষকের কাছে সারের সহজলভ্যতা বাড়বে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
টাইম বাংলা নিউজ মনে করে, সার নিয়ে গুদামভিত্তিক মজুতের হিসাবের পাশাপাশি কৃষকের হাতে বাস্তবে কতটা সার পৌঁছাচ্ছে, সেটিই হওয়া উচিত নজরদারির প্রধান সূচক।
মতামত দিন